জন্মদাগ এবং প্রচলিত কিছু মিথ

0
563

অনেক শিশুর জন্মের সময় শরীরের কিছু জায়গা জুড়ে এক ধরণের দাগ দেখা যায়। জন্মদাগ নামে পরিচিত এই দাগগুলোর আকার, আকৃতি, বর্ণ বিভিন্ন রকমের হতে পারে। এগুলো ব্যথাও করে না, আপনাকে বিরক্তও করে না। তবুও আমাদের সমাজে যে এসব জন্মদাগ নিয়ে কত ধরণের মিথ প্রচলিত আছে তা ধারণারও বাইরে!
দেশে দেশে জন্মদাগ নিয়ে প্রচলিত মিথঃ
শুধু আমাদের সমাজেই নয়, মানব ইতিহাস খুঁজলে প্রায় সব দেশেই জন্মদাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কুসংস্কার ও মিথ চালু আছে- কখনও তা ভাল, কখনও বা খারাপ, খুব বেশি খারাপ।
জন্মদাগের বেশ কিম্ভূতকিমাকার কিছু ব্যাখ্যা আছে। অনেকের মতে যাদের গায়ে জন্মদাগ থাকে তারা সাধারন মনুষ্যসমাজের বাইরের কাউকে রিপ্রেজেন্ট করে। এমনকি তাদেরকে ডাইনি আখ্যা দিয়ে এসব দাগকে “ডেভিল মার্ক” বলতেও ছাড়েন না তারা। কি অদ্ভুত যুক্তি!
সম্প্রতি ভারতের একটি গ্রামে এক মহিলাকে তার প্রতিবেশীরা একঘরে করে দিয়েছে। কারণ তার গায়ের জন্মদাগ দেখে তাদের মনে হয়েছে তার উপর হয়তো জ্বিনের আসর আছে!2085318826এদিক থেকে জাপান তো আরও এক কাঠি উপরে। গর্ভবতী মহিলাদের আগুনের দিকে তাকানোই নিষিদ্ধ করা দেয়া হয়েছে জাপানের অনেক প্রদেশে। কারণ আগুনের দিকে তাকালে বাচ্চা নাকি শরীরে আগুনে পোড়া দিয়ে নিয়ে জন্মাবে!
সৌভাগ্যবশত জন্মদাগ নিয়ে প্রচলিত সব মিথই কিন্তু খারাপ নয়। ইস্টার্ন ইউরোপের কতিপয় দেশে জন্মদাগকে “গুডলাক মার্ক” মনে করা হয়। পরীক্ষার আগে বা কোন শুভ কাজের আগে কারও জন্মদাগ স্পর্শ করে আশীর্বাদ নেয়া হয়।
কুসংস্কার ও মিথের সাথে মিলে জন্মদাগ নিয়ে বেশ কিছু সংশয় তৈরি হলেও মাঝে মাঝে এর সাথে জুড়ে থাকে আবেগের জায়গাও। অনেকেই জন্মদাগ নিয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুদের কটাক্ষ করেন, অনেক সময় নিজের অজান্তেই তাদের মানসিক বিকাশে অপূরণীয় ক্ষত সৃষ্টি করেন তারা।
জন্মদাগ কেন হয় তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হলেও কোন সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তাই এই কারণ নিয়েও মিথ সৃষ্টি হতে সময় লাগেনি। বলা হয়, পূর্বজন্মে যেখানে আপনি আঘাত পেয়েছিলেন পরের জন্মে সেখানেই তৈরি হয় জন্মদাগ। এরকম আরও কত মজার বা উদ্ভট যুক্তি যে যুগে যুগে দাঁড় করানো হয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই!

সব কথার শেষ কথা, আপনার গায়ে যদি কোন জন্মদাগ থাকে আর তা নিয়ে আপনাকে কেউ উপহাস করে তাহলে তাকে জানিয়ে দিন এটা শুধুই সৃষ্টিকর্তার একটি উপহার। কাজেই আপনি খুশি থাকুন আপনার গিফট নিয়ে আর নিন্দুকদের করতে দিন নিজের কাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here