কৈশোর থেকে মেনোপোজ

টিনএজ থেকে মেনোপোজ পর্যন্ত ১০ বছর অন্তর অন্তর নারীর শরীরে খাদ্য ও ভিটামিনের চাহিদা পাল্টায়।

বয়ঃসন্ধি থেকে মেনোপোজ পর্যন্ত নারীর শরীর ও মানসিক অবস্থা পাল্টায় বেশ কয়েক দফায়। এসব পরিবর্তন সামলে নিতে ও সুস্থ-সুন্দর থাকতে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে হবে। টিনএজ থেকে মেনোপোজ পর্যন্ত ১০ বছর অন্তর অন্তর নারীর শরীরে খাদ্য ও ভিটামিনের চাহিদা পাল্টায়। খেয়াল রাখতে হবে সেদিকে—

দুর্দান্ত কৈশোরকাল

কিশোর বয়স থেকে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি হতে থাকে। আর মেয়েদের বেলায় এ সময় থেকেই তারা নিজেদের শরীর-স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি নজর দিতে থাকে। সুন্দর ত্বক, চুল ও বাহ্যিক গড়ন বিষয়ে আত্মসচেতনতা তৈরি হয়।

এ বয়সে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ জরুরি।
এ বয়সে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ জরুরি।

অনেকেই এ সময় থেকেই কোমর বেঁধে ডায়েটে নেমে পড়ে। যার ফাঁকফোকরে বাদ পড়ে যায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। কিন্তু বৃদ্ধির এ বয়সে ভাবতে হবে হাড়ের স্বাস্থ্য আর শক্তির কথা। খেতে হবে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। যাতে যোগ হবে তাজা সবজি, বাদাম ও ফলমূল। অনেকে দুধ খেতে পছন্দ করে না। সেক্ষেত্রে দুধের বিকল্প খুঁজে নিতে হবে। যেমন আমন্ড ও সয়া দুধ সপ্তাহে অন্তত তিনদিন খেতে হবে। এ বয়সে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ জরুরি। তাই ওমেগা-৩ ফ্যাটযুক্ত মাছ খাওয়া আবশ্যক। যেহেতু সুন্দর ত্বক ধরে রাখা প্রত্যেক নারীরই প্রাণের কথা, তাই এ সময় থেকে ফাইবার ও জিংক গ্রহণ করতে হবে। ডিম ও মুরগির মাংসে জিংক রয়েছে। কৈশোরে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায় ব্রণ। তাই খাবারে পর্যাপ্ত ফল ও সবজির জোগান থাকতে হবে।

বয়স যখন কুড়ি!

এ বয়স উন্মাদনার! প্রজাপতি দুটো ডানা যেন লেগে যায় নিজের পিঠেই। ক্যারিয়ার তো আছেই, তাছাড়া জম্পেশ ঘোরাঘুরি ও শারীরিক পরিশ্রম করার বয়সও এটি। তাই চাই সুষম আহার। শারীরিক পরিশ্রম করলে ভিটামিন ‘বি’সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। মাশরুম, ডিম, সবুজ সবজি, বাঁধাকপি ও মাছ এসব খাবার পাতে রাখা জরুরি। ২০ বছরের তরুণীদের পর্যাপ্ত আয়রন-জাতীয় খাবার খেতে হয়। কারণ শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে মেনস্ট্রুয়েশনের সময় শরীর লৌহশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। মসুর ডাল, বাদাম, মাছ ও গরুর মাংসে লোহা রয়েছে। সুবিধামতো রোজ এগুলোর কিছু আইটেম আহারে নিশ্চিত করুন।

দায়িত্ববান ২৫

কারো জন্য ক্যারিয়ারের শুরু আবার কারো কর্মস্থল পাকাপাকি করার সময়। জীবনে দায়িত্ব নেয়ার সময় এটি। শারীরিক ধকলের পাশাপাশি মানসিক স্ট্রেসও কাজ করে এ বয়সে। তাই ডায়েটে থাকতে হবে ম্যাগনেশিয়ামপূর্ণ খাবার। শিম, ডার্ক চকোলেট ম্যাগনেশিয়ামের ভাণ্ডার। এগুলো স্ট্রেস কমায়, মন ভালো রাখে ও কর্মোদ্যম রাখে। পাশাপাশি চিনি, চা ও কফির ওপর চাপ কমাতে হবে। এগুলো শরীরে জমা ম্যাগনেশিয়াম অকার্যকর করে দেয়।

ত্রিশের কোটায়…

বয়সটি একদিক থেকে নিশ্চিন্ত— ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সন্তান নেয়ার জন্য আদর্শ। তাই এমন খাবার খেতে হবে, যা গর্ভধারণ ও সার্বিক সুস্থতার জন্য সহায়ক হবে।  ফলিক এসিডসমৃদ্ধ বাঁধাকপি, শাক, শিম ও সাইট্রাস ফল খেতে হবে। প্রতিদিন অন্তত একবার ফল ও সবজি খাওয়া আবশ্যক।

৪০ গড়িয়ে ৫০

কাজ, সংসার, সন্তান, দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে এই ১০ বছরে নারীকে যেতে হয় শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে। ধৈর্য ও শারীরিক শক্তি অনেকটাই নিভে আসে। কমতে থাকে মনোযোগও। চল্লিশের পর সপ্তাহে অন্তত দুবার মাছ খান। ডায়েটে রুটি, ডিম, মটরশুঁটি ও মাংস রাখুন। স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন চীনাবাদাম। এসব খাবারের বি ভিটামিন শক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

মেনোপোজ

এ সময়ের শুরুতে নারীরা একটা স্থবির সময় পার করেন। অনেক নারী মেনোপোজকে ভয় পান। কিন্তু সঠিক খাবার খেয়ে এর উপসর্গ কমানো যেতে পারে।

এ সময়ের শুরুতে নারীরা একটা স্থবির সময় পার করেন।
এ সময়ের শুরুতে নারীরা একটা স্থবির সময় পার করেন।

খেতে পারেন মটরশুঁটি, ছোলা ও তিল। এগুলোয় রয়েছে ফাইটোইস্ট্রোজেন। খাবারের ফাইটোইস্ট্রোজেন শরীরে ওয়েস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে। হঠাত্ হরমোন পতিত হওয়ার কারণে উপসর্গ কমাতে পারে এ ওয়েস্ট্রোজেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here