নারকেল তেল ব্যবহার উচিত নয় যে সময়গুলোতে

শুধু চুলের যত্নেই নয়, ত্বকের যত্নেও তেলের রয়েছে দারুণ কার্যকারিতা। ত্বক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারকেল তেল অনন্য একটি উপাদান। স্বাস্থ্যকর রান্না থেকে সৌন্দর্যচর্চা সবখানেই রয়েছে হারবাল এ উপাদানের কদর। এমনকি নারকেল তেলের সুরক্ষাশক্তি আলঝেইমার্স ও ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গঠন করে। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ আমেরিকান নারকেল তেলকে স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন। কিন্তু এর স্বাস্থ্য উপকারিতায় সায় দিয়েছেন কেবল ৩৭ শতাংশ পুষ্টিবিদ। তাদের মতে, সবক্ষেত্রে নারকেল তেল উপকারী বা উপযোগী নয়—

 

ওজন হ্রাস

অনেকের ধারণা, নারকেল তেল ওজন হ্রাস করে। কিন্তু ‘দ্য স্মেল চেঞ্জ ডায়েটের’ রচয়িতা পুষ্টিবিদ কেরি গানস বলেন, নারকেল তেল উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন। যদিও এটিকে অন্যান্য তেলের চেয়ে বেশি স্বাস্থ্য সম্মত বলেই মনে হয়। কিন্তু প্রতি এক টেবিল চামচ নারকেল তেলে থাকে ১১৭ ক্যালরি, যা প্রায় অলিভ অয়েলের সমপরিমাণ। অবশ্য তার মানে এই নয়, এটি ব্যবহার করা যাবে না। শর্ত একটাই, একটু বুঝে ব্যবহার করতে হবে। পরিশোধিত নারকেল তেলের ক্ষেত্রেও পরিমিত ব্যবহার করা চাই।

পরিপূর্ণ ডায়েটে

গানস জানান, প্রতি টেবিল চামচ নারকেল তেলে রয়েছে ১২ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট; যা হূদরোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রতিদিন ১৩ গ্রামের বেশি স্যাচুরেটিড ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত নয়। সে হিসেবে ডায়েটে নারিকেল তেল খুব উপকারী কিছু নয়।

অয়েল পুলিংয়ে

অয়েল পুলিং সম্পর্কে জেনে থাকবেন অনেকে। প্রাচীন আয়ুর্বেদে ডেন্টাল হাইজিন ও মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে তেলের ব্যবহার হয়েছে হরহামেশাই। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে অন্য কথা। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রির গবেষণায় দেখা যায়, ফ্লুরাইড ও হারবাল উপাদান মুখের ব্যাকটেরিয়া হ্রাস করে। এক্ষেত্রে অয়েল পুলিংয়ের ভূমিকা নেই। আপনি যদি রাতে দাঁত ব্রাশ না করে শুধু পানি দিয়েও কুলকুচি করেন তাও ভালো। কিন্তু মুক্তাঝরা সাদা হাসির জন্য নারকেল তেল নিশ্চিতভাবেই সমাধান নয়।

ক্ষত সারাতে

নারকেল তেল শুধু অক্ষত ত্বকেই ব্যবহারযোগ্য। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের কসমেটিক ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইন ডার্মাটোলজির মহাপরিচালক জসুয়া জাইকনার জানান, কাটাছেঁড়া বা খোলা ক্ষততে নারকেল তেল ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া, লালভাব ও চুলকানি হতে পারে।

সানস্ক্রিন হিসেবে

এটা সত্যি, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করতে নারকেল তেল অনেকটা সানস্ক্রিনের মতো কাজ করে। তবে কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, তেলে এসপিএফ মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে আট অব্দি। রোদের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে যা সামান্য। জেইকনার জানান, এটি ট্রেডিশনাল সানস্ক্রিনের বদলে ব্যবহার না করাই ভালো। যদি বাড়তি ময়েশ্চার ও রোদ থেকে সুরক্ষা চান, তাহলে ব্রড-স্পেকট্রাম সানব্লক বেছে নিন। এতে এসপিএফের মাত্রা নিদেনপক্ষে ৩০। আর হ্যাঁ, প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

গোসলের সময়

অনেকে নমনীয়, কোমল ত্বক পেতে গোসলের আগে নারকেল তেল ম্যাসাজ করেন। এটি ত্বক ঠাণ্ডা রাখে ঠিকই, কিন্তু গোসলের সময় ত্বক থেকে ভালোভাবে তেল তুলতে না পারলে তা চিটচিটে ভাব সৃষ্টি করে।

শীতে একেবারেই নয়!

শীতকালে নারকেল তেলের কথা ভুলে যান। এটি আপনাকে উষ্ণ করবে না। কারণ এতে রয়েছে কুলিং ইফেক্ট যা আপনার গ্রীষ্মকালীন সঙ্গী হতে পারে। তাই ঠাণ্ডা মৌসুমে নারকেল তেল দূরেই থাকুক।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক বণিক বার্তা

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here