কাঁচের ঘরে মাছের বাসা

0
315

ড্রইং রুমের আলোটা নেভানো, কিন্তু মৃদু আলো আসছে ভেতর থেকে। উঁকি দিয়ে দেখি অ্যাকুয়ারিয়ামের কাচের দেয়াল ঠিকরে হালকা আলো। কেন যেন খুব কাছে গিয়ে দেখতে মন চাইল। মৃদু আলো, কাচের পাত্র, স্বচ্ছ পানি তার মাঝে গোল্ড ফিশের ছোটাছুটি, এক কথায় অসাধারণ সুন্দর দৃশ্য। কাছিমগুলোর থেমে থেমে ইতস্তত চলা দেখতে ভালোই লাগছিল।

বসার ঘর কিংবা পুরো বাসার যে কোনো কোণে রাখা ছোট কাচের পাত্রটা, যেটির নাম অ্যাকুয়ারিয়াম। এটি যেমন আপনার শখ জিইয়ে রাখবে, তেমনি ঘরের সৌন্দর্যে যোগ করবে বাড়তি মাত্রা। তাই আজকাল অনেকেই বসার ঘরে একটু ভিন্নতা আনতে রাখছে অ্যাকুয়ারিয়াম।

মূলত জলজ প্রাণীগুলোকে নিজস্ব পরিবেশে রাখার ছোট একটা প্রয়াস হলো এ কাচের ঘর। রঙ-বেরঙের নাম জানা-অজানা কোনো মাছ, সঙ্গে হয়তো ছোট ছোট নুড়ি-পাথর কিংবা কৃত্রিম কোনো গাছের পাশাপাশি ছোট বনসাইও রাখা হয় এ ঘরে। আবার কখনো কখনো ঘরটিতে শৈবাল-জাতীয় উদ্ভিদও রাখতে দেখা যায়।91M9qz4A1AL._SL1500_

অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখতে পারেন আপনার পছন্দের দেশী-বিদেশী মাছ অথবা ক্ষতিকর নয়, এমন যে কোনো জলজ প্রাণী। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাখতে পারেন ছোট ছোট কাছিম। চাইলে এই চার কাচের দেয়ালের মাঝে নানা রঙের আলোর ব্যবস্থাও করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা বাঞ্ছনীয় যে আলোর তীব্রতা যাতে খুব বেশি না হয়। কেননা তীব্র আলো অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা জলজ প্রাণীগুলোর জন্য অসহনীয় হতে পারে।

কারো আবার বড় সাইজের নয়, খুব ছিমছাম ছোট অ্যাকুয়ারিয়ামই পছন্দ। এক্ষেত্রে ছোট ছোট কাচের বোল পাওয়া যায়, যেখানে রাখতে পারেন পছন্দের মাছ। অথবা একটু ভিন্নতা আনতে চাইলে পুরো মুখ খোলা ছড়ানো কাচের বাটির মতো পাত্রও পাবেন, মাছসহ পাত্রটি রেখে দিতে পারেন বসার ঘরের টেবিলে।

ঝড়ের আভাস নাকি জলজ প্রাণীরা খুব দ্রুতই বুঝতে পারে। তাই অনেকেই বাড়িতে অ্যাকুয়ারিয়ামে নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ রাখতে পছন্দ করেন। ঝড়ের আভাসই হোক কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেই হোক, অ্যাকুয়ারিয়ামের চাহিদা বেড়েই চলছে। এর খুঁটিনাটি সবকিছু পেতে চোখ বন্ধ করে চলে যেতে পারেন কাঁটাবনে। যেখানে কাচের ঘর, বিভিন্ন আকৃতির বোল, নানা ধরনের দেশী-বিদেশী মাছ, মাছের খাবার, ওষুধ ইত্যাদি সবই পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here