পছন্দের গয়না কম দামে বানাতে ও কিনতে পারেন ভাকুর্তায়!

মার্কেটগুলোতে সিটি গোল্ড বা এন্টিক নামে এসব গয়না বিক্রি হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় সব বড় বড় শপিং মল, ঢাকার নিউমার্কেট, আজিজ সুপার, চাঁদনীচকসহ সব মার্কেটের গয়না আসে ভাকুর্তা থেকে। মার্কেটগুলোতে সিটি গোল্ড বা এন্টিক নামে এসব গয়না বিক্রি হয়। শুধু দেশে নয়, এখানকার গহনার চাহিদা দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও। একাধিক মালিক ও কারিগররা জানিয়েছেন-তামা, পিতল আর কাঁসা দিয়ে এসব গয়না তৈরি হয়। স্বর্ণ ও রৌপ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এসব গয়নাই এখন বেশি চলছে। বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মেয়েরা এসব গহনার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। ভাকুর্তার কারখানাগুলোতে হাজারো নকশার গয়না পাওয়া যায়। চাইলে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন দিয়েও গয়না তৈরি করানো যায় এখানে।

বাহারি গহনা
বাহারি গহনা

যেভাবে তৈরি হয় গহনা

অপেক্ষাকৃত কম দামের উপাদান রুপা ও তামাসহ ধাতব দ্রব্যের মিশেলে তৈরি হয় নান্দনিক এসব গহনা। কারিগরের নিপুণ হাতে দৃষ্টিনন্দন নকশা আর আকৃতিতে এসব গহনা তৈরি করেন। মেশিনের সাহায্যে ছোট ছোট আকৃতিতে নকশা করে কেটে নিয়ে গহনা তৈরির কাজটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অপরিসীম ধৈর্যের সঙ্গে একটার সঙ্গে আরেকটার সংযোগ ঘটিয়ে তা নান্দনিক গহনায় রূপ দেন কারিগর। আর এই পণ্যগুলো আরও চকচকে ও আকর্ষণীয় করে বাজারজাত করা হয়।

গহনার ডিজাইনভেদে মজুরির পার্থক্য হয়ে থাকে। যেটার কাজ কম সেটার মজুরি প্রতি ভরি ৪০-৪৫ টাকা আর যেটার কাজ বেশি সেটার মজুরি প্রতি ভরি ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত।

গয়নার অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি হয় ভারত থেকে। এরপর পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে সেগুলো কিনে নেন ভাকুর্তার ব্যবসায়ীরা। তবে, এই বাজারে যেটি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ধাপ পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতা পর্যন্ত আসতে আসতে সেটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা।

বাহারি দুল, আংটি
বাহারি দুল, আংটি

সাভারের হেমায়েতপুরের ভাকুর্তা গ্রাম। রাজধানীর লাগোয়া বুড়িগঙ্গার তীরের গ্রামীণ জনপদ ভাকুর্তা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার পেরোলেই তুরাগ নদের ওপর ছোট্ট একটি লোহার সেতু। সেখান থেকে ভাকুর্তা মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নভুক্ত গ্রামের সংখ্যা ৩৬। এই জনপদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে গয়না শিল্প। গ্রামগুলোর মধ্যে চুনারচর, ডোমরাকান্দা, সোলারমার্কেট, খাগুড়িয়া, নলাগুড়িয়া, মোগরাকান্দা, চাপরা, কান্দিভাকুর্তা, হিন্দুভাকুর্তা, বাহেরচর, মুশরিখোলা, ঝাউচর, লুটেরচর, চরতুলাতলি, চাইরা সর্বত্র অলঙ্কার তৈরির একই দৃশ্য।

ভাকুর্তা গ্রামটিতে প্রকাণ্ড একটি বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে বাজারের মাঝখানে। বটগাছ ঘেঁষে সারি সারি গয়না তৈরির দোকান। আছে গয়না তৈরির কাঁচামাল বিক্রির দোকানও। এমনই একটি দোকানের মালিক ও কারিগর মাধব মিত্র বললেন, এই গ্রামের সবার পেশা গহনা গড়া। এদের কেউ গয়নার কাঁচামাল যোগান দেন, কেউবা ডাইস বানানোর কাজ করেন। আবার কেউ গয়নাগুলো জিঙ্কে দস্তা ধুয়ে রং বের করেন।

বাহারি চুড়ি
বাহারি চুড়ি

ভাকুর্তা গ্রামের অর্চনা রানী, ফিরোজা, আফলিনরা ঘর সংসার সামলানোর পাশাপাশি তারা গয়না তৈরি করে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন। অবসরে গয়নার কাজ করে ছেলেমেয়েরা নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেরা বহন করতে পারে। গহনা ব্যবসায় সফল মনোরঞ্জন দাস, মহাদেব দাস, সুধীন দাস, সুশীল দাস, হাবিবুর রহমান, রফিকুল ইসলামসহ ভাকুর্তার অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। তাদের কারও কারও অধীনে ৫/৭ কর্মচারী কাজ করেন। ব্যবসার সফলতায় কেউ কেউ জমি কিনে পাকা বাড়িও নির্মাণ করেছেন বলে জানালেন। শুধু স্থানীয় লোকজনই নয়, এই পেশার সঙ্গে যুক্ত দেশের অন্য জেলার বাসিন্দারাও। তারাও নিরলস কাজ করছেন এখানে। ভাকুর্তা ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারেরই কমপক্ষে একজন করে হলেও এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

গহনা
গহনা

তবে রাজধানীর লাগোয়া হলেও ভাকুর্তার যোগাযোগ অবস্থা তেমন একটা ভাল না। ইউনিয়নের প্রধান সড়কটির স্থানে স্থানে গর্ত। ধুলোবালির জন্য পায়ে হেঁটে পার হওয়াটাও একটু কষ্টদায়ক। এক সময় অবহেলিত জনপদ ছিল ভাকুর্তা। শিক্ষার দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। বেকার জীবনযাপন ছিল বেশিরভাগ মানুষের। এই জনপদে আজ আর কেউ বেকার নেই। শীতকাল ও ঈদের সময় অর্ডার বেশি হয়, তখন দিনরাত কাজ করতে হয়।

সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ/ প্রিয় ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here