আপনার রক্তাল্পতা নয় তো?

দিন দিন বেপরোয়া জীবনযাপনের বলি হচ্ছি আমরা। নানা রোগে জর্জরিত হয়ে পড়ছি। তার মধ্যে অন্যতম হল রক্তাল্পতা অর্থাৎ রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার অভাব। রক্তাল্পতার একটা বড় কারণ হল রক্তে আয়রনের অভাব। যার ফলে দেহকোষে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। ত্বক বিবর্ণ হয়ে যায়, চুল ঝরতে শুরু করে এবং আপনি ভীষণই দুর্বল হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। আমরা বেশির ভাগই লক্ষণগুলোর সঙ্গে পরিচিত না হওয়ায় তাতে খুব একটা আমল দিই না। পরে সেগুলিই মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনিও রক্তাল্পতার শিকার কি না তা জেনে নিয়ে আজ থেকেই সতর্ক হয়ে যান। কী ভাবে জানবেন আপনি রক্তাল্পতার শিকার কি না?

* মানসিক অস্থিরতা: কাজে অমনযোগী হয়ে পড়া, খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়া হল রক্তাল্পতার প্রাথমিক লক্ষণ।

* বিবর্ণ: চোখের নীচের পাতা টেনে ধরলে দেখবেন জায়গাটি গোলাপী রঙের। আপনার যদি তা হালকা গোলাপী থেকে সাদা রঙের হয়ে যায়, তা হলে বুঝবেন আপনার রক্তে আয়রনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম।

* দুর্বলতা: সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গেলে কি আপনি হাঁফিয়ে ওঠেন? অল্প কায়িক পরিশ্রমেও কি ঘেমে স্নান করে যান?

তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, আপনার রক্তাল্পতা বা রক্তে আয়রনের পরিমাণ কম হতে পারে।

*লোভ: বরফ বা মাটি দেখলেই কি লোভ হয়? ইচ্ছা করে এক থাবড়া মাটি নিয়ে মুখে পুড়ে দিতে?শুনতে হাস্যকর হলেও, এই লক্ষণগুলো মোটেই হাসির নয়। আয়রনের অভাব হলেও এমন লক্ষণ দেখা যায়।

* ঠান্ডা হাত-পা: এমন অনেকেই রয়েছেন গ্রীষ্মকালেও যাঁদের হাত এবং পায়ের পাতা অত্যন্ত ঠান্ডা হয়ে থাকে। তবে শুধুমাত্র আয়রনের অভাবজনিত কারণেই নয়, থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষম হ্রাস পেলেও এমনটা হয়।

* চুল: রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাবে চুল অত্যধিক শুষ্ক এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়। চুলের রং কালো থেকে বাদামি হয়ে যায়।

চুল স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি ঝরতে শুরু করে। এরকম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

*নখ: নখের গঠনেও আয়রন অপরিহার্য। এই উপাদানের অভাবে নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়।

* জিভ: মাটি দেখে জিভে জল আসার মতোই জিভ ফুলে যাওয়া রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাবের বড় লক্ষণ।

* মাথাব্যাথা: ঋতুস্রাবের সময় মাথাব্যাথা হলে রক্তাল্পতা তার কারণ হতে পারে। সম্প্রতি এক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এ তথ্য।* অ্যালকোহল: অত্যধিক পরিমাণে মদ্যপান ভিটামিন বি-১২ এর কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। বেড়ে যায় রক্তাল্পতার সম্ভাবনা।এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here