ত্বকের চুলকানিজনিত সমস্যা? জেনে নিন ঘরোয়া কিছু সমাধান

0
286

বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে ত্বকের চুলকানি শুরু হল? চুলকাতে চুলকাতে অনেক সময় নিজের চামড়া নিজেই উঠিয়ে ফেলি আমরা, কিন্তু এই বিরক্তিকর চুলকানি যেন থামতেই চায় না। কি বিপদ বলুন তো!

র‍্যাশ, অ্যালারজি, পোকার কামড় বা রোদে বেশি ঘোরাঘুরি যেকোনো কারনেই হতে পারে চুলকানি। এধরণের সমস্যার জন্য মলম তো দোকানে কিনতেই পাওয়া যায়, কিন্তু তা যে আপনার ত্বকে স্যুট করবেই তার গ্যারান্টি কি? শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত না হয়ে যায় আবার।

কাজেই মেডিসিন কেনার টাকাগুলো ব্যাঙ্কে জমিয়ে রেখে ঘরে বসে কি করে চুলকানি দূর করা যায় তার কয়েকটা টিপস দেখে নিন।

বেকিং সোডাঃ

  • বাথটাবে বা বালতিতে গোসল করার পানির সাথে এক কাপ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। ভালো করে পানিটা নেড়ে দিন যাতে সোডা পানির সব জায়গায় সমানভাবে মিশে যায়। বাথটাবে গোসল করলে আধা ঘণ্টা ধরে এই পানিতে গা ভিজিয়ে রাখুন। অথবা বালতির পানি ব্যবহার করলে গোসলের পরপরই তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে না ফেলে পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রতিদিন একবার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।
  • চুলকানি যদি ছোট জায়গা জুড়ে হয় তাহলে ৩ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে ১ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি আক্রান্ত জায়গায় ১০ মিনিট ধরে লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে এই পেস্টটি ব্যবহার করতে পারেন।

ক্ষতস্থানে কখনও বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না।Quick-Cures-For-Itching-Skin2

বরফ বা ঠাণ্ডা পানিঃ

  • গোসলের সময় পানির ট্যাপ ছেড়ে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা লাগান আক্রান্ত জায়গায়। দীর্ঘ সময় ধরে ঠাণ্ডা পানির শাওয়ার নিন।
  • আক্রান্ত জায়গাটিতে বরফ ঘষতে পারেন। বরফ সরাসরি না ঘষে কাপড়ে পেঁচিয়ে নিন।
  • চুলকানি বেশি মনে হলে ঐ জায়গায় ভেজা কাপড় চেপে ধরে রাখতে পারেন। নখের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার চেয়ে এই উপায়টি বরং বেশি সহজ।

লেবুর রসঃ

  • দুটি লেবু চিপে রস বের করে নিন।
  • তুলার বলের সাহায্যে লেবুর রস আক্রান্ত জায়গায় ভালো করে ঘষে নিন।
  • লেবুর রসকে নিজে থেকেই শুকিয়ে যাওয়ার সময় দিন।
  • রস শুকিয়ে গেলে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন।
  • দিনে দুইবার লেবুর রস ব্যবহার করলে চুলকানি দ্রুত কমে যাবে।

মনে রাখতে হবে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য লেবুর রস প্রযোজ্য নয়।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ

  • দুই থেকে তিন কাপ আপেল সিডার ভিনেগার উষ্ণ গরম গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে নিন। এই পানি গায়ে মেখে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রতিদিন একবার করে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।
  • তুলার বলের সাহায্যে ছোট জায়গায় চুলকানি হলে ঐ জায়গাটুকুতে আপেল সিডার ভিনেগার লাগিয়ে নিন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। দিনে এক থেকে দুই বার এই কাজটি করতে পারেন।

ত্বকের চুলকানি জাতীয় সমস্যা নিয়ে আর কোন চিন্তা নয়। আপনার ত্বকের ধরণ বুঝে বেছে নিন যেকোনো ঘরোয়া পদ্ধতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here