অটিজম মোকাবেলায় সংগীত প্রশিক্ষণ কার্যকর হতে পারে

অটিজম মোকাবেলায় সংগীত প্রশিক্ষণ কার্যকর হতে পারে ।

 

উদ্বিগ্ন কিংবা বিক্ষিপ্ত মানসিক অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সংগীতের কার্যকারিতা সবারই জানা। তাছাড়া শিশুদের মানসিক বিকাশে সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি শিশুদের মনোজাগতিক উন্নয়নে সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে এক গবেষণায় আরো নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণাটি জানাচ্ছে, সংগীতশিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের ফাইবার কানেকশন কার্যকরভাবে বৃদ্ধি পায়, যা শিশুদের অটিজম ও অ্যাটেনশন হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার (এডিএইচডি) মোকাবেলায় দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। খবর সায়েন্স ডেইলি।

এ বিষয়ে গবেষণাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষক মেক্সিকো সিটির ইনফ্যানতিল দে মেক্সিকো ফেদেরিকো গোমেজ হাসপাতালের প্রধান রেডিওলজিস্ট পিলার দায়েস সুয়ারেজ বলেন, ‘এ গবেষণার মধ্য দিয়ে আমরা সংগীতশিক্ষার সময় শিশুদের মস্তিষ্কের এ নতুন ফাইবারগুলোর সংযোগস্থল এবং এ সময় তাদের মস্তিষ্কের পরিবর্তন বিষয়ে আরো স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি।’ আর এতে অটিজম ও এডিএইচডি মোকাবেলায় সংগীতের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

গবেষকরা পাঁচ-ছয় বছর বয়সী ২৩ জন সুস্থ শিশুকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের সবাই ছিল ডানহাতি। অতীতে তাদের কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যা ছিল না। একই সঙ্গে শিশুদের কারোরই কোনো ধরনের শৈল্পিক প্রশিক্ষণও ছিল না।

5

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের নয় মাস সংগীত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের আগে ও পরে তাদের মস্তিষ্কের পরিবর্তনকে বুঝতে ব্যবহার করা হয় ডিফিউশন টেনসর ইমেজিং (ডিটিআই) পদ্ধতি। ডিটিআই হলো এমন একটি উন্নত এমআরই পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনও শনাক্ত করা সম্ভব। ডিটিআইয়ের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের অ্যাক্সনে এক্সট্রা সেলুলার ওয়াটার মলিকিউলসের গতিবিধি পরিমাপ করা হয়। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক হোয়াইট ম্যাটারে এ এক্সট্রা সেলুলার ওয়াটার মলিকিউলস অভিন্ন শৃঙ্খল আচরণ করে। কিন্তু যখন এ ওয়াটার মলিকিউলগুলো এলোমেলো গতিবিধি প্রদর্শন করে, তখন ধরে নিতে হবে, মস্তিষ্কে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা ডিজর্ডার রয়েছে।

সংগীত শিক্ষণের পর দেখা যায়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে এক্সট্রা সেলুলার ওয়াটার মলিকিউলসের গতিবিধির যথেষ্ট সদর্থক পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষভাবে মাইনর ফোরসেপসে এ পরিবর্তন হয়েছে সবচেয়ে বেশি, যা খুবই আশাব্যঞ্জক।

গবেষণাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিশুকালে সংগীত শুনলে তা নিউরাল নেটওয়ার্ককে আরো কার্যকর করে মস্তিষ্কের বৃদ্ধিতে চমৎকার ভূমিকা রাখে। আর এ গবেষণালব্ধ ফল অটিজম ও এডিএইচডির মতো ডিজঅর্ডার মোকাবেলায় গ্রহণীয় পদক্ষেপ বিষয়ে সাহায্য করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here