চশমার সাথে মানানসই মেকআপের ৫টি ট্রিক্স!

0
1155
চশমার ফ্রেমও যে কত্ত কিউট হতে পারে তা অপটিক্যাল শপগুলোতে গেলেই বোঝা যায়

জন্মগতভাবে আমাদের এই প্রজন্মটি বেশ কিছু দিক থেকে আশীর্বাদধন্য। একদিকে আমরা যেমন সামাজিক যোগাযোগের বিশাল এক ভাণ্ডারের সাথে হাতে হাত রেখে বড় হচ্ছি, অপরদিকে আমাদের কাছে রয়েছে ফ্যাশন জগতের নানা ধরণের নতুন নতুন আবিষ্কার।

শিরোনাম পড়ে আপনার মনে হতে পারে লেন্সের এই যুগে মেকআপের সাথে আবার চশমা কেন? কিন্তু যারা অ্যালার্জির জন্যই হোক বা লেন্সের প্রতি অনীহা থেকেই হোক, লেন্স ব্যবহার করতে পারে না তাদের কথাও তো আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তাই না?

চশমার ফ্রেমও যে কত্ত কিউট হতে পারে তা অপটিক্যাল শপগুলোতে গেলেই বোঝা যায়। এবার এই কিউট ফ্রেমের চশমার সাথে কেমন মেকআপ মানাবে তা জানিয়েছেন প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট সারাহ লুসিরো।

কালো আইলাইনারের পরিবর্তে বেছে নিন নেভি ব্লু বা বারগেন্ডি রঙ

চশমার নিচে কালো রঙের আই লাইনারে রাঙানো চোখজোড়া বেশি মোটা দেখাতে পারে। একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, চশমা আপনার চোখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ঢেকে দিচ্ছে। আপনার কাজ হল চশমা চোখে থাকা অবস্থায়ও যেন টানাটানা চোখের মাধুর্য অটুট থাকে তা নিশ্চিত করা।

কাজেই কালো আই লাইনার আপাতত বাদ দিন। বেছে নিন নেভি ব্লু বা বারগেন্ডি রঙের আই লাইনার। এই রঙগুলো বেশ উজ্জ্বল, চশমা ভেদ করেও চোখের আবেদন ফুটিয়ে তোলে। আপনার ত্বকের রঙ বা চুলের রঙ যাই হোক না কেন, এই রঙ দুটিকে যেকোনো পর্যায়ে আপনাকে অন-ট্রেন্ড লুক এনে দিতে পারবে নিমিষেই।

নাকের দুপাশের দাগ ঢাকুন

মেকআপের শুরুতে কনসিলার বা বিউটি বাম সারা মুখে সমানভাবে মেখে ব্লেন্ড করে নিতে হয়। তবে মুখের কিছু কিছু অংশ যেমন আপনার নাকের দুপাশ, চোখের নিচের অংশ এসব দিকে একটু বেশি নজর দিতে হয়।

ফ্যাশনের জন্যই হোক আর প্রয়োজনেই হোক, নিয়মিত চশমা পরলে নাকের দুপাশে দাগ হতে বাধ্য। কাজেই কনসিলার লাগানোর সময় এই জায়গাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। চাইলে বিবি ক্রিম বা বিবি ফাউন্ডেশন লাগিয়েও দূর করতে পারেন এই দাগ।

অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিন যাতে চশমার ফ্রেম পরিষ্কার থাকে
অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিন যাতে চশমার ফ্রেম পরিষ্কার থাকে

অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিন যাতে চশমার ফ্রেম পরিষ্কার থাকে

নাকের উপরের এবং চোখ ও গালের উপরের অংশের মেকআপ শেষ হওয়ার পরপরই অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন মুছে নিতে হবে। অনেক সময় মেকআপের বেইজ বসাতে গিয়ে আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ময়েশ্চারাইজার বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে ফেলি। লুসিরো বলেন মুখের যে অংশটুকু চশমা দিয়ে ঢাকা থাকে, বিশেষত সেই জায়গাটুকুতে মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে বাড়তি মেকআপ তুলে ফেলতে হবে।

স্পঞ্জ ব্যবহার করলে আপনার মেকআপ একটুও নষ্ট হবে না, বরং আপনার চেহারা থেকে পাউডারি ভাবটি চলে যেয়ে আপনাকে আরও প্রাকৃতিক সুন্দরি লাগবে। তাছাড়া চশমার ফ্রেমে ফাউন্ডেশন ভেসে ওঠার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও এড়িয়ে চলতে পারবেন।

ভ্রু শেপ করে নিতে ভুলবেন না যেন!

আপনার হয়তো মনে হতে পারে যে চশমার ফ্রেম তো ভ্রু ঢেকেই দিচ্ছে, তাহলে আবার ভ্রু নিয়ে চিন্তা কেন? চশমার ফ্রেমের উপর দিয়ে যে আপনার ভ্রু উঁকিঝুঁকি দেয় সেটা তো সুন্দর করে উপস্থাপন করতে হবে।

কাজেই চশমা পরার আগে রঙিন বা ওয়াটার কালারের ভ্রু মাশকারা দিয়ে ভ্রু জোড়া ব্রাশ করে নিন। এবার সুন্দর করে সেট করা ভ্রু জোড়া আপনার মুখকে দেবে গরজিয়াস আর পলিশড একটি লুক। চশমা খুলতেও তাই আর চিন্তা কিসের?

ফ্রেমের সাথে মিলিয়ে পরুন আইশ্যাডো

আপনার চশমার ফ্রেম যদি কালো হয় তাহলে আপনি যেকোনো রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ফ্রেম কালো না হলে কিন্তু আইশ্যাডো লাগাতে হবে চিন্তা ভাবনা করে।

লুসিরো বলেন, কালো ছাড়া অন্য যে কোন রঙের ফ্রেমের সাথে ডার্ক ব্রোঞ্জ বা ব্লু কালারের শ্যাডো মানিয়ে যাবে। আর চশমার ফ্রেমে যদি কয়েকটি রঙের আধিক্য থাকে তবে তার মধ্যে থেকে পছন্দসই যেকোনো রঙ বেছে নিতে পারেন।

এবার তাহলে বিশেষ অনুষ্ঠান এলেই চশমাকে টাটা বলা নয়। চশমার সাথেই হোক আপনার বন্ধুত্ব।

তথ্যসূত্রঃ কসমোপলিটোন ফ্যাশন ম্যাগাজিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here