বন্ধুর জন্মদিনে কী উপহার দেবেন?

0
1513
বন্ধুর মনমতো একটা উপহার দেয়া তো অত্যাবশ্যক

বছরে একটা দিন ঘটা করে একজনকে উপহার দেয়া, তাকে নিয়ে হৈহল্লা করা, পার্টি করা, তাকে খুশি করার একটু চেষ্টা করা- এরই নাম তো প্রিয় বন্ধুর জন্মদিন! পৃথিবীতে আসতে পেরে সে যেমন খুশি, তাকে পৃথিবীতে আনতে পেরে তার বাবা মাও যেমন খুশি, বন্ধু হিসেবে আপনার খুশিটাও কিন্তু কোন অংশে কম নয়!

আজকালকার যুগে “গিফটের বিনিময়ে ট্রিট” যখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন বন্ধুর মনমতো একটা উপহার দেয়া তো অত্যাবশ্যক। কিন্তু উপহার কিনতে যেয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না এমন মানুষ বিরল। তাই বন্ধুকে উপহার হিসেবে কি দেয়া যেতে পারে তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

মেয়েদের জন্য উপহার কেনাটা তুলনামুলকভাবে বেশ সহজ
মেয়েদের জন্য উপহার কেনাটা তুলনামুলকভাবে বেশ সহজ

বন্ধু যদি মেয়ে হয়

মেয়েদের জন্য উপহার কেনাটা তুলনামুলকভাবে বেশ সহজ। কেননা আর কিছু নাহলেও গয়নাগাটি বা একটা পুতুল দিয়ে তাদের খুশি করে উপহার না দেয়ার বদনামের হাত থেকে তো নিস্তার পাওয়া যায়!

এতো গেল একেবারেই সাদামাটা উপহারের কথা। বন্ধুকে যদি স্পেশাল ফিল করাতে চান তবে অবশ্যই তাকে এমন কিছু উপহার দিতে হবে যাতে থাকবে আপনার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার ছোঁয়া আর যা ছুঁয়ে যাবে তার ব্যক্তিত্বকে।

আপনার বন্ধু যদি ট্রেন্ডি হয় তাহলে তাকে উপহার দিতে পারেন মোবাইলের ফ্লিপ কভার, মেকআপ কিট, ডিজাইনড মগ, নোট খাতা, ডিজাইনড নকল নখ, ঘড়ি, টপস, চকোলেট এ ধরণের যেকোনো কিছু। প্রতিটি গিফটকে অন্যদের দেয়া গিফটের চেয়ে একটু আলাদা করতে চাইলে গিফটের সাথে দিতে পারেন হাতে বানানো কোন কার্ড বা মিষ্টি একটি চিরকুট।

আর বন্ধু যদি ক্ল্যাসি হয় তাহলে তো আরও ভালো কথা। তাকে উপহার দিন বই, ঘড়ি, সুগন্ধি মোমবাতি, তার পছন্দের পুরনো দিনের চলচ্চিত্রের সিডি, পেন্ডেন্ট, একটি ক্ল্যাসিক লিপস্টিক বা আই শ্যাডো বক্স। প্রিয় মানুষটার মুখে হাসি ফুটাতে আর কি লাগে!

চকোলেট, কার্ড, মগ বা বই জাতীয় উপহারগুলো প্রায় সবার জন্যই খাটে
চকোলেট, কার্ড, মগ বা বই জাতীয় উপহারগুলো প্রায় সবার জন্যই খাটে

বন্ধু যদি হয় ছেলে

মেয়েদের জন্য উপহার কেনা যত সোজা, ছেলেদের বেলায় কিন্তু কাজটা এতো সহজ না। চাইলেই তো আর একটি লিপস্টিক, নেইল পলিশ দিয়ে তাকে খুশি করতে পারবেন না! কাজেই ছেলেদের জন্য উপহারের ক্ষেত্রে তালিকাটা হবে একটু ভিন্ন।

চকোলেট, কার্ড, মগ বা বই জাতীয় উপহারগুলো প্রায় সবার জন্যই খাটে। কাজেই চাইলে বন্ধুকে এসব উপহার দিয়ে দিতে পারেন অনায়াসেই। কিন্তু যদি তাকে স্পেশাল ফিল করাতে চান তাহলে তো একটু মাথা খাটাতে হবে।

সানগ্লাস, টাই-টাইপিন, ওয়ালেট, কাফলিংক বা কাফবোতাম, ঘড়ি, টিশার্ট, ব্যক্তিগত ছবিসহ ছবির ফ্রেম, কার্ড হোল্ডার, পেনসহ পেন হোল্ডার, পারফিউম বা বডি স্প্রে, চাবির রিং এ ধরণের উপহারগুলো প্রায় সব বয়সী ছেলেদের সাথে খুব ভালো যায়। তারপরও আপনার যদি মনে হয় আপান্র বন্ধুর বিশেষ কোন ভালো গুণ আছে তাহলে তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী গিটার, ক্যামেরার লেন্স, হেলমেট জাতীয় যে কোন কিছু উপহার দিতে পারেন।

বাজেট কম হলে কি করবেন?

বন্ধুর জন্মদিন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে আর আপনার হাতে টাকা পয়সা খুব বেশি নেই, কি করা যায় এই অবস্থায়? এক্ষেত্রে দুটি কাজ করতে পারেন। এক, নিজের মতো করে হাতে তৈরি বিশেষ কোন উপহার দেয়া অথবা দুই, বন্ধু-বান্ধবরা সবাই মিলে দল বেঁধে একটি বড় উপহার দেয়া।

আপনি যদি একা হাতে তৈরি কিছু দিতে চান সেক্ষেত্রে কার্ড, মোবাইলের ফ্লিপ কভারের উপর আপনার আঁকা নকশা, শো পিস যেমন কাঠের ঘর বা কাগজের ফুল, কাঠের উপর খোদাই করা বন্ধুর নাম বা আপনাদের বন্ধুত্বের সংজ্ঞা, মগের উপর আঁকা আপনাদের দুজনের ছবি এধরণের যেকোনো উপহার বেশ ভালো কাজে দেবে।আর এক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ২০০-৫০০ টাকার ভিতরে।

আর যদি বন্ধু বান্ধব সবাই মিলে কিছু দিতে চান, তাহলে স্মার্ট ফোন প্রোজেক্টর, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট, রেট্রো গেমস কন্ট্রোলার, গিটার বা লেন্সের মতো বড় জিনিসগুলো দিতে পারবেন সহজে। তাছাড়া সবাই মিলে রাত ১২টায় বন্ধুর বাসায় কেক নিয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে চমকে দিলে এর চেয়ে বড় উপহার আর কি হতে পারে?

একটি কথা মনে রাখবেন, উপহারের ক্ষেত্রে দাম নয় আপনার আন্তরিকতা যেন ঠিকমতো বোঝা যায় তা নিশ্চিত করতে না পারলে উপহার দেয়ার উদ্দেশ্যটাই কিন্তু মাটি হয়ে যাবে। কাজেই উপহার দিন ভেবে চিন্তে আর বন্ধুর মুখে ফুটিয়ে তুলুন চওড়া একটি হাসি।

তথ্যসূত্রঃ কসমোপলিটন ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here