ঈদের বাজারে গজ কাপড়ের খোঁজ-খবর

ঈদের বাজারে গজ কাপড়ের খোঁজ-খবর
রমজান মাস শুরু হতে না হতেই ঢাকার ঈদের বাজারগুলোয় জমে উঠেছে গজ কাপড়ের কেনাবেচা।

নীলিমা দোলা   

রমজান মাস শুরু হতে না হতেই ঢাকার সব মার্কেটগুলোয় ইদের আমেজ লেগে গেছে।  চলছে ঈদের কাপড় কেনার ধুম। যারা তৈরি পোশাক কিনবেন তাদের হাতে তো রয়েসয়ে কেনার সময় আছে। কিন্তু যারা তৈরি পোশাকে সচ্ছন্দ নন কিংবা একটু ব্যতিক্রমী পোশাক পরতে পছন্দ করেন, তাদের কেনাকাটার শুরু এখনই। কেননা গজ কাপড় কেনার আদর্শ সময় এটা।  মার্কেট ঘুরে পছন্দের কাপড় আর তার সঙ্গে মিলিয়ে লেইস, পাথর কিনে নিজেই যখন ডিজাইনার তখন একটু না ভাবলে হয়? পরিবর্তনশীল ফ্যাশনের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে কেমন চলছে এবারের ঈদের কাপড়, কেমন তার দরদাম আর কোথায় পাবেন পছন্দের গজ কাপড়, জেনে নিন তার বিস্তারিত।

নতুন ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন পোশাকটাও একটু আলাদা হওয়া চাই-ই। তাই ঈদের অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি চলতে থাকে ঈদের পোশাকভাবনা নিয়ে। সবার চেয়ে আলাদা আর আকর্ষণীয় পোশাকটিই যেন নিজের সংগ্রহে থাকে- এমন পরিকল্পনা করেন সবাই। তাই কাপড়  কেনার সময় নতুন ফ্যাশন বা ডিজাইন সম্পর্কে জেনে রাখুন।  

এবারের ঈদ পড়ছে বৃষ্টির সময়ে। সঙ্গে গরমের কথাও মনে রাখতে হবে। এ জন্য এ ঈদে কাপড় বাছাইয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে আরামের বিষয়টি। চলছে সুতি, অরগ্যান্ডি, এন্ডি কটন ও এন্ডি সিল্কের কাপড়গুলো। হালফ্যাশনের লিলেন কাপড়ের বিক্রিও বেশ ভালো। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের গজ কাপড় এসেছে বাজারে। এগুলোর মধ্যে থাকছে এমব্রয়ডারি, এপ্লিকের কাজ। সঙ্গে থাকছে ম্যাচিং ওড়না ও সালোয়ারের কাপড়।

রঙ্গিন ঈদ আবহাওয়ায় এবারের ঈদের কাপড়ে এগিয়ে আছে হালকা রঙের ব্যবহার। তবে ঈদ মানে তো উৎসব। তাই উৎসবের আমেজ আনতে ব্যবহৃত হচ্ছে গাঢ় রঙ। কোনো কোনো কাপড়ে পাবেন একই রঙয়ের হালকা-গাঢ় শেডের ব্যবহার। উজ্জ্বল হলেও উৎসবের রঙ হিসেবে লাল, কমলা, সবুজ, বেগুনি, হলুদ রঙগুলোর চাহিদাও ব্যাপক। বাদ যাচ্ছে না বর্ষার রঙ নীল ও তার বিভিন্ন শেড। এক রঙয়ের পোশাক পরার চল এখন আর নেই। তাই ক্রেতারা পছন্দও করছেন এক পোশাকে বিভিন্ন রঙয়ের ব্যবহার। কামিজের কাপড়ের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে কিনছেন সালোয়ার ও ওড়না।

লেইস পোশাককে আকর্ষণীয় করতে চলছে নানা ধরনের লেইসের ব্যবহার। জামদানি ও কাতানের লেইস বিক্রি হচ্ছে একটু জমকালো কামিজের ক্ষেত্রে। ব্যবহৃত লেইসগুলো খানিকটা চওড়া আকৃতির। সালোয়ার ও ওড়নার রংয়ের সঙ্গে মিল রেখে একই রঙয়ের লেইস ব্যবহার করা এবারের ঈদের ট্রেন্ড। অন্যদের থেকে আলাদা হতে একরঙা সার্টিন কাপড়ের চল তো আছেই।

কাপড়ের সন্ধানে গজ কাপড়ের সবচেয়ে বড় বাজার ঢাকার গাউসিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, ইসলামপুর, বনানী বাজার ও মিরপুর। এসব জায়গায় গেলেই পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের গজ কাপড়। তবে ঈদ উপলক্ষে আপনার এলাকার আশপাশে স্থানীয় মার্কেটগুলোয়ও খোঁজ নিন।

বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদে গজ কাপড়ের দাম অন্যবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। সাধারণ লিলেন কাপড়ের দাম শুরু হচ্ছে গজপ্রতি ২৫০ টাকা থেকে। বিভিন্ন নকশা করাকাপড়ের দাম গজপ্রতি ৫৫০-১৮০০ টাকা। এন্ডি কটন ও এন্ডি সিল্কের কাপড় পাবেন ৩৫০-৫৫০ টাকার মধ্যে। তবে কাপড়ে কাজ থাকলে গজপ্রতি দাম পড়বে ৭৫০-৯৫০ টাকা পর্যন্ত। কাপড়ের বুনন ও নকশাভেদে দামে তারতম্য থাকছে। মনে রাখবেন, গজ কাপড় কেনার সময় দরদামে আপনাকে তুখোড় হতে হবে।

দর্জিবাড়ি ঘুরে জানা যায়, এবারের ঈদে লম্বা কামিজের পরিবর্তে চলবে মাঝারি কাটিংয়ের কামিজ।  যার ঝুল থাকবে হাঁটুর মাঝ বরাবর। গরম হলেও হাইনেক বা উঁচু কলার দেয়া গলাই এ সময়ের ফ্যাশন। কামিজের হাতা থাকছে থ্রি-কোয়ার্টারই। হাতায় নেট, মসলিন, জর্জেট ও শিফন কাপড় ব্যবহার করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। সালোয়ারের ক্ষেত্রে মেয়েরা একটু চাপা আকৃতির সালোয়ারই বেশি পছন্দ করছেন। এর সঙ্গে চলছে ধুতি ও চুড়িদার। রোজার আগে কাপড় ও ডিজাইন ভেদে এক সেট সালোয়ার কামিজ বানাতে মজুরি পড়বে ১৫০-২০০ টাকা। রোজা শুরু হয়ে গেলে এই রেট বেড়ে হবে ২৫০ টাকা। পনের রোজার পর সেটপ্রতি গুনতে হতে পারে ৩৫০।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here