পরিবেশ, মানুষ ও সমুদ্র রক্ষায় নতুন ভাবনা

সমুদ্রতলে বিস্তীর্ণ এ জাদুঘরের প্রধান অংশে রয়েছে দলবদ্ধ ৩৫টি মানবভাস্কর্য, যেখানে দলবেঁধে নর-নারী সদর দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলায় “জাদুঘর” কথাটির অর্থ হল, “যে গৃহে অদ্ভু অদ্ভুত পদার্থসমূহের সংগ্রহ আছে এবং যা দেখে মন্ত্রমুগ্ধবৎ হ’তে হয়।” আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান মতে, “জাদুঘর” শব্দের অর্থ, “যে-ঘরে নানা অত্যাশ্চর্য জিনিস বা প্রাচীন জিনিস সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আটলান্টিকের প্রথম ডুবো জাদুঘরটি যেন একটু আলাদা।

নীলাভ সমুদ্রজল। জলের অনেক নিচে যেন আরেক মানবরাজ্য। সেখানে সবাই কেমন যেন রহস্যময় সময় পার করছে। অস্থিরতা ও অবসন্নভাব। যেন এখনই ছাড়তে হবে মায়ার রাজ্য। দলে দলে তারা হেঁটেও যাচ্ছে। আবার বরফে জমে যাওয়া মানুষের মতো নৌকায় এলোপাতাড়িভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে অনেকে। সবই ঠিক ছিল, অথচ এখন তা স্থবির…। এরা কারা? কিসের এত বিষণ্নতা?

জাদুঘরটি ডুবুরিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
জাদুঘরটি ডুবুরিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

ইউরোপ ও আটলান্টিক মহাসাগরের সর্বপ্রথম ডুবো শিল্প জাদুঘর ‘মিউজিও আটলান্টিকো’। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে স্পেন শাসিত ল্যাঞ্জারোতে দ্বীপ অঞ্চলে পানির ১৪ মিটার গভীরে অবস্থিত এ জাদুঘর। ব্রিটিশ ভাস্কর ও বিশ্বের প্রথম সমুদ্রতলে ভাস্কর্য পার্কের প্রতিষ্ঠাতা জেন ডিকেয়ার টেইলর সমুদ্রতলে মানুষ ও প্রকৃতির বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য বসিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এসব ভাস্কর্য প্রতিনিধিত্ব করছে সাম্প্রতিক গ্লানিকর বৈশ্বিক ঘটনাবলিকে। ডুবো গ্যালারিতে ডাল-পাতা ছড়িয়েছে একটি জলনিমগ্ন উদ্ভিদ উদ্যান, যা শিল্প ও প্রকৃতির সঙ্গে স্থানীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা জানান দেয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জাদুঘরটি ডুবুরিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

‘দ্য রাফট অব লাম্পেডুসা’। সেখানে একটি নৌকায় কিছু নর-নারী বসে রয়েছে সেবা ও সাহায্যের আকাঙ্ক্ষায়।
‘দ্য রাফট অব লাম্পেডুসা’। সেখানে একটি নৌকায় কিছু নর-নারী বসে রয়েছে সেবা ও সাহায্যের আকাঙ্ক্ষায়।

সমুদ্রতলে বিস্তীর্ণ এ জাদুঘরের প্রধান অংশে রয়েছে দলবদ্ধ ৩৫টি মানবভাস্কর্য, যেখানে দলবেঁধে নর-নারী সদর দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতীকী এ কাজ নির্দেশ করছে একটি বাণী— আর ফেরা নয়, আমরা চলে যাচ্ছি অন্য কোনো পৃথিবীতে; প্রবল সংকটসীমা যেখানে স্পষ্ট। দ্বিতীয় দফায় দৃশ্যমান চলমান মানবিক সংকটের উপস্থাপনা ‘দ্য রাফট অব লাম্পেডুসা’। সেখানে একটি নৌকায় কিছু নর-নারী বসে রয়েছে সেবা ও সাহায্যের আকাঙ্ক্ষায়।

ডিকেয়ার টেইলর বলেন, তার এ কাজগুলো ফরাসি চিত্রকর থিওদোর জেরিকোর ‘দ্য রাফট অব মেডুসা’র ধারণা নিয়ে করা। এ ছবির ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমকালীন শরণার্থী সংকটের ব্যাপারটিকে তুলনা করেছেন টেইলর। বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়গুলোর সমষ্টিগত দায়িত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ভাস্কর্যগুলো স্মারক হিসেবে অবস্থান করছে বলে জানান টেইলর। উপরন্তু প্রকল্পটি একটি পরিবেশবান্ধব স্তরের কথা চিন্তা করে নকশা করা হয়েছে; স্থানীয় মাছের জন্য যেখানে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর। ‘পরিবেশ, মানুষ ও সমুদ্র রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান হিসেবে মিউজিও আটলান্টিকো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে’— বলেন টেইলর।

সূত্র: ডিজাইনবুম / বণিকবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here