চামড়ার ক্যানসার থেকে বাঁচতে তরমুজ খান

চামড়ার ক্যানসার থেকে বাঁচতে তরমুজ খান
তরমুজের লাইসোপেনই আপনাকে বাঁচাবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে। ফলে সানবার্ন কিংবা চামড়ার ক্যানসার থাকবে নিরাপদ দূরত্বে।

আর্টস্টাইল কিউরেটর

তরমুজ কি? সবজি নাকি ফল! বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরমুজ ফল ও সবজি— দুটোই। সবজিই হোক, কিংবা ফল, তরমুজ খাওয়ার উপকারিতা অনেক। গরমের এই মৌসুমে তরমুজ আপনাকে সতেজ রাখবে। এতে ক্যালরি নেই বললেই চলে। আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’। পটাশিয়াম ও আঁশের পরিমাণও বেশ ভালোই। তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। তাই শরীরে পানির অভাব পূরণে তরমুজ একটি আদর্শ ফল।

তরমুজের আরও কিছু গুণের কথা পড়ুন:       

. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়
তরমুজে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি৬। আর এই বি৬ মস্তিষ্ক সচল রাখার অন্যতম উপাদান ভিটামিন। মস্তিষ্কের জলীয় উপাদান ও তরমুজের পানির পরিমাণ একই। তাই ‘মাথা ঠান্ডা’ রাখতে তরমুজ অতুলনীয়।

. তরমুজ মানেই পানি
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচারের গবেষণা বলছে, তরমুজে পানির পরিমাণ ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ। মানে একটা তরমুজ হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির আধার। প্রতিদিন তরমুজ খেলে শরীরে পানির অভাব পড়বার কোন সুযোগই নেই।

. তরমুজ কমায় ক্যানসারের ঝুঁকি
টমেটোতে একটা খাদ্য উপাদান থাকে, যার নাম লাইসোপেন। একটা বড়সড় টমেটোতে যে পরিমাণ লাইসোপেন থাকে, তার থেকে দেড় গুণ বেশি থাকে এক কাপ পরিমাণের তরমুজে। লাইসোপেন অতি শক্তিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট; যা মানবশরীরে কোষের মৃত্যুর হার কমায়। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। লাইসোপেন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়।

. চোখের আলো তরমুজ
ভিটামিন ‘এ’র খনি বলতে পারেন তরমুজকে। সবারই জানা, ভিটামিন ‘এ’ হলো চোখ ভালো রাখার জন্য দারুণ এক খাদ্য উপাদান। তাই তরমুজ খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়বে, এ ছাড়া নানান ধরনের সংক্রমণ থেকে চোখ থাকবে সুরক্ষিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন ১০০ গ্রাম তরমুজ খেলে চোখ সুস্থ থাকবে, দৃষ্টিশক্তি হবে তীক্ষ্ণ।

 . মাংসপেশির ব্যথা কমায় তরমুজ
একাধিক গবেষণায় পাওয়া গেছে, তরমুজের জুস মাংসপেশির ব্যথা কমায়। তাই হাড়ভাঙা খাটুনির পর তরমুজের জুস কাজ করবে টনিকের মতো। এর পেছনে যুক্তি কী? গবেষকেরা দেখেছেন, তরমুজে উচ্চ পরিমাণে সিট্রুলিন আছে। সিট্রুলিন মানবশরীরে ধমনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে, রক্তচাপও কমিয়ে দেয়। তাই মাংসপেশিতে ব্যথা হলে এক গ্লাস তরমুজের জুস হতে পারে মোক্ষম দাওয়াই। তবে তার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া জরুরি। 

. তরমুজে ওজন হ্রাস
আগেই বলা হয়েছে, তরমুজে প্রায় পুরোটাই পানি। পাশাপাশি এতে ক্যালরির পরিমাণও খুব কম। ফলে দিনে কয়েকবার তরমুজ দিয়ে পেট ভরালে এই গ্রীষ্মেই শরীর থেকে ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন অতিরিক্ত চর্বি! তিন বেলা তরমুজ খেতে নিশ্চয়ই একঘেয়ে লাগার কথা। তাই কখনো তরমুজ খেতে পারেন ফালি ফালি করে কেটে। কখনো জুস বানিয়ে।

. অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রেহাই
এখন অনেক ক্রিম বা লোশন তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় তরমুজ। তরমুজ কেন ক্রিম বা লোশনে? আগেও বলা হয়েছে, এতে আছে লাইসোপেন। সোজা বাংলায় লাইসোপেন হলো ক্যারোটিনসমৃদ্ধ খাওয়ার উপযোগী রঞ্জক পদার্থ। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এই লাইসোপেনই আপনাকে বাঁচাবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে। ফলে সানবার্ন কিংবা চামড়ার ক্যানসার থাকবে নিরাপদ দূরত্বে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here