আলোকিত করুন আপনার আশেপাশের প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন।

আলোকিত করুন আপনার আশেপাশের প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন।

আমাদের আশপাশে একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে যে অনেক পরিবারেই মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে৷ যাদের আমরা ঘরের কোণে আটকে রাখি। তাদের মনের কথাগুলো বুঝতে চাই না। তাদের মধ্যেও যে ভিন্ন রকমের যোগ্যতা আছে অনেক সময় সেটাও আমরা বুঝতে পারি না।

মানসিক প্রতিবন্ধীত্বের অর্থ হলো, বয়স অনুপাতে শিশুটির যে বুদ্ধি থাকার কথা ছিল তা থাকে কম মাত্রায়৷ মানসিক প্রতিবন্ধীদের মানসিক গঠন, মস্তিষ্কের গড়ন, মস্তিষ্ক বা ব্রেনের কাজ ইত্যাদি ধীর গতিতে হয়৷ অন্য সাধারণ দশটি শিশু থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের কথাবর্তা, চলাফেরা, শারীরিক গঠন, আচার-আচরণ ও ব্যবহার দ্বারা সহজেই পৃথক করা যায়৷ মানসিক প্রতিবন্ধী অল্প থেকে মাঝারি বা তীব্র মাত্রায় হতে পারে৷ মানসিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে পরিবারের চিন্তার শেষ নেই৷

প্রতিবন্ধী শিশুদের বন্ধু তিনি, শিক্ষক তিনি
প্রতিবন্ধী শিশুদের বন্ধু তিনি, শিক্ষক তিনি

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানসিকতা বদলাচ্ছে। এখন শহরাঞ্চলে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ স্কুলের দেখা মেলে। সেখানে হাসি-আনন্দের মাধ্যমে এসব বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা দেয়া হয়। এই শিশুদের বাড়তি যত্নের মাধ্যমে ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটার সুযোগ করে দিতে হয়। মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে হয়।

এটা বড় রকমের একটা চ্যালেঞ্জও বটে। আর এ চ্যালেঞ্জটা হাসি-মুখে গ্রহণ করেছেন ক্রিস উলমার নামের এক তরুণ শিক্ষক। সফলও হয়েছেন চ্যালেঞ্জে। তাইতো প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষক ও প্রিয় বন্ধু হিসেবে বিশ্বজোড়া তার পরিচিতি।

তবে ক্রিসের আবাস এদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে। সেখানে মেইনস্প্রিং একাডেমি নামে তার একটা স্কুল আছে। তিন বছর ধরে তিনি সফলতার সঙ্গে স্কুলটা চালাচ্ছেন। মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুরা আসে ক্রিসের স্কুলে পড়তে। আসে অটিস্টিক শিশুরাও।

তার পড়ানোর পদ্ধতিটাও ভিন্ন। ক্রিস মূলত এসব শিশুর সঙ্গে গল্প করেন, খেলাধুলা করেন, মজা করে তাদের মনের ভয় দূর করার চেষ্টা করেন। তাদের মনে নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করেন। বের করে আনেন ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভা।

আর এ জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে, অভিভাবকদের অনুমতি সাপেক্ষে তা পোস্ট করেন ফেসবুকে। এর মধ্য দিয়ে সেই শিশুটি যেমন ভয় ও দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে, তেমনি এটা দেখে লাভবান হন আরো হাজারো প্রতিবন্ধী শিশু।

তার ভাষায়, ‘আমার শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই অসাধারণ। তারা মজা করতে পছন্দ করে। শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগ ও চেষ্টা অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছেন, যারা এসব শিশুর মনের ভাবনাগুলো ঠিকমত বুঝতে পারেন না। তাই তাদের গুরুত্ব দেন না। তাই আমি এসব মানুষকে তাদের ভুলটা ধরিয়ে দিতে এ কাজ শুরু করেছিলাম। পরে কাজটাকে ভালোবেসে ফেলেছি।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি
প্রতিবন্ধী শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি

ফেসবুকে ‘স্পেশাল বুকস বাই স্পেশাল কিডস’ নামে তার একটি পেজ আছে। এ পেজে তিনি সাক্ষাৎকারগুলো পোস্ট করেন। এর মধ্য দিয়ে মানুষের আচরণের মদ্যে যে বৈচিত্র্য আছে, সে বিষয়ে সমাজকে সচেতন করতে উদ্যোগী হন। ইতিমধ্যে এ পেজের ফলোয়ারের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। আপনি চাইলে এ পেজের মাধ্যমে তার এ মহান উদ্যোগে অর্থ সহায়তাও করতে পারেন।

ক্রিসও বিশ্বব্যাপী ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের কথা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। আলোকিত করছেন নিজেকে, সাক্ষাৎকার দাতাসহ হাজারো মানুষকে। তাই চাইলে বাংলাদেশে বসেও ক্রিসের এসব ভিডিও আপনি কাজে লাগাতে পারেন। আলোকিত করতে পারেন আপনার আশেপাশের কোনো প্রতিবন্ধী শিশুর জীবন।

অপ্রিয় হলেও সত্য, মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের মা-বাবার অবগত হওয়া প্রয়োজন যে, পৃথিবীতে কোথাও এখনো কোন ওষুধ বা চিকিত্সা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি, যা দ্বারা এই মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বুদ্ধি বাড়ানো যেতে পারে৷ তবে আশ্বস্ত হওয়ার মতো সংবাদ হলো, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক উন্নতি করা সম্ভব৷

সূত্রঃ বণিক বার্তা / বিবিসি অবলম্বনে

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here