বিভিন্ন আকারের কার্পেট অন্দরের উষ্ণতায়!

ঋতুর চক্রে আশ্বিন নিয়েছে বিদায়। কার্তিকের প্রথম আসরে রৌদ্র-ছায়া সমানতালে খেলা করলেও বাতাসে ভাসছে শীত শীত গন্ধ। আর ক’দিন বাদে বেলা পড়ে গেলে হাওয়া হবে শীতল।

শীত এলে প্রকৃতির সঙ্গে বদলে যায় আমাদের অভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনপদ্ধতি। সেই ছন্দে পাল্টায় অন্দরসজ্জা। শীতে প্রিয় অন্দরে উষ্ণ আবহ দেয় রকমারি কার্পেট। যদিও শৌখিন অন্দরসজ্জার এ উপকরণ রুচিশীল বাড়ি ও অফিসে সব ঋতুতেই ব্যবহারযোগ্য। তবে শীতে কার্পেট হয়ে পড়ে আরাম ও প্রয়োজন দুটোই।

অন্দরশৈলীর অন্যতম অনুষঙ্গ কার্পেট সাধারণত ঘরের আকার, আসবাবপত্রের ধরন, দেয়াল ও পর্দার রঙ ইত্যাদির সঙ্গে মিলিয়ে মেঝেতে জুড়ে দেয়া হয়। ঘরের আবহ ও গোছানোভাব অনেকটাই নির্ভর করে কার্পেটের রঙ ও ডিজাইনের ওপর।

ছোট ঘরজুড়ে হালকা একরঙা অথবা স্বল্প কারুকাজের কার্পেট ও বড় ঘরে ভারী কাজের কার্পেট ভালো লাগে। কখনো ঘরজুড়ে কার্পেট না বিছিয়ে জায়গা ও আসবাব বুঝে ছোট, মাঝারি ও গোলাকার কার্পেট বিছালে ভালো দেখায়। কার্পেট ব্যবহারের সময় আকার ও রঙ নির্বাচন করাটা খুব জরুরি। মাথায় রাখা প্রয়োজন ঘরের আলোক ব্যবস্থার কথাও। আমাদের দেশের আবহাওয়া যেমন, তাতে বলতে গেলে সারা বছরই বাতাসে ধুলাবালির প্রকোপ থাকে। শীতে তো এমনিতেই ধুলোবালি বেশি জমে। খুব সহজে কার্পেটে ধুলো-ময়লা আটকায়। তাই পরিষ্কারের সুবিধার্থে ও যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের একটু চিন্তা করে কার্পেট ব্যবহার করা উচিত।

কোথায় কেমন
সাধারণত বসার ঘর ও শোয়ার ঘরে কার্পেট বেশি ব্যবহার করা হয়। শীতে ডাইনিং রুমেও জুড়ে দেয়া হয় আরামদায়ক কার্পেটঘরভেদে আলাদা কার্পেট বিছানো যেতে পারে। শোয়ার ঘর যদি রাস্তার পাশে হয়, তাহলে একটু হালকা কার্পেট বিছানো উচিত। পুরো ঘরে কার্পেট না দিয়ে বিছানার সামনে একটু লম্বা-চওড়া কার্পেট জুড়ে দিন। ঘরে যদি কোনো ছোট টি-টেবিল বা রকিং চেয়ার থাকে, তাহলে আসবাবের বিপরীত রঙের কার্পে দিয়ে উপরে টেবিল বা রকিং চেয়ার বসিয়ে দিন। এমন হলে কার্পেটে ট্রাইবাল ও জিওমেট্রিক কিছু কারুকাজ থাকতে পারে। ঘরে যদি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে, তাহলে একটু গাঢ় রঙের কার্পেট বিছানো যেতেই পারে। ঘর ছোট ও কম আলো থাকলে অফ হোয়াইট, হালকা সবুজ, হালকা বাদামি এ ধরনের রঙের কার্পেট বিছালে ভালো হয়। বসার ঘরে সোফার শেপ অনুযায়ী কার্পেটের গোল, ওভাল শেপ বা চারকোনা আকার হলে সামঞ্জস্যতা থাকবে। পুরো ঘরে কার্পেট বিছাতে পারেন। নয়তো ঘরের মাঝখানে মাঝারি আকারের কার্পেট বিছাতে পারেন। এক্ষেত্রে কন্ট্রাস্ট কালারের কার্পেট ছড়াবে বাড়তি উষ্ণতা। আধুনিক বাসাবাড়িতে বসার ঘরে সোফার বদলে স্বল্প উচ্চতার ডিভান ব্যবহার করা হয়। বসার জায়গা যদি মেঝে বরাবর হয়, তবে অনায়াসে জুড়ে দিতে পারেন বর্ণিল শতরঞ্জি।

ডাইনিং রুমে প্লেইন কার্পেট ব্যবহার করলে ভালো। বাছাই করুন নীল ও সবুজ শেডের মধ্যে গাঢ় রঙগুলো। বাড়ির করিডোরে শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই শোভা পেতে পারে কার্পেট। করিডোরে দেয়ালের রঙ হালকা হলে মেঝেতে গাঢ় রঙের ও দেয়ালের রঙ একটু গাঢ় শেডের হলে মেঝেতে হালকা রঙের কার্পেট রাখা যেতে পারে। করিডোরে লম্বাটে কার্পেটের বদলে আয়তাকার কয়েকটি শতরঞ্জি বিছিয়ে দিলেও ভালো দেখাবে। দেয়ালে দু’চারটে পেইন্টিং আর দরজার দুই পাশে রাখা গাছের সারির সঙ্গে বেশ মানিয়ে যাবে।

আমাদের দেশে রান্নাঘরে সচরাচর কার্পেট বিছানো হয় না। তবে শীতের দিনে মেঝেতে ছড়িয়ে দিতে পারেন রাবারের ম্যাট। যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়।

ধরন বুঝে
যেহেতু কার্পেটের সঙ্গে উষ্ণতার একটি যোগসূত্র রয়েছে, তাই গ্রীষ্ম ও শীত দুই ঋতুতেই ব্যবহার উপযোগী এমন কার্পেট কেনা উচিত। সেক্ষেত্রে পলিপ্রোপিলেন ও নাইলনের কার্পেট বিছাতে পারেন। এগুলো স্থিতিস্থাপক ও দাগ কম লাগে। ঘরে যদি এয়ারকন্ডিশনের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে গ্রীষ্মে যেকোনো কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তারা নিশ্চিন্তে নির্ভর করতে পারেন পলিয়েস্টার কার্পেটে।

এক কার্পেটেই অনেক দিন কাটিয়ে দিতে চাইলে খুঁজে নিন সুন্দর ডিজাইনের উলের কার্পেট। পুরো ঘরে কার্পেট বিছাতে চাইলে উলের কার্পেট সেরা পছন্দ। এ কার্পেটের ওপর অনায়াসে আলমারি, খাট, সোফা ইত্যাদির মতো ভারী আসবাব রাখা যাবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে সাবান-পানিতে ধোয়া সম্ভব। এ ছাড়াও রয়েছে পাট ও রাবারের কার্পেট।

দামটা যেমন
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, মহাখালী, বনানী, পল্টন, মতিঝিল, গুলশানসহ আরো অনেক স্থানে সিনথেটিক ও পাটের বিভিন্ন ধরনের কার্পেট পাওয়া যাবে। কার্পেটের দাম নির্ভর করে আকার, উপাদান ও ডিজাইনের ভিত্তিতে। বর্গফুট হিসেবে বিক্রি হয় এসব কার্পেট। প্রতি বর্গফুটে দাম পড়বে ৫০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে সিঙ্গেল কার্পেট কিনতে চাইলে দাম পড়বে ৫ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

যত্নআত্তি

* কার্পেটে ময়লা লাগলে সঙ্গে সঙ্গেই স্থানটুকু পরিষ্কার করে ফেলুন। কারণ দাগ বসে গেলে তা পরে তুলে ফেলা কঠিন।
* সপ্তাহে একবার কার্পেট ব্রাশ করা উচিত। ভালো হয় যদি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থাকে। মাসে অন্তত একবার রোদে দিতে পারলে কার্পেট ভালো থাকে
* কার্পেট সাধারণত ভেজানো উচিত নয়। ড্রাই ক্লিন করে নিলে এগুলো ভালো থাকে। টেকে অনেক দিন।
* পোকামাকড়ের সংক্রমণ এড়াতে ব্যবহার করুন ন্যাপথলিন।
* কার্পেট রয়েছে এমন স্থানে অ্যাশ ট্রে ও মশার কয়েল রাখা উচিত নয়।

সূত্রঃ সানজিদা সামরিন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here