গাছ দ্রুত বড় করতে, ফলন বাড়াতে অর্গানিক সার!

অর্গানিক সার কার্বনভিত্তিক যৌগ, যা গাছের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে।

অর্গানিক সার বলতে বোঝায়, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্ছিষ্ট থেকে তৈরি। এটি মাটির গঠন উন্নত করে মাটিতে পানি ও পুষ্টি ধারণক্ষমতা বাড়ায়। অথ্যাৎ মাটিকে উর্বর করে, মাটির কণাগুলো ফসলের উপযোগী করে, মাটিতে অনুজীব ও কেঁচোর সংখ্যা  বাড়ায়। জটিল যৌগকে সরল দ্রব্যে পরিণত করে। অর্গানিক সার কার্বনভিত্তিক যৌগ, যা গাছের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে। রাসায়নিক সারের চেয়ে এটি বেশি ফলদায়ক। কারণ এটি টক্সিনমুক্ত। চলুন জেনে নেই হাতের কাছে থাকা কিছু অর্গানিক সার এর উৎস-

গাছের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে।
গাছের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে।

কলার খোসা:

ক্ষারীয় সবজি, যেমন টমেটো গাছের মাটিতে কফিগুঁড়ো মিশিয়ে দিন। প্রাকৃতিকভাবে এটি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। গোলাপ ফুল বড় হবে ও দ্বিগুণ শোভা ছড়াবে। শুধু গোলাপ গাছ নয়, অন্যান্য সবজি বুনলেও কলার খোসা সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

অর্গানিক সার এর উৎস
অর্গানিক সার এর উৎস

কফিগুঁড়ো:

ক্ষারীয় সবজি, যেমন টমেটো গাছের মাটিতে কফিগুঁড়ো মিশিয়ে দিন। কারণ এ ধরনের গাছে নাইট্রোজেন প্রয়োজন। পানি দেয়ার আগে মাটির ওপরে কফিগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন অথবা ঠাণ্ডা ব্ল্যাক কফি ঢেলে দিন। আরেকটি কার্যকর উপায় রয়েছে— ছয় কাপ কফিগুঁড়ো পাঁচ গ্যালন পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে দু-তিনদিন রেখে দিন। এর পর গাছের গোড়ায় ঢেলে দিন পরিমাণমতো।

ডিমের খোসা:

ডিমের খোসা ধুয়ে ভেঙে নিতে হবে। টমেটো ও মরিচগাছের মাটিতে ফেলে রাখুন। ডিমের খোসায় রয়েছে ৯৩ শতাংশ ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, যা সুস্থ ও ভালো ফল দেয়।

সামুদ্রিক শৈবাল:

ছোট এক বালতি শৈবাল কুঁচি করে পাঁচ গ্যালন পানিতে যোগ করুন। পাত্রের মুখ অর্ধেক ঢেকে দু-তিন সপ্তাহ রেখে দিন। এ মিশ্রণটি গাছের গোড়া ও পাতায় ঢালুন। ছোট গাছে দুই কাপ, মাঝারি আকারের গাছে চার কাপ ও বড় আকারের গাছে ছয় কাপ দিন।

চা-পাতা ও ঝোলা গুড়ের সংমিশ্রণ জীবাণু ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়।
চা-পাতা ও ঝোলা গুড়ের সংমিশ্রণ জীবাণু ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়।

ঝোলা গুড়:

সহজ একটি রেসিপি দিয়ে শুরু করতে এক গ্যালন পানিতে এক-তিন টেবিল চামচ গুড় মিশিয়ে গাছে দিন। দেখুন কত দ্রুত সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে আপনার গাছগুলো।

ডগ ফুড:

যদিও এটিকে অর্গানিক সার বলা যাবে না, তবে এতে রয়েছে প্রোটিন ও পুষ্টি। গাছ লাগানোর জন্য মাটি তৈরি করার সময় মাটিতে ডগ ফুড ছড়িয়ে মাটি উল্টে দিন। একটি কার্ডবোর্ড দিয়ে ঢেকে রাখুন। চার সপ্তাহ অল্প অল্প করে পানি দিন।

অন্যান্য

ইপসম লবণ, ঘাস, পাতা, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর বর্জ্য, বাদামের খোসা, বৃষ্টির পানি, গাছ পোড়ানো ছাই— সবই প্রাকৃতিক সার হিসেবে কার্যকর।

আমেরিকার  কর্নেল  বিশ্ববিদ্যালয়ের  বিজ্ঞানীরা ২২ বছর গবেষণা করে বলেছেন, কৃষক  নিজে জৈব সার উৎপাদন করলে প্রতি কেজি ১ থেকে ২ টাকা খরচ হয়। রান্না ঘরের উচ্ছিষ্ঠ দিয়ে বা শহরের ডাস্টবিনের  আবর্জনা দিয়ে জৈব সার তৈরি করলে শহরের পরিবেশ ও ভালো থাকবে এবং জৈব সার ও উৎপাদন হবে। জৈব সার প্রয়োগে মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় সেচ বাবদ ৩০-৪০ %পর্যন্ত খরচ কম হয় ।

বাংলাদেশেও অর্গানিক ফুডের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় অর্গানিক ফুড বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)সম্পূর্ণ জৈব সার দিয়ে শাকসবজি ও খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছে ।  ব্যাক্তিগত  উদ্যোগেও অন্তত সহস্রাধিক কৃষক অর্গানিক ফার্ম গড়ে তুলেছে।  তাদের উৎপাদিত  শাকসবজি ও খাদ্য শস্য ঢাকার অর্গানিক ফুডের দোকানে সরবরাহ করছে। অর্গানিক ফুড দেখে চেনার উপায় নাই। তবে খেতে রাসায়নিক সার দিয়ে উৎপাদিত খাদ্যের চেয়ে বেশি সুস্বাদু ।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here