পপকর্ণ খেলে ভুলে যাবেন বিজ্ঞাপনের কথা!

0
279

সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় ছবি দেখার মজাই আলাদা, সে কারণেই তো বন্ধুরা সবাই মিলে দল বেঁধে মুভি দেখতে যাচ্ছে এই দৃশ্যটি এখন খুবই কমন। তবে মুভির সঙ্গে চাই চিপস, পপকর্ন৷ কিন্তু আপনি জানেন কি, মুখ চললে মনোযোগ নাকি অনেক কমে যায়?

বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য জার্মানির কোলোনের এক সিনেমা হলে একদল দর্শক পপকর্ন দেয়া হয়, অন্য দলকে তা দেওয়া হয় না। তাদের কাছে প্রশ্ন করা হলো, হলে বসে পপকর্ন চিবিয়ে খাওয়ার সময় কি মনোযোগ কমে যায়? কোলোনের মনোবিজ্ঞানী সাশা টোপোলিনস্কি সেটাই মনে করেন৷ তার তত্ব অনুযায়ী পপকর্ন খেতে খেতে বিজ্ঞাপন দেখলে পরে তা আর মনে থাকে না৷

নতুন পণ্যের নাম তখনই মনে থাকে, যখন সেটা একবার মুখে আওড়ানো যায়৷ টোপোলিনস্কি বলেন, ‘‘এই সিনেমা হলে আমরা যাদের পপকর্ন খেতে দিয়েছি, তারা অবচেতন মনে মুখ খুলে পণ্যের নাম বলার সুযোগ পাচ্ছে না৷ এক সপ্তাহ পরে আমরা দেখবো, এদের উপর বিজ্ঞাপনের আদৌ কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা৷”

এরা নতুন পণ্যের নাম মনে করতে পারছে কিনা, তাদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে তা বোঝা যায়৷ ফলাফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, যে পপকর্ন-খাদকরা সিনেমা হলে দেখা বিজ্ঞাপন মনে করতে পারছে না বললেই চলে৷ যারা খায়নি, তাদের মনে কিন্তু বিজ্ঞাপনটি দাগ কেটেছে৷ টোপোলিনস্কি বলেন, ‘‘এই পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, পপকর্ন খেলে মুখ ব্যস্ত থাকে৷ তখন স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়৷ অর্থাৎ শরীরের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে৷ যেমন নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে মুখ খোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷”stock-photo-seeing-it-in-d-friends-sitting-and-eating-popcorn-together-while-watching-movies-at-the-cinema-342826676

কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে৷ যারা পণ্যের নাম যাকে বলে শরীরের মধ্যেই ধারণ করেছে, তাদের মনে সেটি সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷

টোপোলিনস্কি মনোবিদ্যার নতুন এক শাখার প্রতিনিধি, যার নাম এমবডিমেন্ট৷ শরীরের নড়াচড়ার সাহায্যে বিমূর্ত বার্তা গ্রহণ করাই এর মূলমন্ত্র৷ যেমনটা মানুষের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদানের সময় ঘটে৷ পপকর্ন নিয়ে পরীক্ষা প্রাথমিক এক দৃষ্টান্ত মাত্র৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা এবং অন্য অনেক এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে দেখা যায় যে স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে শরীরের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে৷ যেমন কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা তার উপর নির্ভর করে৷”

এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞাপন শিল্প গবেষণার এই ফলাফল সম্পর্কে সচেতন নয়৷ ফলে তারা কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারেনি৷ এ কথা জানতে পারলে তারা হয়তো সিনেমা হলে পপকর্ন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করবে! কিন্তু সিনেমা হলে বসে পপকর্ন চিবাতে না পারলে আর মজা কীসে! দেখাই যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here