নাফাখুম জলপ্রপাত।

নাফাখুম জলপ্রপাত। রেমাক্রি জলপ্রপাত নামেও এটা অনেকের কাছে পরিচিত। নাফাখুম কিছুটা দুর্গম। বিশেষ করে বৃষ্টিবাদলার দিনগুলোয়। গত আগস্টে ছিল আমাদের নাফাখুম অভিযান। প্রথমে ঢাকা থেকে বান্দরবান। সেখান থেকে ৭৯ কিলোমিটারের পথ। গাইড মংখাই আমাদের সঙ্গী। মংখাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আগেই রুট ঠিক করেছি। শুরু হলো বান্দরবান থেকে গাড়ির চড়াই-উতরাই পেরোনো পথ। পাহাড়ি পথের ধারে মিশ্র ফলবাগান, আদিবাসীদের চলাচল সবই মুগ্ধ করে। একে একে আমরা পার হই মিলনছড়া, নীলগিরি, চিম্বুক, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাস্তা ‘পিক ৬৯’, বাঘাইছড়া। মাঝেমধ্যে আমরা থামি, ছবিটবি তুলি; আবার চলতে থাকি আনন্দের জিম্মায়। ঘণ্টাতিনেক পরে গাড়ি পৌঁছাই থানচির এপারে শঙ্খ নদীর পাড়ে। পাহাড়িদের কাছে এ নদীর নাম সাঙ্গু। এ সাঙ্গু বেয়েই আমাদের উঠতে হবে রেমাক্রি বাজার পর্যন্ত।
গাড়ি ও নৌকার পালা শেষ রেমাক্রি বাজারেই। এবার ট্রেকিং, মানে হাঁটা পথ। রেমাক্রি বাজারে সাঙ্গু বাঁক নিয়েছে। এ বাঁকে এসে পড়েছে রেমাক্রি খাল। খালের শুরুটা নাফাখুম জলপ্রপাতে। পাথুরে খালের দুই পাড় হাঁটার জন্য বন্ধুর। মাঝেমধ্যে জুম চাষের পাহাড়ে বা ঝিরির পানিতে স্নানরত এক-দুজন আদিবাসী ছাড়া কোনো মানুষও চোখে পড়ে না। এরপর পথ আরো জটিল। কাদা, পাথরের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঝোপঝাড়। আরো প্রায় আধঘণ্টা হাঁটার পর শোনা গেল পানির শব্দ। দেখা মিলল শুভ্র জলরাশির নাফাখুম জলপ্রপাত।

n

প্রায় ১৫-২০ ফুট ওপর থেকে পানি পড়ছে নিচের রেমাক্রি খালে। তীব্র স্রোত তৈরি করে চলে যাচ্ছে সাঙ্গু নদীর দিকে। জলপ্রপাতের প্রস্থ ৪০ ফুটের কম নয়। দুই দিকে বড় পাথরের দেয়াল। এমন জলপ্রপাত বাংলাদেশে, বিশ্বাসই যেন হতে চায় না। দেড় ঘণ্টার মতো আমরা নাফাখুম দেখলাম, মুগ্ধ হলাম। আবার হাঁটতে হবে ৮ কিলোমিটার বন্ধুর পথ। দিনের আলো থাকতেই পেঁৗছাতে হবে রেমাক্রি বাজারে। ফেরার সময় বিরতিহীন হাঁটা। যে পথে যেতে সময় লেগেছিল ৬ ঘণ্টা, ফিরতে লাগল দেড় ঘণ্টা।

যেভাবে যাবেন :

বাসে ঢাকা থেকে বান্দরবান, ভাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। চান্দের গাড়ি বা ভাড়া করা ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িতে থানচি। চান্দের গাড়ির ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ আর গাড়ি ভাড়া করলে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকায় যাওয়া-আসা, ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।
থাকা :

থানচি, তিন্দু বা রেমাক্রি বাজারে কাঠের ঘরে থাকা যাবে। থাকার জন্য টাকা লাগবে না, তবে খাওয়ার জন্য প্রতি বেলায় জনপ্রতি লাগবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এ ছাড়া গাইডের সহযোগিতায় আদিবাসী গ্রামেও থাকা যেতে পারে। বান্দরবানে রোমাঞ্চকর এরকম দারুণ সুন্দর জায়গাগুলো নিয়ে আমরা তো গর্ব করতেই পারি, বেরিয়ে যেতে পারি অভিযানে।

লিখেছেন-নাজমুল হাসান রাজিব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here