এই রোদ এই বৃষ্টিতে নিজের যত্ন!

'এই আবহাওয়ায় ত্বক ভালো রাখতে ও চুলের জন্যও দরকার একটু বাড়তি যত্ন।

এই সময়ের আবহাওয়ায় কি আর বিশ্বাস আছে! এই রোদ, এই বৃষ্টি। সকালে গুমোট গরম তো বিকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে কাকভেজা। নিজের চুল ও ত্বকের তাই দরকার একটু আলাদা যত্ন। রূপবিশেষজ্ঞ শাহানা আনাম বললেন, ‘এই আবহাওয়ায় নিজেকে ভালো রাখতে অল্প কিছু বিষয় মেনে চলতেই হবে। কারণ গুমোট আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলে ময়লা জমে,ত্বক ও চুল হয়ে পড়ে চিটচিটে।’

এই সময়ে চুল ও ত্বকের যত্নে ঝটপট সমাধান পেতে পারেন।

ত্বকের যত্ন

বৃষ্টির পানিতে ভিজলে এরপর মুখটা পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। কারণ বেশি বৃষ্টির পানি লেগে ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে। মুখ পরিষ্কারের জন্য ক্লেনজিং লোশন ব্যবহার করা ভালো। তবে মুখ ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজিং লোশন ব্যবহার করতে হবে। অনেকে মনে করেন সানস্ক্রিন শুধু রোদের জন্য। এটা ভুল ধারণা। মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। এতে ত্বক ভালো থাকে।

মাসে অন্তত দুবার ত্বকের মরা কোষ তুলে ফেলা উচিত। এজন্য স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের যত্নে তিনি কিছু ভেষজ স্ক্রাব তৈরির কিছু পরামর্শ দিয়েছেন_

প্রথম থেকে ত্বকের যত্ন নেয়া জরুরি। আর এর জন্য প্যাক ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের ধরন অনুযায়ী।
প্রথম থেকে ত্বকের যত্ন নেয়া জরুরি। আর এর জন্য প্যাক ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের ধরন অনুযায়ী।

স্বাভাবিক ত্বক

চালের গুঁড়া, গাজরের রস, দুধ ও মধু এবং সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জলপাইয়ের তেল মিশিয়ে লাগাতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বক

চালের গুঁড়া, শসার রসের সঙ্গে ১/২ ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এই প্যাকগুলো লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

ফেসওয়াশের বদলে যদি কেউ স্ক্রাব ব্যবহার করেন, তাতে সমস্যা নেই। স্ক্রাবেও ভালো ফল পাবেন। ত্বক সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি খেতে হবে। অনেক ছেলে হাতে ব্রেসলেট বা সুতা পরেন। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেলে তা শুকিয়ে নিন। নাহলে ত্বকে ঘা হয়ে যেতে পারে।

এ সময়ে ত্বকে ফুসকুড়ির মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রথম থেকে ত্বকের যত্ন নেয়া জরুরি। আর এর জন্য প্যাক ব্যবহার করা উচিত। ত্বকের ধরন অনুযায়ী।

প্যাক-১ : টমেটোর রস, মুলতানি মাটি, টকদই, ভালো করে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে।

প্যাক-২ : গাঁদা ফুলের পেস্ট, টকদই, লাল আটা এবং ভিটামিন ই ভালো করে মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

প্যাক-৩ : শসার রস, গাজরের রস, দুধ, মধু এবং চালের গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ভালো উপকার পাবেন। এটা সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী।

চুলের যত্নে

এই সময় চুলটা একটু ছোট ছাঁটের হলেই সহজে যত্ন নিতে পারবেন। আবহাওয়ায় এখন আর্দ্রতা বেশি। তাই চুল সহজে তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। চুল তৈলাক্ত হলে পরিষ্কার করে নিন।

নিয়মিত চুল পরিষ্কার করতে চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
নিয়মিত চুল পরিষ্কার করতে চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

ময়লা ও ঘাম মিশে চুল আঠালো হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত চুল পরিষ্কার করতে চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। যারা মাঝেমধ্যে চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, তারা এর ব্যবহার বাড়ান। বাইরে গেলে প্রতিদিনই চুলে শ্যাম্পু করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শ্যাম্পুর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে হালকা করে নিন।
মাথায় ময়লা জমে চুলকানি হতে পারে। তা ছাড়া চুলও উজ্জ্বলতা হারাতে পারে। তাই ময়লা পরিষ্কার করতে এক মগ পানিতে এক চা-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে চুল শ্যাম্পু করার পর লাগাতে পারেন। এতে মাথার চুলকানি সেরে যাবে। অনেকে মাঝেমধ্যে চুলের যত্নে রাতে তেল লাগান। এখন সেটা গোসলের এক ঘণ্টা আগেই লাগাতে পারেন। এরপর চুল ধুয়ে নিন।
নারকেল তেল ছাড়াও তিল বা জলপাই তেল চুলের জন্য ভালো। হালকা গরম তিল বা জলপাই তেল তুলা দিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এতে চুল উজ্জ্বল ও মজবুত হবে। আমলকী চিবিয়ে খেতে পারেন। আমলকী খেলে চুল ভালো থাকে।
মাসে অন্তত দুবার তেল লাগাতে হবে। নারকেল তেলের সঙ্গে গোটা মেথি চুলায় জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে একটি বোতলে ভরে রাখতে পারেন। চুলে এই তেল লাগানোর আগে হালকা গরম করে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলে চুল খুশকিমুক্ত থাকবে। এ ছাড়া অনেকেই চুলের যত্নে প্যাক ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য নিচে কিছু প্যাকের টিপস দেয়া হলো_

প্যাক : টকদই, মেথি, আমলকী, হরীতকী, বহেরা একসঙ্গে মিশিয়ে আধাঘণ্টা মাথায় রেখে ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এ প্যাকটি ফাংগাল গ্রোথ কমাতে সাহায্য করে।

প্যাক : পাকা কলা একটি, টকদই এবং মধু মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। মধু ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে আর তাই এর ফলে চুলের রুক্ষতা কমে যায়।

বাজারে প্রচুর মৌসুমি ফল পাওয়া যাচ্ছে। নিজেকে সুন্দর রাখার মূলমন্ত্রই হল নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। প্রচুর মৌসুমি ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন, তাহলেই ভালো থাকবেন এই রোদ এই বর্ষায়।

সূত্রঃ সোরিয়া রওনক / যায়যায়দিন

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here