দুই তারকার সজীবতার রহস্য

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জেনিফার লোপেজ

অনেকেই ভাবেন কীভাবে তারকারা বছরের পর বছর তাদের তারুণ্য এবং স্বাস্থ্যকে এত সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। অনেকের ধারণা এত সুন্দর স্বাস্থ্য তারকারা পান সার্জারি, ভিটামিন পিলস আর বিউটি পার্লারে দিনযাপনের মাধ্যমে। হয়তো তারা সারাদিন এক বাটি সবজি অথবা ফল খেয়ে বেঁচে থাকেন। কিন্তু এসব আসলে কিছুই না। আসুন জেনে নেওয়া যাক হলিউডের দুই তারকার ফিট রহস্য

%e0%a6%9c

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ডায়েট রহস্যটি আসলে কোনো রহস্যই না। তার মতো ডায়েট এবং ব্যায়াম আমাদের দেশের প্রতিটিগৃহিণীই প্রতিদিন করে থাকেন। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে তারা কেন জোলির মতো এত ফিট হতে পারেন না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, জোলির ডায়েটের সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে তার পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু ছোটখাটো নিয়ম-কানুন। যেমন-পুরো খাবার খাওয়া অর্থাৎ খেতে বসে খাবার নষ্ট না করা, যতটুকুই খাওয়া যায় শান্তভাবে এক জায়গায় বসে খেতে হবে এবং খাবার ঘরটি হতে হবে উজ্জ্বল।

শুনতে অবাক লাগলেও এই তারকা সব ধরনের খাবারই প্রতিদিন খান। তার খাদ্য তালিকায় ফল থেকে শুরু করে গরুর গোশত পর্যন্ত থাকে। কিন্তু সবই একটি পরিমিত পরিমাণে। অনেক বছর আগে, তার খাদ্য তালিকায় শুধু শাক-সবজিই ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। এখন তিনি বিশ্বাস করেন, শুধু শাক-সবজি আর ফলমূল খেয়ে স্বাস্থ্যবান থাকা যায় না। ফিট থাকতে হলে সব ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করতে হয়। কারণ, একেক ধরনের খাদ্যে একেক ধরনের উপাদান থাকে যা দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জোলির মতে, এসব থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা একদম ঠিক না।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, এই সুন্দরী অভিনেত্রী অনেক দিন হল জিমে যান না। তার কারণ হিসেবে জোলি জানিয়েছেন, জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার চেয়ে ঘরে বসেই তিনি অনেক বেশি কাজ করেন। ছয় সন্তানের জননী জোলি কথাটা ভুল বলেননি। কারণ নিজেকে ফিট রাখতে চাইলে ঘরের কাজ করা এবং সন্তানদের লালন পালন করাটা জিমে গিয়ে দুই ঘণ্টা ব্যায়ামের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী। তবে মাঝে মধ্যেই জোলি সময় পেলে বেরিয়ে যান জেট স্কি, আইস স্কেটিং আর পাইলট ক্লাস করতে।

%e0%a6%b8

জেনিফার লোপেজ

জেনিফার লোপেজের মতো আকর্ষণীয় দেহগড়ন পেতে হলে অবশ্যই একজনকে মেনে চলতে হবে কঠিন ডায়েট, করতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম, এমন ভাবটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লোপেজ আসলে এমন কিছুই করেন না। তার ‘ফিট’ স্বাস্থ্যের রহস্য হল ‘যোগব্যায়াম’।

এই তারকা তার ডায়েট এবং ফিটনেসের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি আমার ডায়েটের ব্যাপারে জানতে চান তবে আমি সবসময়ের মতো এটাই বলব, আমি জানি আমার স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ। তবে মন যদি কিছু চায়, তাকে হতাশ করে কষ্ট দেওয়াকে আমি সমর্থন করি না। যদি দেখি ওজন বাড়ছে, তখন আমি শুধু খাদ্য তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব বেশি স্বাস্থ্য সচেতন নই। আমি কখনও স্বাস্থ্যের কথা বা ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে মিষ্টি বা আমার প্রিয় খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিই না। আমি সব কিছুই খাই, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট এবং পরিমিত পরিমাণে। আমি অল্প অল্প করে সব কিছুতেই বিশ্বাসী।’

লোপেজ খাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি সচেতন না হলেও যোগব্যায়ামের বেলায় তিনি খুবই সচেতন। প্রতিদিন এর পেছনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। প্রথমে তিনি যোগব্যায়াম করেন চিন্তা এবং অবসাদমুক্ত থাকার জন্য। এরপর কিছুক্ষণ গানের তালে ব্যায়াম করেন যা দেহে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে দেয়। সবশেষে কিছুক্ষণ তিনি ট্রেডমিলে সময় কাটান অথবা একটু সাইকেল চালান।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here