ঘুরে আসুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি থেকে

0
583

মানিকগঞ্জ জেলা সদর থেকে আনুমানিক আট কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে পয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়ি। মোট সাতটি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি সবার কাছে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামেই সুপরিচিত।

শুরুতেই একটু ফিরে তাকানো যাক ইতিহাসের দিকে। নিম্নবিত্ত একটি সাহা পরিবার থেকেই পরবর্তীতে বালিয়াটি জমিদার বংশের উদ্ভব। মহেশরাম সাহা নামে জনৈক বৈশ্য বারেন্দ্র শ্রেণীর ছোট্ট এক কিশোর ভাগ্য অন্বেষণে বালিয়াটীতে আসে এবং জনৈক পান ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাকরি নেয়। পরে মহেশরামের ছেলে গণেশ রাম লবণের ব্যবসায় উন্নতি করেন। গণেশ রামের চার ছেলের মধ্যে একজন হলো গোবিন্দরাম। তিনি বিয়ে করেন বালিয়াটীতে। তার ঘরে জন্ম নেয় চার ছেলে। যথাক্রমে আনন্দরাম, দধিরাম, পণ্ডিতরাম ও গোপালরাম। এই চার ভাইয়ের পৃথক ব্যবসা ছিল। ওই চার ভাই থেকেই বালিয়াটী গোলাবাড়ী, পূর্ববাড়ী, পশ্চিমবাড়ী, মধ্যবাড়ী ও উত্তরবাড়ী নামে পাঁচটি জমিদার বাড়ির সৃষ্টি হয়। আনুমানিক ১৭৯০ সালে ওই চার ভাইয়ের মাধ্যমেই বালিয়াটী জমিদার বাড়ীর গোড়া পত্তন হয়।জমিদার বাড়ির সামনের স্মৃতি ফলকে লেখা রয়েছে পুরো কাহিনীটি।

বালিয়াটীর জমিদার বাড়ীতে আছে দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণে অপূর্ব। বিশাল বিশাল ভবন জমিদার আমলে জমিদারদের বিত্ত বৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঝড়-তুফান, বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে এখনো কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। জমিদারবাড়ীর সিংহ দরজায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙ্গিনা। একই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বহুতল ভবন। এগুলোর পেছনে জমিদার অন্দরমহল এবং রয়েছে কয়েকটি পুকুর। নিজের চোখে না দেখে শুধু বর্ণনা পড়ে এর নান্দনিকতা পুরোপুরি বুঝে ওঠা অসম্ভব!maxresdefault

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ বা সরাসরি সাটুরিয়া যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৭০-৮০ টাকা। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে রিকশা বা লোকাল সিএনজিতে করে জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া ১০টাকা।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি রোববার পূর্ণদিবস আর সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও বন্ধ থাকে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ১০টাকা।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাঃ

পরিচিত সরকারি কোন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সাটুরিয়া ডাক বাংলোতে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি রাত। এখানকার পরিবেশ অসাধারন সুন্দর। আর একেবারে শহরের মাঝখানে ডাক বাংলোটি অবস্থিত হওয়ায় খাবারের দোকান, ফার্মেসি ইত্যাদি পেয়ে যাবেন হাতের নাগালেই।

চাইলে সকাল বেলা রওনা দিনে একদিনে ঘুরে ফিরে রাতের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যেতে পারবেন। রাজধানীর ব্যস্ততা থেকে ক্ষণিকের জন্য মুক্তি পেতে চাইলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারেন বালিয়াটির জমিদার বাড়ি থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here