ডায়াবেটিসঃ কেন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন আপনার ব্লাড শুগার

ডায়াবেটিস রোগটির সাথে কম বেশি পরিচিত আমরা সবাই। প্রত্যেকের পরিবারেই কেউ না কেউ এই রোগে আক্রান্ত অথবা “বর্ডারলাইন”। ডায়াবেটিস বলতে মূলত বোঝায় রক্তে গ্লূকোস বা শুগার নরমালের তুলনায় বেশি। প্রধানত শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোনের প্রতি রেসিস্ট্যান্স তৈরি হয় বলে এই রোগ হয়। একজন সুস্থ মানুষের দেহে এই ইনসুলিন ব্লাড শুগার কমানোর কাজ করে।

একজন ডায়াবেটিক রোগীর দেহে ধীরে ধীরে রক্তনালীর গহবর সরু হয়ে আসে। ফলশ্রুতিতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, কিডনী, এবং পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। ফলাফল হতে পারে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনী রোগ, পায়ের গ্যাংগ্রিনের মত মারাত্মক সমস্যা। এছাড়াও কমে যায় শরীরের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ নিরাময় ক্ষমতা।

তাহলে ডায়াবেটিস হলে বা হওয়ার আগে কী করবেনঃ যাদের পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে বিশেষ করে তারা আগেভাগেই সতর্ক হোন। নিয়মিত ব্লাড শুগার মাপুন। শর্করা জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খান। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, অ্যাক্টিভ থাকুন। দিনের বেশির ভাগ সময় যদি অফিসে বসে কাটানো হয়, তবে সময় বের করে নিন সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এক টানা ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুতবেগে হাঁটুন। এই হাঁটাই কিন্তু ব্লাড শুগার নিয়ন্ত্রণের প্রথম অস্ত্র।

untitled-3_19641-1

 

তবে ডায়াবেটিস যদি হয়েই যায়, সাথে সাথে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় ডাক্তারের কাছে গেলে খাওয়ার ওষুধ বা ওরাল হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্টের মাধ্যমে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। তাতে না হলে ডাক্তার দিতে পারেন ইনসুলিন ইনজেকশান। তবে যেই ওষুধই আপনাকে দেয়া হোক না কেন, সময় মত তা খেতে এবং নিয়মিত শুগার মাপতে ভুলবেন না। শুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া মাত্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস যেন আপনার নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, আপনার থাকতে হবে ড্রাইভিং সীটে। আর যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাময় ক্ষমতা কম, যে কোন আঘাতের যেমন হোঁচট খেয়ে পায়ে ব্যথা পেলে বিশেষ যত্ন নিন এবং ছোঁয়াচে রোগের ব্যাপারে সতর্ক হোন।

হাঁটুন, সময়মত ওষুধ খান, নিজের যত্ন নিন, এবং ভাল থাকুন।

নাজিয়া চৌধুরী,

এম ডি দ্বিতীয় বর্ষ, ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুল, সিঙ্গাপুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here