কী করবেন গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে?

পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ না থাকা এলাকায় বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোঁরায় রান্নার কাজে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। সরকার আবাসিক খাতে আর পাইপ লাইনের গ্যাস সরবরাহ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাসের নতুন সংযোগও বন্ধ রেখেছে। ফলে এলপি গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর নিরাপত্তার দিকগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না, যার ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে।বাংলাদেশের অল্প কিছু এলাকায় লাইনের গ্যাস রয়েছে। বাকী সব এলাকার মানুষই এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার কাজে। এটি এখন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু একটু অসাবধানতার কারনেই ঘটতে পারে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণের ফলে মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, হতে পারে প্রাণহানি। তাই আমাদের সব সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

গ্যাস লিক হলে কী করবেন?
সিলিন্ডারের গ্যাস খুবই বাজে গন্ধযুক্ত। কোন অংশ লিক হলেই এই বাজে গন্ধ দ্রুত আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এমন উৎকট গন্ধ পেলেই সাবধান হয়ে যান। কোন প্রকার আগুন জ্বালানো যাবে না এই সময়। পাশাপাশি বাসার বিদ্যুৎ লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন। বাসার সকল দরজা, জানালা খুলে দিন যাতে বাতাস যাতায়াত করতে পারে। সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন এবং সেফটি ক্যাপ লাগান।

কীভাবে আগুন নেভাবেন?
যদি সিলিন্ডারে আগুন লাগে, আতঙ্কিত না হয়ে নেভানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে দ্রুত একটি সুতি কাপড় (লুঙ্গি জাতীয় কাপড়) দিয়ে পুরো সিলিন্ডারটি ঢেকে দিন। আগুন হাতে কিংবা শরীরে লাগবে না। তারপর দ্রুত রেগুলেটর ঘুরিয়ে সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন। দেখবেন আগুন নিভে যাবে।
শরীরে গ্যাস লাগলে
আর কিছু বিষয় জেনে রাখা খুবই প্রয়োজন। যদি সিলিন্ডারের গ্যাস শরীরের কোথাও লাগে তাহলে ওই স্থান ২০ মিনিট পানি দিয়ে ধুতে হবে। যদি কাপড়ে লাগে তাহলে ওই কাপড় দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। চোখে লাগলে পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি কোনভাবে শরীরে আগুন লেগে যায়, তাহলে শরীরের সব জামা-কাপড় খুলে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে হবে। যতটা দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে। আগুনে পুড়ে যদি শরীরে ফোস্কা পড়ে তা ভুলেও তুলে ফেলবেন না। এতে ঐ স্থানে ইনফেকশন হতে পারে।

সাবধানতা অবলম্বন
সিলিন্ডারের গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে মারাত্বক দূর্ঘটনা হতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না। এই পরীক্ষা করার জন্য পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এই ফেনা রেগুলেটর, হোস পাইপ, ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। যদি কোন স্থানে সাবান পানির ফোঁটা বড় হতে দেখা যায় তাহলে বুঝবেন ঐ স্থান লিক হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে তখন। সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ রোধে আপনাকে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কখনো গ্যাসের চুলায় রান্না তুলে দিয়ে অন্যত্র যাবেন না। খাবারে আগুন ধরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। রান্নার সময় আপনার পরনের কাপড়ের দিকেও সাবধান দৃষ্টি রাখতে হবে এবং রান্নার কাজে  ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বাতিল করতে হবে।  সব জিনিসের মত গ্যাস-সিলিন্ডারেরও মেয়াদ শেষ বা expire date থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়া কোন গ্যাস-সিলিন্ডার কে ঘরে রাখা যাবে না।কিভাবে চিনবো মেয়াদপূণ গ্যাস-সিলিন্ডার।

silinDar

ফটোতে মার্ক করা কালো রংগের লেখা টাই হল এক্সপায়ারি ডেট। এখানে A,B,C,D সংকেত দিয়ে বুঝানো হয়েছে।

A= বছরের প্রথম তিন মাস যেমন জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ।
B= তার পরের তিন মাস যেমন, এপ্রিল, মে, জুন।
একইভাবে C,D দ্বারা ক্রমানুসারে বাকি ছয় মাসকেই বুঝানো হয়। আর সবার শেষে বছরের শেষ দুই ডিজিট থাকে, অর্থাৎ C13 ( এখানে 13 দিয়ে 2013 ইং বোঝানো হয়েছে ) যদি C18 থাকে তারমানে হল 2018 সালের জুলাই, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বর মাসেই আপনার সিলিন্ডারের মেয়াদ বা (expire date) হবে।

বিঃদ্রঃ মেয়াদের লেখাটা সিলিন্ডারের প্রকারভেদে বিভিন্ন স্থানে লেখা থাকতে পারে , দোকান হতে নেয়ার সময় সেটা ভালো করে জেনে ও দেখে নেবেন । নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখুন, নিজেও নিরাপদে থাকুন।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here