পুষ্টিগুণে ভরপুর বেদানা

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা যেমনি পূরণ করছে, তেমনি প্রয়োজনের তাগিদে ও বেঁচে থাকার নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে প্রকৃতি থেকেই সে আবিষ্কার করছে রোগ মুক্তির উপায়। এমনিই একটি জনপ্রিয়, সুমিষ্ট ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ফল বেদানা। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বেদানার চাষাবাদ না হলেও সারাদেশ জুড়ে বসতবাড়ির আঙ্গিনায়ও ফলটির চাষাবাদ পরিলক্ষিত হয়। এটির জন্মস্থান ইরান এবং ইরাক হলেও প্রাচীনকাল থেকেই ইন্দো-ইউরোপীয় অঞ্চলে এর চাষ হয়ে আসছে। সেখান থেকেই এশিয়া অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটে। তবে বেদানা বেশ পুষ্টিকর ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। এতে ভিটামিন সি রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেই বেদানার কিছু বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

pomegranate-juice

বেদানার পুষ্টি উপাদান (প্রতি ১০০ গ্রাম) রয়েছে : শক্তি ৩৪৬ কিলোক্যালরী, শর্করা ১৮.৭ গ্রাম, গ্লুকোজ ১৩.৭ গ্রাম, আমিষ ১.৭ গ্রাম, মোট স্নেহ বা চর্বি ১.২ গ্রাম, কোলেস্টরল ০, হজমযোগ্য আঁশ ৪ গ্রাম, ফোলেট (ভিটামিন বি৯) ৩৮ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩) ০.২৯ মিলিগ্রাম, থায়মিন (ভিটামিন বি১) ০.০৭ মিলিগ্রাম, পাইরিডক্সিন (ভিটামিন বি৬) ০.০৮ মিলিগ্রাম, রিবোফ্ল্যাবিন (ভিটামিন বি২) ০.০৫ মিলিগ্রাম, পানটোথেনিক এসিড (ভিটামিন বি৫) ০.৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৩৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম এবং জিঙ্ক ০.৩৫ মিলিগ্রাম। উপকারী এবং আরোগ্যক্ষম কার্যকারিতা : * ডায়রিয়া প্রতিরোধে : ডায়রিয়ার সমস্যায় বেদানার জুস খুব উপকারী। দিনে ২-৩ বার বেদানার জুস খেতে পারলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। * ইমিউন সিস্টেম মজবুত করতে : শীতের সময় সর্দি, কাশি, জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য বেদানার জুস খুব উপকারী। * কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে : বেদানায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে টক্সিন দূর করে ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। * হার্টে অক্সিজেন সরবরাহ ও রক্ত চলাচলে : ৩ মাস প্রতিদিন এক কাপ করে বেদানার রস খেলে করোনারি হার্ট ডিজিজের রোগীর হার্টের মাসলসে অক্সিজেন সরবরাহ ভাল হয়। * এসিডিটি কমাতে : রান্না করা খাবারের সঙ্গে বেদানা মিশিয়ে খেলে এসিডিটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। * প্রেগনেন্ট মহিলাদের জন্য : গবেষণায় জানা যায়, লো-অক্সিজেন বা রিডিউসড ব্লাড ফ্লো-এর কারণে ব্রেন ইফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বাচ্চাকে রক্ষা করতে বেদানা সাহায্য করে।

সবশেষে এ সত্যটি মনে রাখুন-আম, জাম, তাল, বেল, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পুষ্টি গুণে, স্বাদে ভরা আরো কত কিছু তাই এই বর্ষায় ফলের চারা রোপণ করুন-পুষ্টির অভাব দূর করুন।

লেখক : চিকিৎসক কলামিষ্ট মাওলানা লোকমান হেকিম।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here