গরমে শিশুকে সহজপাচ্য খাবার দিন

গরমে শিশুকে সহজপাচ্য খাবার দিন
গরমে শিশুর খাদ্যতালিকায় হালকা, পুষ্টিকর, টাটকা এবং সহজপাচ্য খাবার রাখুন।

তারেক আজিজ   

শিশুস্বাস্থ্য খুব স্পর্শকাতর। গরমে ওদের সুস্থতা ধরে রাখাও বেশ কষ্টকর। এ সময় খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ উঠে যায়। গরমে পানিশূন্যতা ও হজমজনিত সমস্যার কারণে ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিং এর মতো বিভিন্ন রোগে শিশুর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বাড়ে। এসব রোগ থেকে কোমলমতিকে বাঁচাতে সচেতন হউন। ওদের নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুর খাবার
সাধারণত গরমে শিশুরা তেমন একটা খেতে চায় না। ফলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। বাবা-মারা দুশ্চিন্তায় পড়েন। এমন অবস্থায় শিশুর খাদ্যতালিকায় হালকা, পুষ্টিকর, টাটকা এবং সহজপাচ্য খাবার দরকার। সেটা হতে পারে নরম খিচুড়ি বা সবজির স্যুপ। যা সহজে হজম হয়।

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে শিশুর খাবার ঘরেই তৈরি করুন। এ সময় বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ালে ডায়রিয়ার ঝুঁকি থাকবে না। হজমে সমস্যা হবে না। শিশুর প্রধান তিন খাবারে শাক-সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। সবজি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। খাবার তালিকায় চিচিঙ্গা, পেঁপে, কুমড়া, লাউ, কাঁচকলা ও বিভিন্ন রকম শাক রাখুন। রান্নায় বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম ও ব্রকলি ব্যবহার করুন। এছাড়া আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেলায় পরিমিত ডাল, মাছ-মাংসও রাখুন। গরমে শিশুকে কোনো অবস্থাতেই তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়াবেন না।

পানি
গরমে শিশুর খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি থাকাও জরুরি। পানির অভাবে শিশুর স্মৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষণ প্রক্রিয়া ও চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হবে। তাই  খাবারে পানির পরিমাণ ঠিক রাখুন। শিশুর জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখুন। খুব ঠান্ডা অথবা গরম পানি- দুই-ই শিশুর জন্য ক্ষতিকর। সেদিকে লক্ষ রাখবেন। শিশুকে প্রিজারবেটিভ দেয়া ফলের জুস এবং কোমল পানীয় দিবেন না। পারলে ডাবের পানি কিংবা লেবু, তরমুজ, আম অথবা বেলের শরবত পান করান। এগুলো শিশুস্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারি।

ফল
শরীরে পনি ও খনিজ পদার্থের পরিমাণ ঠিক রাখতে ফল খুবই উপকারী। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধেও ফল বেশ কার্যকরী। শিশুকে নিয়মিত তরমুজ, আপেল, কমলা, বাঙ্গি, পাকা পেঁপে, আম, লিচু, তালসহ সব ধরণের মৌসুমী ফল খাওয়ান। খেতে না চাইলে জুস করে দিন। এতে শিশুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ হবে।

এছাড়া শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ দিন। গরমেও শিশু ভালো থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here