আমেনা গারিব ফাকিম অনেক কিছুতেই প্রথম

যোগ্যতার মাপকাঠি বিচারে ব্যক্তির ধর্ম বা লিঙ্গ কখনই অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে না। তবু দিন দিন যেখানে পুরো পৃথিবীবাসীর চিন্তাচেতনায় সাম্প্রদায়িকতা নতুন করে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে, ঠিক সে সময় মাত্র ১৮ শতাংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ পেলেন সে ধর্মেরই একজন মানুষ। আর মানুষটি শুধু যে একজন মুসলিম, তাও নয়। তার আরেক পরিচয় তিনি একজন নারী। মুসলিম এ নারী রাষ্ট্র পরিচালকের নাম আমেনা গারিব ফাকিম।

১৯৫৯ সালে জন্ম নেয়া এ নারী মূলত একজন জীববৈচিত্র্য-বিষয়ক বিজ্ঞানী। জীববৈচিত্র্যের ওপর তার লেখা ২৮টি বই বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই হিসেবে ব্যবহার হয়। দেশটির বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইডিপি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত হন।

ameenah-gurib-fakim-680x365

মরিশাসের সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক হওয়ার পরও দুই সন্তানের জননী আমেনা এমন আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তার মা-বাবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আমেনাকে তাদের ছেলেসন্তানদের সঙ্গে সমানতালে শিক্ষিত করে তুলেছেন। হয়তো মা-বাবার এমন উদ্দেশ্যের কারণেই আজ আমেনা গারিব ফাকিম এমন অবস্থানে পৌঁছেছেন। আমেনা ফাকিম শুধু যে দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট, বিষয়টি তা নয়। এই প্রথম হওয়ার ঝুলিতে তার আরো অর্জন আছে। যেমন— দেশটির ইউনিভার্সিটি অব মরিশাসের প্রথম নারী অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাছাড়া বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশের তিনজন নারী প্রেসিডেন্টের একজন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার আগে আমেনা ফাকিম তার নিজ কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের সফলতা প্রদর্শনের পাশাপাশি যে কাজটির জন্য বহুল প্রশংসিত হয়েছেন, সেটি হলো বিভিন্ন ঔষধি গাছগাছালি দিয়ে বিকল্প ওষুধের আবিষ্কার। তাছাড়া ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্যান-আফ্রিকান অ্যাসোসিয়েশন অব মেডিসিন্যাল প্লান্টসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যা।

তবে এসবের বাইরে বর্তমানে তিনি দেশ পরিচালনাতেই বেশ মনোযোগী হতে চাইছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার দিন তিনি বলেছিলেন, আমার কাজ হলো রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সংবিধান অনুসারে দেশ পরিচালনা করা। পাশাপাশি দেশটির প্যারা মিলিশিয়া বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনেও বেশ মনোযোগী হতে চাই।

উল্লেখ্য, ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস মূলত পর্যটনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর পাশাপাশি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here