টাকা জমানোর সহজ উপায়

টাকা জমানোর সহজ উপায়
ঋণ মানেই সুদ। আর সুদের অংক কখনও কমে না। তাই টাকা জমাতে হলে অবশ্যই ঋণের চিন্তা থেকে সরে দাড়াতে হবে।

সুরুজ আহমেদ  

সব সময় টাকা জমানো নিয়ে চিন্তা করলেও জমানো হয়ে ওঠে না। খরচ না করতে চাইলেও খরচ হয়ে যায়। আর মধ্যবিত্তদের টাকা জমানোর উপায় কই! তাই মাস শেষে পকেট সেই খালি ঝুড়িই হয়ে রয়। 

আপনি নিশ্চয় ব্যাংক অথবা ঘরের কোনো এক গোপন স্থানে টাকা লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু এত কিছুর পরও সে টাকা খরচ হয়ে যায়। যার আছে খরচের অভ্যাস তার কি কোনো উপায় কাজে লাগবে! সে যেখানে টাকা রাখবে প্রয়োজনে সেখানই হাত দিবে। তারপরও টাকা জমাতে কিছু কৌশল অবলম্বন করুন। এখানে রইল তেমন কয়েকটি।

১) প্রতি মাসের বাজেট ঠিক করুন, আয় বুঝে খরচের হিসাব করুন। বেতন ওঠানোর পর আর্থিক লেনদেন পরিশোধ করার পর বাকি টাকা থেকে অল্প কিছু হলেও রেখে দিয়ে সারা মাস চলার চেষ্টা করুন।

২) টাকা জমানোর জন্য পরিচিত ও বিশ্বস্ত কাউকে টাকা ধার দিতে পারেন। তবে ভুলেও তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত চাইবেন না। যখন খুব দরকার হবে তখন টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তির ঘুম হারাম করে দিবেন।

৩) কোন কিছু চিন্তা না করে অযথাই টাকা খরচ করবেন না। চেষ্টা করলে প্রতি সপ্তাহ বা মাসে কিছু টাকা হলেও জমানো সম্ভব। এখন থেকে আপনি মাটির ব্যাংকে বা খামে করে অল্প অল্প করে জমান দেখবেন বছর শেষে একটা মোটা অংকের টাকা হাতে আসবে।

৪) বাড়তি খরচ বাদ দিন। এতে করে আপনার খরচ কমবে এবং টাকা জমানোও সহজ হবে। টাকা জমানোর জন্য পরিকল্পনা করুন। অর্থ বিশেষজ্ঞরা বলেন, টাকা জমানোর জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করুন। এ ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করুন।

৫) ভবিষ্যত নিয়ে আগে থেকেই চিন্তা করুন। কথায় আছে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ। তাই ছোট, বড় যে চাকরিই করেন না কেন, শুরু থাকেই টাকা জমানোর চিন্তা করুন। এতে দেখবেন অবসরে যাওয়ার পর আপনাকে আর চিন্তা করতে হবে না। এবং আপনার টাকার পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

৬) সব সময় চিন্তা করবেন ঋণ না করার। কারণ ঋণ মানেই সুদ। আর সুদের অংক কখনও কমে না। তাই টাকা জমাতে হলে অবশ্যই ঋণের চিন্তা থেকে সরে দাড়াতে হবে।

৭) আপনার আয় কম হলে যেভাবেই হোক বাড়ানোর চেষ্টা করুন। চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা করুন। অথবা পার্ট টাইম চাকরি করুন।

৮) যদি ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। তাহলে বেশী বড় বাসা না নিয়ে কম ভাড়ার ছোট সুন্দর বাসা নিন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিবেচনা করে বাসা নিন। বাচ্চাদের স্কুল আপনার অফিসের কাছে রাখুন। এতে অতিরিক্ত খরচ কমে যাবে।

৯) একটু কম আরাম প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করুন। দরকার না হলে বাসার ফ্যান বা এসি বন্ধ রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here