আনন্দের সংবাদ পেপালের বাংলাদেশে আগমন!

দেশে অনলাইন পেমেন্টসেবা পেপালের কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অনুমোদন দিয়েছে গতকালই।

আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সারসহ আন্তর্জাতিক লেনদেনকারীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিগগিরই দেশে চালু হচ্ছে অর্থ পরিশোধের জনপ্রিয় অনলাইন মাধ্যম পেপাল। অর্থ্যাৎ ইন্টারনেট থেকে আয় করা টাকা বিনা বাঁধায় ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসার সার্ভিস পেপাল অবশেষে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশে অনলাইন পেমেন্টসেবা পেপালের কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অনুমোদন দিয়েছে গতকালই। এর মাধ্যমে দেশে পেপালের কার্যক্রম শুরু নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হলো। অনুমোদনের ফলে মাসখানেকের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পেপালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি শাখা থেকে গতকাল পেপাল চালুর এ অনুমোদন দেয়া হয়। সেবাটির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি দিক চূড়ান্ত করবে সোনালী ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। সফটওয়্যারের উন্নয়ন ও সমন্বয়ের জন্য পেপালের সঙ্গে কাজ করবে ব্যাংকটি। এর পর অর্থ লেনদেনের জন্য একটি অ্যাকাউন্ট খুলবে সোনালী ব্যাংক। এসব প্রক্রিয়া শেষেই চালু হবে সেবাটি। সব মিলে এক মাসের মধ্যেই দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পেপালের সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে এরই মধ্যে পেপালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তিও সই হয়েছে। পাশাপাশি পেপালও বাংলাদেশে কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখেছে। কার্যক্রম শুরুর জন্য শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন রেমিট্যান্স শাখার অনুমোদন পাওয়ার পর সেবাটি চালুতে এখন আর কোনো বাধা নেই।

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, বাংলাদেশে পেপালের সেবা চালুর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বৈঠকে সরকারের নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে দেশে শিগগিরই সেবাটি চালু করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাপী পেপালের অনলাইন পেমেন্টসেবা এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় সহজেই দেশে নিয়ে আসা যাবে। এছাড়া অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে পেপাল চালুর দাবি রয়েছে দেশে। এছাড়া দেশে ই-কমার্স খাতের সম্প্রসারণ আরো দ্রুততর হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, পেপাল হোল্ডিংস ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময়ের পর বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। বর্তমানে ৩০টির বেশি মুদ্রায় পেপালের অনলাইন পেমেন্টসেবা পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্রঃ বণিকবার্তা

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here