আকুপাংচারে কমবে হাইপারটেনশন

আকুপাংচার

আকুপাংচার নামে চীনা বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণায় অনেক রোগ নিরাময়েই এ চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা, মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা, বিষাদগ্রস্ততা,অনিদ্রাজনিত রোগসহ বহু ব্যাধি। সম্প্রতি এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, উচ্চরক্তচাপ কমাতেও প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিটি কার্যকর।খবর হেলথনিউজলাইন।

চীনের প্রাচীন এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে শরীরের বিভিন্ন অংশে সূক্ষ্ম সুই ফোটানো হয়। সম্প্রতি হাইপারটেনশন নিরাময়ে এ চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিরূপণে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিনের (ইউসিআই) একদল গবেষক কাজ করেন। তারা ইঁদুরের ওপর একটি পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, ইলেকট্র্রো আকুপাংচারের (ইএ) মাধ্যমে হাইপারটেনশন নিরাময় সম্ভব। ইএ হচ্ছে আকুপাংচারের এমন এক পদ্ধতি, যেখানে সুইয়ের মাধ্যমে অল্পমাত্রার বিদ্যুত্ চালনা করা হয়। সঞ্চালিত এ বিদ্যুতের কারণে মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে এক ধরনের প্রাকৃতিক উত্তেজক নিঃসৃত হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের ওই অঞ্চলে তখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়, যার ফলে নেমে আসে রক্তচাপের মাত্রা। আর বারবার এ পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণে বেশ সুফল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

acupuntureblog

গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউসিআইয়ের সুসান স্যামুয়েল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের গবেষক ঝি-লিং গুও। তারা পরীক্ষাধীন ইঁদুরগুলোকে সপ্তাহে দুবার করে টানা পাঁচ সপ্তাহ ইএ চিকিৎসা প্রদান করেন। এ সম্পর্কিত গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি জার্নাল অব সায়েন্টিফিক রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে।

গবেষকরা জানান, ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় হাইপারটেনশন বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা অন্তত তিনদিন স্থায়ী হয়। এ স্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে এনকেফালিনস। প্রসঙ্গত, এনকেফালিনসকে শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক বলা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here