ত্বক থাকুক দাগহীন

ত্বক থাকুক দাগহীন

নীলিমা দোলা

মুখের কালো দাগ-ছোপ কি আপনার সৌন্দর্যে বাঁধা দিচ্ছে? নিজের সুন্দর মুখখানি এমন সব অযাচিত দাগ,ছোপ,ব্রণ বা ফুস্কুড়িতে ভরে উঠলে কার বা ভাললাগে বলুন?

মুখের ত্বকে এসব দাগ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন বার্ধক্য, চর্মরোগ, ডায়াবেটিকস, দুশ্চিন্তা, ধূমপান, ক্যান্সার, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা রোদে অতিরিক্ত চলাফেরার কারণে মুখের ত্বকে এই ধরনের দাগ পড়তে পারে।এছাড়াও ভিটামিন সি বা বি১২’য়ের অভাবে এবং মেয়েদের মাসিক বা গর্ভাবস্থায় মুখের ত্বকে এই ধরনের দাগের সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক বেশ কিছু উপাদানের সাহায্যে আপনি দূর করতে পারেন এই দাগ।

নিচে তেমন কিছু প্রাকৃতিক রূপচর্চার কথা বলা হলো-

লেবুর রস

লেবু ত্বকের গাঢ় দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।  লেবুর রস মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও চাইলে গোটা লেবু কেটে মুখে ঘষতে পারেন। গোসলের আগে মুখে লেবুর রস দিয়ে রেখে,১০ মিনিট পর গোসল সেরে নিন।

 

ডিমের কুসুম

এটা হল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং উজ্জ্বলতাবর্ধক। ডিমের কুসুম পুর মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে,ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ক্যাস্টর অয়েল

এটি  রেড়ির তেল নামেও পরিচিত। এতে রয়েছে শোষণকারী উপাদান। যা বার্ধক্যজনিত দাগ দূর করে। ভালো ফলাফলের জন্য এই তেল তুলোয় মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করতে হবে।

চন্দন

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে চন্দনের জুড়ি নেই। চন্দনগুঁড়া, গ্লিসারিন, লেবুর রস এবং গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ মুখের ত্বকে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী

মুখের দাগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী অ্যালোভেরা। আটা রোদে  পোড়া দাগ দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে অ্যালোভেরার জেল ব্যবহার করে ৪৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন দুবার, টানা একমাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।ঘুমাতে যাবার আগেও চাইলে ব্যবহার মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন।

চিনি

ত্বকে চিনি ঘষার মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করা যায়। চিনির মধ্যে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান থাকে যা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

পেঁপে

এই ফলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম যা ত্বকের কালিমা দূর করে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তাজা পেঁপে পুরো ঘষে মিনিট বিশেক পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। দিনে দুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

লাল কিশমিশ

আধা গ্লাস লাল কিশমিশ বা রসালো ফলের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তারপর আধা ঘণ্টা পর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। আরও ভালো ফলাফলের জন্য লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে।

পেঁয়াজের রস

ত্বকের বলি রেখা দূর করতে পেঁয়াজ বেশ কার্যকরী। পেঁয়াজ এর রস কালো দাগ দূর করতেও কার্যকরী।

গোলাপ জল

মুখের কালো দাগ দূর করার জন্য প্রতিদিন গোলাপ জলে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং মুখের কালো দাগ পরিষ্কার করে।

পানি

প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করে বলিরেখা কিংবা কালিমা কমানো যায়। পানি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে ত্বক মসৃণ ও সতেজ রাখে।

মধু এবং কাঁচাআলুর রস

মধুর মধ্যে কাঁচাআলুর রস মিশিয়ে মুখে হালকা মালিশ করুন।এটি ত্বকের কালিমা কিংবা শ্বেতস্তর দূর করে।

টমেটোর রস

ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই দিনে একবার করে টমেটোর রস ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের কালো দাগ দূর করা যায়।

নিম পাতা

নিম পাতা আপনার মুখের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।নিমের পাতা বেটে মুখে লাগিয়ে রাখুন তারপর শুকিয় গেলে ধুয়ে ফেলুন।বেশি ভালো ফল পেতে হলুদ বাটা মিশিয়ে নিতে পারেন সাথে।

এই ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি অসুরণ করে প্রাকৃতিকভাবে মুখের কালো দাগ দূর করা যায়। তাই মুখের বলিরেখা কালো দাগ দূর করার জন্য উপরে বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর যেকোনো টি ব্যবহার করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here