কিডনির পরিচর্যা নিজের হাতে!

বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা

আজ ৯ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস। এবারের কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘স্থূলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়: সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবন ধারা’। বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং কিডনি বিকল হলে, তার কার্যকারিতা হারানোরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগকে শনাক্ত করে চিকিৎসা করা।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ  বলেন, ‘স্থূলতা আজ বিশ্বব্যাপী একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। কিডনি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিতে স্থূলতা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন পদ্ধতি অনুসরণ করে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিডনি বিকল রোগীদের জন্য অত্যন্ত কম খরচে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক মানের ডায়ালাইসিস সেবা কেন্দ্র চালু করেছি।’ তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে কিডনি রোগের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এ রোগে মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত বেশি। কাজেই এই সকল রোগের মূল কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিরোধের উপায় বের করা জরুরি।’

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন ও ক্যাম্পস যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালি ও আলোচনা সভা, বিভিন্ন স্কুল ও স্থানে কিডনি স্ক্রিনিং এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি। বেলা ১১টায় আইডিইবি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা ও কিডনি রোগের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাস্থ্যকর জীবন প্রণালি অনুসরণ করে স্থূলতা প্রতিরোধ করা যায়। স্থূলতা হ্রাস পেলে কিডনি রোগও হ্রাস পাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) যদি ২৫ থেকে ২৯.৯ হয়, তবে তাকে অত্যধিক ওজন, আর ৩০ এর অধিক হয় তাহলে স্থূলতা বলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ থেকে জানা যায়, মৃত্যু ঝুঁকির প্রথম ১০টি কারণের মধ্যে অন্যতম স্থূলতা।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, কিডনি রোগ মূলত দুই ধরনের । আকস্মিক কিডনি রোগ এবং ধীরগতির কিডনি রোগ। ধীরগতির কিডনি রোগের তিনটি প্রধান কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিস। প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগী নতুন করে ধীরগতির কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগীদের কিডনি কয়েক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায় তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ব্যতীত বাঁচার উপায় থাকে না।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ কিডনি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি রোগ প্রতিরোধে সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ কিডনি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব কিডনি রোগ প্রতিরোধে সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ কিডনি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি ভাল বা সুস্থ রাখার জন্য শাশ্বত নিয়মগুলোর প্রতি সজাগ হওয়া ও পালন করা উচিত।

এই নিয়মগুলোর মধ্যে ১। নিজেকে সুস্থ, সবল ও কর্মঠ রাখুন (২) নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখুন (৩) রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখুন (৪) সুসম খাবার খাবেন, টাটকা শাক-শবজি ও ফলমূল খাবেন। সেই সঙ্গে ফাস্ট ফুড ও ড্রিংকস পানীয় পরিহার করুন। দৈনিক কায়িক পরিশ্রম করুন ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখুন। শরীরের স্থূলতা থেকে মুক্ত থাকুন (৫) প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন। (৬) তামাক, সিগারেট ও মদ জাতীয় তরল পানীয় বর্জন করুন। (৭) বেদনানাশক ওষুধ, হারবাল ও গতানুগতিক স্থানীয় ওষুধ থেকে বিরত থাকুন। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ ক্রয় ও খাবেন না। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা অথবা বংশগত কিডনি রোগ থাকলে কিডনি রোগ শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিডনি রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন।

পরিশেষে সুন্দর শারীরিক কাঠামো আমাদের সকলের কাম্য। মেদযুক্ত (স্থূলতা) শরীর কারোরই পছন্দ নয়। কারণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ (হার্টের রক্তনালী প্রতিবন্ধকতা বা ব্লক) ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বহন করে। কিন্তু আমরা নিজেরা একটু সচেতন হলে, আমরা সহজেই খাদ্যভাস পরিবর্তন করে, কায়িক পরিশ্রম ও জীবন যাত্রার ধরন পরিবর্তন করে স্থূলতা তথা স্থূলতার জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে পারি।

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ /সোসাইটি ২৪ ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here