চটজলদি যন্ত্রণাদায়ক ঘামাচি দূর!

চটজলদি যন্ত্রণাদায়ক ঘামাচি দূর!

উজ্জ্বল আলো আর রৌদ্র ঝলমল দিনের ঋতু গ্রীষ্ম, এই ঋতু যতটানা চমৎকার তার চেয়ে বেশি বিরক্তিকর এর উত্তাপ প্রখরতা। এই ঋতুর সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে ঘামাচি যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, সাধারণত এটি একটি ত্বকের সমস্যা যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের লোক আক্রান্ত হয়। গরম বাড়লে বাড়ে ত্বকের সমস্যাও। তীব্র গরমে ঘাম অনেক বেশি হয়, ফলে লোমকূপে ঘাম জমে হয় ঘামাচি। সাধারণত পিঠ, ঘাড়, গলার নিচে, হাতে ঘামাচির উপদ্রব দেখা দেয় এবং চুলকানি হয়। কখনো কখনো তা বহুদিন স্থায়ী হয়। একটু নিয়ম করে যত্ন নিলেই ঘামাচি দূর করা সম্ভব।

দৈনিক গোসল

ঘামাচি দূর করার প্রথম শর্ত দৈনিক গোসল । গরমে অন্তত দুবেলা গোসল করা উচিত। পানির তাপমাত্রা খুব বেশি ঠাণ্ডা বা গরম না হওয়াই ভালো। গোসলের সময় শরীরের যেসব স্থানে ঘাম হয়, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। অবাঞ্ছিত লোম সময়মতো ওয়াক্স করে ফেলা জরুরি। শরীরে সরাসরি সাবান না লাগিয়ে ছোট ন্যাপকিনে সাবান বা বডি ওয়াশ লাগিয়ে ত্বক রগড়ে রগড়ে পরিষ্কার করুন। গোসল শেষে সুতির তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে পাউডার লাগিয়ে নিতে হবে।

বরফ

বাইরে থেকে ফিরে সুতির নরম কাপড়ে তিন-চার টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ঘামাচির ওপর বুলিয়ে নিন। মাঝে মাঝে চেপে ধরুন। এতে ঘামাচির অস্বস্তি কমবে। কয়েক ঘণ্টা পর পর এভাবে করলে দ্রুত ভালো ফল পাওয়া যাবে।

অ্যালোভেরা

ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরা খুব ভালো কাজ দেয়। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে পরিচিত। আইস কিউবে অ্যালোভেরা জেল রেখে বরফ করুন। এর পর শরীরের যেখানে ঘামাচি রয়েছে, সেখানে অ্যালোভেরা ঘষে নিন। সরাসরি অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

আলু / ছোলার ডাল

ঘামাচির চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে আলু থেঁতো করে আক্রান্ত স্থানে লাগান। তাছাড়া ছোলার ডাল সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে বেটে ঘামাচির ওপর লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেললে আরাম পাওয়া যাবে। এতে ঘামাচি দ্রুত মরে যাবে এবং চুলকানিও থাকবে না।

মুলতানি মাটি

ফেসপ্যাক হিসেবে মুলতানি মাটি বেশ জনপ্রিয়। প্রতিদিনের ফেসপ্যাক তৈরির সময় একটু বেশি পরিমাণে মুলতানি মাটি নিন। সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল ও পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচি আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বেকিং সোডা  

সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল ও পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচি আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানসমৃদ্ধ বেকিং সোডা গভীরভাবে ত্বক পরিষ্কার করে এবং সংক্রামক দূর করে ত্বকে আরাম দেয়। বেকিং সোডা ও পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ঘামাচির ওপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে নরম কাপড় দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। দুদিনেই ঘামাচি উধাও।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here