জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনী খুঁজতে জমজমাট একটি জনসমাগম

হাতে পানির বোতল, ভাঁজ করা চেয়ার, সোডা পানি আর মশা তাড়ানোর স্প্রে নিয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ। জমজমাট একটি জনসমাগম। অনেকের হাতে পোস্টার সেখানে লেখা তার বয়সসহ বিস্তারিত। কোথাও বড় ব্যানারে এমন তথ্য দেখানো হচ্ছে। লোকজন এসে একবার করে উঁকি দিয়ে যাচ্ছেন এসব পোস্টার ব্যানারে।

এটি হলো চীনের সাংহাই অঞ্চলের একটি বাজার। অন্য যেকোনো পণ্য বেচাকেনার বাজারের মতোই এখানেও নিয়মিত হাট বসে এবং প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। এই অঞ্চলের বর্তমানে সবচেয়ে উদীয়মান পণ্যের বাজার বলা যায় এটি। কিন্তু পণ্যটা ব্যতিক্রম। এখানে পাওয়া যায় জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনী! তবে বয়স বেশিরভাগেরই তিরিশের বেশি। তার মানে হলো চীনের সংস্কৃতি অনুযায়ী এদের বিয়ের বয়স অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তাই এই ব্যবস্থা!!

এখানে আসে অনেক বয়স্ক মানুষও। তারা আসেন ঘরে আঁইবুড়ো মেয়েটার জন্য জামাই খুজতে। আঁইবুড়ো ছেলের বউ খুঁজতেও আসেন অনেকে। বেশিরভাগেরই দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা আলাদা থাকে, বহুদিন হলো বিয়ে করছে না এমন।

এই বাবা-মায়েরা অত্যন্ত হাসিখুশি আচরণ করেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়টা গোপন করে পছন্দের জামাই বা পুত্রবধূর সঙ্গে মধুর ব্যবহার করেন। তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেন আগামী ভ্যালেন্টাইন ডে থেকে তার সন্তানটি যেন আর একা না থাকে।

এই ধরনের বিয়ে বাজার কিন্তু চীনে কম নাই। বেইজিং, নানজিং, চেংদু, সিয়ান এবং ফুঝু এর মতো বড় শহরে গড়ে উঠেছে বড় বিয়ে বাজার। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, চীনের বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা সহজে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। তারা ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং নিজের জীবন উপভোগ করার ক্ষেত্রে বিয়েকে একটা বাধা বলেই মনে করছে।

২০১০ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে, চীনের পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ২৬.৭ বছর আর মেয়েদের ২৪.৯ বছর। ২০০০ সালেই এই বয়স কাঠামো ছিল যথাক্রমে ২৫.৩ এবং ২৩.৪ বছর।

সাংহাইয়ে গত বছর এক জরিপে দেখা গেছে, এখন পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ৩৪.৫ আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। ১০ বছর আগেও যা ছিল যথাক্রমে ৩১.১ এবং ২৮.৪ বছর।

এই বয়স্ক লোকেরা প্রতিদিন বাজারে (আসলে একটি পার্ক) এসে সারিবদ্ধভাবে ছাতা মেলে বসে থাকেন। তাদের হাতে একটি A4 সাইজ কাগজ যেখানে হাতে লেখা তাদের অবিবাহিত সন্তানের বিস্তারিত তথ্য।

আর যারা নিজের বউ খুঁজতে যান তারা আয় এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ দেন। আর বর খুঁজতে আসা মেয়েরা সাধারণত চেহারা এবং ব্যবহারের উপরই বেশি গুরুত্ব দেন। সেখানে চাকরি কখনো কখনো গৌণ হয়ে পড়ে। অপরপক্ষ আন্তরিক আগ্রহ না দেখাল কখনো ছবি দেন না তারা।

আর সহানুভূতিসম্পন্ন এবং নরম স্বভাবের মেয়েদেরই খুঁজে বেড়ায় ছেলেরা। মেয়েরা চায় সততা এবং দায়িত্ববোধ।

Yangcheng Evening News সম্প্রতি গুয়াংঝু, গুয়াংদং প্রদেশের একটি জরিপ চালিয়ে এ ধরনের প্রবণতাই দেখেছে। এই জরিপে বেইজিং, সাংহাই গুয়াংঝু এবং শেনঝেন থেকে এক হাজার মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে।

অপর আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, মেয়েরা চায় সঙ্গীর বেতন হবে কমপক্ষে তার দ্বিগুণ। আর ছেলেরা চায় সঙ্গীনীর বেতন তার সমান হলেই চলবে। বয়সের ক্ষেত্রে ছেলেরা তাদের চেয়ে চার থেকে আট বছরের ছোট মেয়েকে বিয়ে করতে চায় আর মেয়েরা চায় সঙ্গীটি তার থেকে তিন বা পাঁচ বছরের বড় হবে।

সূত্র: চায়না ডেইলি/এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here