বই ভালো থাকুক

বই ভালো রাখতে বইয়ের যথাযথ যত্নের কোনো বিকল্প নেই।

আপনি হয়তো বই পড়তে খুব ভালোবাসেন, তাই বইয়ের দোকানে গেলে কখনো খালি হাতে ফেরেন না। ফলে বাড়িতে বইয়ের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে কেনা সাধের বইটা হাতে নিয়ে পাতা ওলটাতেই দেখলেন বইটার বেশ কয়েকটা পাতা পোকায় কেটে দিয়েছে! বইয়ের এ অবস্থা দেখে আপনার মনটাও খুব খারাপ হয়ে গেল। তাই শুধু বই কিনে সাজিয়ে রাখলেই হবে না, বইয়ের একটু যত্নও নিতে হবে। বই ভালো রাখতে বইয়ের যথাযথ যত্নের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কীভাবে নেবেন বইয়ের যত্ন? জেনে নিন সহজ কিছু টিপস।

আপনার করণীয়

প্রথমে আসি স্টোরিংয়ের কথায়

কাচের পর্দা দেয়া তাক বানিয়ে নিতে পারেন।
কাচের পর্দা দেয়া তাক বানিয়ে নিতে পারেন।

বই দীর্ঘদিন ধরে ভালো রাখতে হলে সঠিক উপায়ে স্টোর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বই ঘরের এমন স্থানে রাখুন, যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না। তাহলে বইয়ের রঙ ও লেখা হালকা হয়ে যাবে না। ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে বই রাখুন, তাহলে বইয়ে ড্যাম্প ধরবে না। যে বইগুলো কম পড়েন, সেগুলো উপরের তাকে রাখুন আর দরকারি বইগুলো নিচের তাকে রাখুন, তাহলে প্রয়োজনের সময় হাতে নিতে সুবিধা হবে। সেলফে বই সাজানোর সময় উচ্চতা অনুযায়ী (ছোট থেকে বড়) সাজান, তাহলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে, নামাতেও তেমনি সুবিধা হবে। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি কাচের পর্দা দেয়া তাক বানিয়ে নিতে পারেন। এতে ধুলা জমার সম্ভাবনা কম থাকবে।

বই পড়ার সময়

অবশ্যই পরিষ্কার ও শুকনা হাতে বই ধরবেন। অনেকের বই পড়তে পড়তে বইয়ের পাতা ভাঁজ করে রাখার বদ অভ্যাস থাকে, এতে বইয়ের পাতা ছিঁড়ে যেতে পারে। তাই পাতা ভাঁজ করে রাখার পরিবর্তে পেজ মার্কার ব্যবহার করুন।

বইয়ের কাছে চা বা কফি রাখবেন না।
বইয়ের কাছে চা বা কফি রাখবেন না।

বইয়ের কাছে চা বা কফি রাখবেন না, এতে চা বা কফি পড়ে গিয়ে বইয়ে দাগ হতে পারে।

পুরনো বইয়ের বাড়তি যত্ন

পুরনো বইয়ের পাতা ছিঁড়তে শুরু করলে নতুন করে আবার বাঁধিয়ে নিন, তাহলে আরো কয়েক বছর বই ভালো থাকবে।

বই বাঁধাতে যে আঠা ব্যবহার করা হয়, তাতে অনেক সময় পোকা হতে পারে, তাই বইয়ের তাকে ন্যাপথলিনের বল, শুকনা মরিচ বা নিমপাতা-জাতীয় কিছু রাখতে পারেন, তাহলে বইয়ে পোকা হবে না।

খেয়াল করুন

বই সবসময় যত্নসহকারে ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন ধুলা ঝাড়তে পারলে ভালো হয়। বই পড়া শেষে যেখান থেকে নিয়েছেন, সেখানেই রাখুন। বই ভাঁজ করে পড়বেন না, এতে বইয়ের পাতা খুলে যেতে পারে।

লিখেছেনঃ রবিউল কমল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here