বর্ষায় অন্দর

বর্ষায় অন্দর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলি ফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশটা।

আর্টস্টাইল কিউরেটর  

বাইরে বৃষ্টি, কিন্তু ঘরে তার আমেজ নেই! বরং স্যাঁতসেঁতে ভাপসা ভাব। কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতেই এমন হয়ে যেতে পারে। এসব সমস্যা নিয়ে কথা হলো গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের উপাধ্যক্ষ নিশাত পারভীনের সঙ্গে। তিনি জানান, আসবাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে আর ঘরের মধ্যে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে এই মৌসুমেও ঘর থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।

দেয়ালে বর্ষা, বাতায়নে বর্ষা
বৃষ্টি এলেই ঘরের জানালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে বৃষ্টির ছাট এলে ভিজে যেতে পারে জানালায় ঝোলানো পর্দাগুলো। তাই এ সময় এমন কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত, যেন তা ভিজে গেলেও সহজেই শুকিয়ে যায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ পর্দা ভেজা থাকলে পুরো ঘরের ছড়িয়ে পড়তে পারে সোঁদা গন্ধ। পলিয়েস্টার, রেশম বা পাতলা সুতির কাপড়ে তৈরি পর্দা এ সময়টার জন্য বেশ উপযোগী।
বৃষ্টি থেমে গেলে খুলে দিন জানালা, সরিয়ে দিন পর্দা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটাও বন্ধ থাক খানিকটা সময়। প্রাকৃতিক হাওয়া ঘরে এলে ঘরের গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ঘরের স্যাঁতসেঁতে ভাব এড়াতে হলে খেয়াল রাখুন, ঘরে কোনো ভেজা জিনিস যেন না থাকে। ভেজা জুতা, ভেজা মোজা বা ভেজা কাপড়, যেকোনোটির জন্যই ঘরে সোঁদা গন্ধ পাবেন আপনি। ঘরের ভেতরের দেয়াল বা মেঝে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। দেয়াল বা ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়লে নির্মাণকর্মীদের দিয়ে দেয়াল বা ছাদের সমস্যাটি সারিয়ে নিন তাড়াতাড়ি।

বইয়ের তাক
যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বইগুলোতেও বর্ষার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত যে বইগুলো একটু কম নাড়াচাড়া হয়, সেগুলো এই মৌসুমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। শখ করে কেনা হোক বা প্রয়োজনীয় কোনো বই, মাঝেমধ্যেই সেগুলোকে বইয়ের তাক থেকে নামিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। এতে বইগুলো ভালো থাকবে বহুদিন। এ ছাড়া বইয়ের তাকে শুকনো নিমপাতা রাখতে পারেন।
কোনো বইয়ের পাতায় বা মলাটে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা গেলে অপেক্ষা করুন রোদের জন্য। যেদিন খানিক রোদের দেখা মিলবে, সেদিন বইগুলোকে বারান্দায় রোদে রাখুন কিছুটা সময়ের জন্য।

ভেজা কাপড়, শুকনো কাপড়
এই সময়টায় ভেজা কাপড় শুকাতে গিয়ে পোহাতে হয় ঝক্কি। বাড়িতে যদি এমন ওয়াশিং মেশিন থাকে, যেটিতে কাপড় শুকিয়ে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে, তাহলে সেটি এই সময়টায় বেশ উপকারে আসবে।
এ ছাড়া যেটুকু সময় রোদ থাকে, সেটুকু সময়ে কাপড় শুকাতে দিতে চেষ্টা করুন। তবে কখনোই গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকাবেন না। এতে দেশের মূল্যবান সম্পদের যেমন অপচয় হয়, ঠিক তেমনি এর থেকে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
আবার যে ঘরে কোনো মানুষ নেই, সেই ঘরে ফ্যান চালিয়ে রেখে কাপড় শুকানোও উচিত নয়। এই বাদলবেলায় একটু রোদের অপেক্ষাতেই না হয় থাকা হোক।
আলমারি বা ওয়্যারেড্রাব থেকে কাপড় বের করার পর অবশ্যই তা ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে। কাঠের তৈরি আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো হলো কি না, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, কারণ এগুলো অনেক সময়ই সঠিকভাবে লাগাতে পারা যায় না। আসবাবপত্র সঠিকভাবে লাগানো না হলে ভেতরে থাকা কাপড়গুলো বাতাসের আর্দ্রতার কারণে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়তে পারে।

ফুলে সুরভিত ঘর
হালকা ঘ্রাণযুক্ত ফুল ঘরে রাখা যেতে পারে। তাজা বেলি ফুলের একটা মালা ঘরে রেখে দেখুন, সতেজ হয়ে উঠবে ঘরের পরিবেশটা। সুগন্ধি অন্য কোনো ফুলও পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গন্ধরাজ ফুলের মতো যেসব ফুলের পাপড়ি একটু পুরু, সেগুলো বেশ কিছুদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়। তবে ফুলদানি বা বোতলে পানি দিয়ে ফুল রাখলে অবশ্যই প্রতিদিন পানি পাল্টে দিতে হবে। ফুল সতেজ থাকা অবস্থায় যদি ফুলের ডাঁটার কোনো অংশ পচে যায়, তাহলে পচা অংশটুকু কেটে ফেলে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here