অস্কারের ইতিহাসে অসাধারণ, স্ক্যান্ডেলময় ও অবিস্মরণীয় যতো ঘটনা

0
2475
প্রতি বারই অস্কার প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঘটে নানা রকম মজার ঘটনা ও দুর্ঘটনা

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড যা সবার কাছে অস্কার নামেই সুপরিচিত, ১৯২৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, সঙ্গীত পরিচালক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার সারাজীবনের আরাধ্য একটি অ্যাওয়ার্ড। বছরজুড়ে অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাশীরা তো বটেই এমনকি দর্শকরাও এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। প্রতি বারই অস্কার প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঘটে নানা রকম মজার ঘটনা ও দুর্ঘটনা। এমনি ৫টি ঘটনা নিয়ে সাজান হয়েছে আমাদের আজকের আয়োজন।

অস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন ডুডলি নিকোলস!

অস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন ডুডলি নিকোলস
অস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন ডুডলি নিকোলস

ষড়যন্ত্রের ইতিহাস অস্কারের শুরুর দিকেও বিরাজমান ছিল। পঞ্চম অস্কার অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে হিসেবে দ্য ইনফরমার মুভিতে সেরা স্ক্রিন রাইটার হিসেবে অস্কার পান ডুডলি নিকোলস। তখন হলিউডে স্ক্রিন রাইটারদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন চলছিল, যার অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন ডুডলি। অন্যান্য স্ক্রিন রাইটারদেরও তিনি অনুষ্ঠান বর্জনের আমন্ত্রণ জানান। বাকিরা কেউ তার সাথে এগিয়ে না আসলে রাগে-দুঃখে সে বছর অ্যাওয়ার্ড সহ পুরো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানই প্রত্যাখ্যান করেন ডুডলি।

 

 

কো হোস্ট যখন ডোনাল্ড ডাক

কো হোস্ট যখন ডোনাল্ড ডাক
কো হোস্ট যখন ডোনাল্ড ডাক

১৯৫৮ সালের অস্কারে বড় একটি চমক ছিল কো হোস্ট হিসেবে ডোনাল্ড ডাকের উপস্তিতি। সে বছরের অস্কার অনুষ্ঠানে প্রধান হোস্ট ছিলেন বব হোপ, জ্যাক লেমন, ডেভিড নিভেন, রোজলিন্ড রাসেল এবং জেমস স্টুয়ার্ট। অনুষ্ঠানের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য সবাইকে আনন্দ দিতে মঞ্চে উপনীত হয় ডোনাল্ড ডাক। বলাই বাহুল্য, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তাকে ট্রাউজার পরে আসতে হয়।

 

গসিপ কুইন এলিজাবেথ টেইলর জিতলেন অস্কার!

গসিপ কুইন এলিজাবেথ টেইলর জিতলেন অস্কার
গসিপ কুইন এলিজাবেথ টেইলর জিতলেন অস্কার

হলিউডের যাবতীয় গসিপের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করার দারুণ ক্ষমতা ছিল এলিজাবেথ টেইলরের। এডি ফিশারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন এই অভিনেত্রী। কেননা ফিশার ছিলেন আমেরিকার সুইট হার্ট খ্যাত ডেবি রোনাল্ডসের স্বামী! একদিকে যখন চলছে এই স্ক্যান্ডাল ঠিক সেই সময় বাটারফিল্ড ৮ চলচ্চিত্রে পতিতার চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন তিনি। দুঃখের বিষয় হল তখন তিনি ভুগছিলেন নিউমোনিয়ার প্রকোপে। অসুস্থতা, স্ক্যান্ডেল ও সুঅভিনয় সব কিছুকে পুঁজি করে নিউমোনিয়ায় কাঁপতে কাঁপতে মঞ্চ থেকে সেরা অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে অস্কার বাগিয়ে নেন এলিজাবেথ।

 

হেয়ারস্টাইলে মঞ্চ কাঁপালেন চার

হেয়ারস্টাইলে মঞ্চ কাঁপালেন চার
হেয়ারস্টাইলে মঞ্চ কাঁপালেন চার

চার খুব ভালোভাবেই জানতেন কিভাবে সবার নজর কাড়তে হয়। মাস্ক চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে ১৯৮৬ সালের অস্কার অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম দাবীদার ছিলেন তিনি। তবে কিভাবে যেন তাকে আমলেই নেননি জুরি বোর্ড। তার ভুল করবে বলে কি চুপ করে বসে থাকবেন চার? মোটেই না! সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে চুলগুলো একদম খাড়া করে গালিচা থেকে মঞ্চ পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজ করেন তিনি। তাকে হয়তো কেউ ফ্যাশন আইকন বলবে না, তবে শেড আইকন হওয়াটাই বা মন্দ কিসে?

মঞ্চে এক হাতে পুশ আপ করলেন জ্যাক পেলেন্স!

মঞ্চে এক হাতে পুশ আপ করলেন জ্যাক পেলেন্স
মঞ্চে এক হাতে পুশ আপ করলেন জ্যাক পেলেন্স

১৯৯২ সালে জ্যাক পেলেন্স শ্রেষ্ঠ সহ অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতে নেন তার সিটি স্লিকারস মুভির জন্য। এই মুভিতে বয়োজ্যেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে দেখা যায় তাকে। তবে এই বয়সী অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে নির্মাতারা খুব একটা আগ্রহী হয়না বলে এক ধরণের ক্ষোভ ছিল জ্যাকের মনে। অস্কার পাওয়ার পর তাই সবাইকে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে মঞ্চে এক হাতে পুশ আপ দেয়া শুরু করেন তিনি।

 

 

তথ্যসূত্রঃ এলি ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here