খেতে খেতে পানি খেলে কী হয় জানেন?

পানি খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক জুস পাতলা হয়ে যায় ও রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়।

খেতে বসে পানি না খেলে ভাত গলা দিয়ে নামে না। বা ভাত খাওয়ার পর ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি না খেলে পেট ভরে না। এমন অভ্যাস অনেকেরই থাকে। খাওয়ার পর পানি খেলে হজম ভাল হয় এই ধারণাতেও অনেকেই শিশুদের খেয়ে উঠে পানি খাওয়া অভ্যাস করান। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হজমের জন্য প্রয়োজন গ্যাস্ট্রিক জুস। পানি খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক জুস পাতলা হয়ে যায় ও রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে এতে হজম ভাল হওয়া তো দূরের কথা, বরং হজমের গন্ডগোল হয়।

নিউট্রিশনিস্টরা জানান, আমরা যা খাই তা হজম হতে মোটামুটি ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগে। খাবার খাদ্যনালীর মাধ্যমে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। হজমের পর সেখান থেকে কোলনে পৌঁছে শরীর থেকে নির্গত হয়। আমাদের পৌষ্টিক তন্ত্রের একটা স্বাভাবিক তরল-কঠিন সাম্য রয়েছে। খাওয়ার আগে পানি খেলে শুধু যে ফ্লুইড পাতলা হয়ে যায় তা নয়, এর ফলে পরিপাক ক্রিয়াও দ্রুত হয়। খাবার  নির্দিষ্ট সময়ের আগে বৃহদন্ত্রে পৌঁছে যায়। তাই খাওয়ার ঠিক আগে পানি খাওয়া উচিত নয়।

খাওয়ার ঠিক পরেই পানি খেলে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক পাতলা হয়ে যায়। ফলে উৎসেচকের কাজ কমে যায়।
খাওয়ার ঠিক পরেই পানি খেলে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক পাতলা হয়ে যায়। ফলে উৎসেচকের কাজ কমে যায়।

অন্য দিকে, খেতে খেতে পানি খেলে তা হজমে সমস্যা করে, তেমনই প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণেও প্রভাব ফেলে। তাই যাদের খেতে খেতে পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তারা অনেক সময়ই কোলন বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন বলে জানালেন নিউট্রিশনিস্ট। তাঁরা বলেন, তেমনি আবার খাওয়ার ঠিক পরে পানি খেলেও হজম তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। ফলে দ্রুত খিদে পেয়ে যায় ও বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পেট ফাঁপার সমস্যাও দেখা দেয়। খাওয়ার আগে ও পরে পানি খাওয়ার মধ্যে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যবধান থাকা প্রয়োজন। এই সময়ের মধ্যে শরীর হজমের পরবর্তী স্তরে পৌঁছে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে খাবার খাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরে শোষিত হতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। খাওয়ার ঠিক পরেই পানি খেলে হজমের জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক পাতলা হয়ে যায়। ফলে উৎসেচকের কাজ কমে যায়। যার প্রভাবে বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিপাক ক্রিয়া বাধা পাওয়ার ফলে অনেক খাবার হজম হয় না। এই হজম না হওয়া খাবারে থাকা গ্লুকোজ ফ্যাটে পরিণত হয় ও শরীরে মেদ হিসেবে জমা হয়। এর ফলে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির সমস্যা বাড়তে থাকে।

তাই সুস্থ থাকার জন্য যেমন নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি, তেমনই পানি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাও জরুরি। প্রতি দিন দু’লিটার পানি অবশ্যই খান। তবে খাওয়ার ঠিক আগে, খাওয়ার সময় এবং খাওয়ার ঠিক পরই পানি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here