দামি অলঙ্কার কেনার আগে ভাবুন

নিত্যদিনের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে, বিয়ে কিংবা যেকোনো অনুষ্ঠানে অলঙ্কারের যথেষ্ট ব্যবহার থাকে। সাজতে ও সাজাতে ভালোবাসেন সবাই। আর সাজগোছ মানেই চলে আসবে অলঙ্কারের কথা। স্বর্ণ, রুপা, হীরার অলঙ্কার তাই যুতসই অনুষঙ্গ। এসব দামি ধাতুর ঔজ্জ্বল্য ভালো না লেগে উপায় কি। কিন্তু জানেন তো স্বর্ণ উত্তোলন করতে গিয়ে নিঃসৃত হয় পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর সায়ানাইড।

স্বর্ণ, রুপা, হীরা ইত্যাদি দামি খনিজ তোলা হয় মাটি থেকে। এসব তোলার সময় পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায় ক্ষতিকর সায়ানাইড, যা শুধু আমাদের চারপাশের জন্য ক্ষতিকর বললে ভুল হবে বরং মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।

2ugkvtt

 

অলঙ্কার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন নামি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি আংটির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে গড়ে ২০ টন বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এতে একেকটি খনির জন্য বিশাল পরিমাণ জমিকে বন্ধ্যা করতে হয়। আর এতে করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘকালীন মেয়াদে পরিবেশগত যে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

অন্যদিকে কানাডিয়ান ডায়মন্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বরফঢাকা অঞ্চলে খনিজ ধাতু বহন করতে গিয়ে এরই মধ্যে অনেক জায়গায় বরফ গলে হিমশৈলের জলধারা ভারী হয়েছে। যদিও ছোট ছোট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে পরিবেশবান্ধব উপায়ে অলঙ্কার ব্যবসা করেছে। উল্লেখ্য, ইউটোপিয়ান কালেকশনসের অনেক অলঙ্কার পুরোপুরি পুনর্ব্যবহূত রুপায় তৈরি করা হয়েছে। ফটোগ্রাফিক ও এক্স-রে বর্জ্য থেকে এসব রৌপ্য সংগ্রহ করা হয়। তামা সংগৃহীত হয় সেলফোনের পরিত্যক্ত চার্জার থেকে।

তাই অলংকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব আচরণ করার প্রতি  উদ্বুদ্ধ  করেছেন অনেক পরিবেশবাদী তারকাও। স্বর্ণ, রুপা, হীরা দিয়ে তৈরি অলঙ্কারের পরিবর্তে তাই মাটি, পুঁতি, কাঠ, পরিত্যক্ত কাগজ কিংবা পুনরায় ব্যবহূত ধাতু দিয়ে তৈরি অলঙ্কারই ভালো সমাধান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here