ছেলেদেরও প্রয়োজন ত্বকের যত্ন

ছেলেদেরও প্রয়োজন ত্বকের যত্ন ।

বর্তমান যুগে শুধু মেয়েরাই নয়, ত্বকের যত্ন প্রয়োজন ছেলেদেরও। নিজেকে যদি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চান, তবে ত্বক থেকে সেই চেষ্টা শুরু করা উচিত। কারণ নিজেকে আকর্ষণীয় ও পরিচ্ছন্ন দেখাতে ছেলেদেরও ত্বকের যত্ন নেয়া দরকার।

সঠিকভাবে শেভ করা

অনেক সময় ছেলেরা নিখুঁতভাবে শেভ করার জন্য দাড়ি যে পাশে ওঠে, তার বিপরীত দিক থেকে শেভ করেন, যা একদমই উচিত নয়। কারণ এতে ব্লেডের আঘাতে চামড়া কেটে গিয়ে লোমকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কেটে যাওয়া স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। তাই সঠিক উপায়ে দাড়ি কামাতে হবে, এতে ত্বক মসৃণ থাকবে।

সঠিক রেজর নির্বাচন

বাজারে চার ব্লেড, পাঁচ ব্লেড ও ব্যাটারিচালিত মাল্টিব্লেডের রেজর পাওয়া যায়। তবে স্পর্শকাতর ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য বেশি ব্লেডের রেজর ব্যবহার করা উচিত নয়। সাধারণত যাদের চুল কোঁকড়া, মোটা বা এলোমেলোভাবে জন্মায়, তাদের ‘ইনগ্রোন হেয়ার’ বেশি হয়। ‘ইনগ্রোন হেয়ার’ ছোট করে কাটার পর যখন বড় হতে থাকে, তখন চামড়ার সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে জড়িয়ে থাকার প্রবণতা থাকে এবং ‘রেড বাম্প’ বা লালচে ফুসকুড়ি তৈরি করে। মাল্টিব্লেডের রেজর দিয়ে একবারেই চমৎকার শেভ  করা যায়। যারা একই জায়গায় একাধিকবার শেভ করতে বিরক্ত বোধ করেন, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। তবে যাদের ‘ইনগ্রোন হেয়ার’ আছে, তাদের দুই ব্লেডের রেজর ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, তাদের উচিত ‘টাইটেনিয়াম ব্লেডের রেজর’ ব্যবহার করা।

আফটার শেভ ও সুগন্ধি পণ্য এড়িয়ে চলা

প্রসাধনীতে থাকা রঙ ও সুগন্ধি ত্বকের জন্য ভালো নয়। বাজারে যেসব পণ্যে সুগন্ধি নেই বলে বিক্রি করা হয়, মূলত সেসব পণ্যও সুগন্ধিমুক্ত নয়। এসব পণ্যে মাস্কিং সুগন্ধি থাকে। স্পর্শকাতর ত্বকে আফাটার শেভ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ আফটার শেভে সুগন্ধির পরিমাণ বেশি থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সেক্ষেত্রে স্পর্শকাতর ত্বকে হালকা, অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রণ কমাবে এমন পণ্য ব্যবহার

অনেক ছেলের ধারণা, বয়সের কারণে ব্রণ হয়। তবে ব্রণ শুধু কিশোর বয়সের সমস্যা নয়, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরও ব্রণ হতে পারে।

সাধারণত মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ত্বক বেশি তৈলাক্ত হয়ে থাকে। আর তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ পরিস্থিতি এড়াতে অয়েল ফ্রি বা নন-কমিডোজেনিক কিং বা যেসব পণ্য লোমকূপ বন্ধ করবে না, এ রকম প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে।

নন-কমিডোজেনিক পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস সমস্যা থাকবে না। এছাড়া ব্রণ দূর করতে ‘নন-কমিডোজেনিক ক্লিনজার’ বেশ কার্যকর।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা

ত্বক ভালো রাখতে কীভাবে এবং কী ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ত্বক ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত মুখ ধোয়ার পর বা গোসলের পর দিনে কয়েকবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ত্বকে অয়েল ফ্রি ও নন-কমিডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করা উচিত। কারণ ক্রিম ব্যবহারে ত্বকের লোমকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার

ছেলেরা সাধারণত সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন না। শীত বা গ্রীষ্ম যেকোনো সময়ই বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রাখতে পারে। তাই ছেলেদেরও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here