চিত্রকর্মের মাধ্যমে আগাছার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ

আপনি যদি ব্রাজিলের সাও পাওলো, গ্রিসের এথেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, সানফ্রান্সিসকোতে ঘোরেন, তাহলে বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বিরাট আকারের আগাছা দেখে থমকে দাঁড়াবেন। ম্যুরাল শিল্পী মোনা ক্যারন দুনিয়ার বিভিন্ন শহরের উঁচু দেয়ালগুলোকে তার ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দেয়ালের এ ক্যানভাসে তিনি বুনো গাছপালা বা আগাছার চিত্র আঁকেন এবং তা আঁকেন অনেক বড় আকারে। শিল্পী ক্যারনের কথায়, তিনি এসব চিত্রের মাধ্যমে আমাদের সমাজের প্রান্তে যাদের বসবাস, তাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চান। তিনি চান তার এই চিত্রগুলো দেখে মানুষ যেন সেই প্রান্তিক সমাজের প্রতি একটু মনোযোগ দেয়।

ক্যারন বাস করেন সানফ্রান্সিকোতে, যদিও তার পারিবারিক নিবাস সুইজারল্যান্ডে। শুরুতে তিনি নগরের বার্ডস-আই ভিউ আঁকতেন। এ কারণে দীর্ঘদিন তিনি সিটিস্কেপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

monacaron-0651_top

কিন্তু কয়েক বছর আগে তার আঁকার ধরনটি একেবারে বদলে যায়। শুরুতে তিনি বিরাট নগরকে ছোট করে আঁকতেন আর এবার তিনি ছোট আগাছাকে বড় করে আঁকা শুরু করলেন। ক্যারনের মতে, এ আগাছাগুলো রাস্তার পাশে জন্মে, মানুষ এগুলো মাড়িয়ে যায় কিন্তু কখনো এদিকে মনোযোগ দেয় না। তাই তিনি তার চিত্রকর্মের মাধ্যমে আগাছার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। ক্যারন বলেন, ‘আমি শৌখিন গাছের সুন্দর ছবি আঁকি না।’ তার মতে, আগাছার মধ্যে লড়াইয়ের শক্তি প্রকাশিত হয়।

বর্তমানে দুনিয়ার প্রায় এক ডজন শহরে ক্যারনের আঁকা আগাছার চিত্র শোভা পাচ্ছে। এমনকি ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে এক বস্তিতে পাওয়া অচেনা এক আগাছার ছবিও তিনি এঁকেছেন।

mona1

উঁচু ভবনের দেয়ালে ছবি আঁকার জন্য ক্যারনের ছোট একটি লিফট আছে। এ লিফট দিয়ে ২৫ ফুট ওপরে ওঠা যায়। প্রথমে তিনি রেখা এঁকে তার চিত্রের কাঠামো তৈরি করেন। তার পর স্প্রে দিয়ে রঙ করেন। আগাছার ছবি আঁকার পেছনে ক্যারনের ভাবনাটি চিত্তাকর্ষক। তিনি বলেন, ‘যে আগাছাকে কেউ চায় না, মৃতসম এ গাছগুলো যে লড়াই করে জীবনকে টিকিয়ে রেখেছে, সেটা স্মরণ করিয়ে দিতেই আমার এ উদ্যোগ।’ ক্যারন মনে করেন প্রকৃতির সামান্য কোনো সৃষ্টিও অসাধারণ সুন্দর, যদি আমরা একটু সময় নিয়ে তা দেখার চেষ্টা করি।

 

সূত্র: গ্লোবাল ভয়েস

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here