চুলের আগা ফাটা বন্ধ করার ঝটপট উপায়

0
764
চুলের আগা ফেটে যাওয়ার আগেই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে সাধের চুলগুলো বেঁচে যাবে ধারালো কাঁচির অত্যাচার থেকে।

দীঘল কালো ঝলমলে চুলের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে “চুলের আগা ফাটা” নামক এক সমস্যাই যথেষ্ট। চুলের আগা ফাটা এমনই এক ঝামেলার বিষয় যার একমাত্র সমাধান ফেটে যাওয়া চুল কেটে ফেলা। আর এভাবে চুল কাটতে থাকলে লম্বা চুলের স্বপ্ন সারাজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে।

তাই চুলের আগা ফেটে যাওয়ার আগেই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে সাধের চুলগুলো বেঁচে যাবে ধারালো কাঁচির অত্যাচার থেকে। চুলের আগা ফাটা রোধ করার ৫টি সহজ উপায় দেখে নেয়া যাক তাহলে।

১. প্রতিদিন শ্যাম্পু নয়ঃ

চুল পরিষ্কার রাখতে অনেকেই নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এতে একদিকে চুল যেমন রুক্ষ হয়ে যায়, একই সাথে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়তে থাকে। কাজেই সপ্তাহে দুই বা তিন দিনের বেশি শ্যাম্পু না করাই ভালো।

আর শ্যাম্পু ব্যবহারের আগে অবশ্যই শ্যাম্পুতে সালফেটের পরিমাণ চেক করে নিতে হবে। সালফেট চুলকে নিষ্প্রাণ করে তোলে ও চুলের আগা ফাটার হার বাড়ায়। তাই সপ্তাহে যে কয়দিনই শ্যাম্পু করেন না কেন, হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আর শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না যেন।

২. হট অয়েল বা হট টাওয়েল ট্রিটমেন্টঃ

মাথায় তেল দিয়ে বাসার বাইরে বের হওয়াটা এখন নিঃসন্দেহে আনস্মার্টনেসের মধ্যে পড়ে। কিন্তু নারিকেল তেল যে চুলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান যুগ যুগ ধরে তা পরীক্ষিত সত্য। তাই স্মার্টনেস ও চুলের সুরক্ষা দুটোই নিশ্চিত করতে রাতে নারিকেল তেল কুসুম গরম করে পুরো মাথায় ম্যাসেজ করে নিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এভাবে হট অয়েল ম্যাসেজ করলে চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে ও সুন্দর এবং আগা ফাটার পরিমাণ কমে যাবে অনেকটাই।

হট টাওয়েল ম্যাসেজও চুলের কোমলতা ধরে রাখতে বেশ সাহায্য করে। এজন্য প্রথমে চুলে ভালো করে তেল লাগিয়ে নিন। এবার একটি তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে চিপে নিন। এই তোয়ালে গরম থাকতে থাকতেই পুরো মাথায় জড়িয়ে ফেলুন এবং ১০ মিনিট পর তোয়ালে খুলে ফেলুন। এভাবে তিন-চার বার করে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের আগা ফাটার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে এতে।

চুলে যে কোন ধরণের গরম কিছু ব্যবহার করলে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়
চুলে যে কোন ধরণের গরম কিছু ব্যবহার করলে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়

৩. অলিভ অয়েল, লেবুর রস, চায়ের লিকারঃ

চুলের পরিচর্চায় এই তিনটি উপাদানই সমান গুরুত্বপূর্ণ। চুলের গোড়ার সাথে চুলের আগাতেও অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিন। এতে চুল ফাটার পরিমাণ কমে যাবে।

চুলের আগা ফাটা রোধ করতে ব্যবহার করতে পারেন লেবুর রস। সমপরিমাণ পানি ও লেবুর রস মিশিয়ে শুধু চুলের আগায় লাগান। বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন আর দূর করুন আগা ফাটা।

প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের পাশাপাশি চুলের আগা ফাটা রোধেও দারুণ কার্যকরী জিনিস চায়ের ঠাণ্ডা লিকার। একটি পাত্রে চায়ের লিকার নিয়ে তাতে চুলের আগা ভিজিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। এরপর চুল শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুলের আগা আর ফাটবে না।

৪. ভেজা চুল আঁচড়ানো বন্ধ করুনঃ

গোসল করে এসে ভেজা চুল আঁচড়ানোর বদভ্যাস থাকলে আজই তা পরিহার করুন। কেননা ভেজা অবস্থায় চুলে জট লেগে থাকে ও চুলের গোড়া নরম থাকে। ফলে চিরুনি দিয়ে জট ছাড়ানোর চেষ্টা করলেই চুল ছিঁড়ে যায় ও চুলের আগা ফেটে যায়। তাই চুল কিছুটা শুকিয়ে আসার পর মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন, এতে আগা ফাটবে না।

৫. স্ট্রেইটনার ও হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা কমিয়ে দিনঃ

চুল সেট করতে ও চুলে বিভিন্ন ধরণের স্টাইল করতে আজকাল হরহামেশাই হেয়ার স্ট্রেইটনার ও হেয়াল কারলার ব্যবহার করছেন অনেকে। আর ব্যস্ত জীবনে জলদি চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার বা ব্লোয়ারের তো কোন জুড়ি নেই।

কিন্তু চুলে যে কোন ধরণের গরম কিছু ব্যবহার করলে চুলের আগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কাজেই চুল ভালো রাখতে হলে এসব যন্ত্র থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে।

ঝলমলে চুলের হাসি অমলিন রাখতে ও চুল লম্বা করতে হলে চুলের আগা ফাটা প্রতিরোধ করতেই হবে। আর তার জন্য বেশি করে পানি ও শাকসবজি খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। আর ঘরোয়া টোটকাগুলো ব্যবহার করতেও ভুলবেন না যেন।

তথ্যসূত্রঃ হেয়ার বুদ্ধা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here