বর্ষায় সাদামাটা সাজ-পোশাকেই স্বস্তি  

বর্ষায় সাদামাটা সাজ-পোশাকেই স্বস্তি  
নীল-সাদা, সাদা-ধূসর, সবুজ-নীল অথবা হালকা গোলাপী ধরনের মোটিভের ওপরেই সাধারণত বেশির ভাগ বর্ষা আবহের নকশাগুলো ফুটে ওঠে। এ সময় কাপড়ে হালকা বা স্নিগ্ধ রংয়ের প্রাধাণ্য রাখুন।

নীলিমা দোলা    

বর্ষার আকাশ। হঠাৎ ই মেঘের ধূসর আর ময়ূরের নীল ভেঙে পড়ল রাজ্যের সমস্ত সবুজে। ঝুম বৃষ্টি! শরীর ভিজে গেল। ভিজল পোশাকও। জ্যৈষ্ঠের আচমকা বৃষ্টি তো এমনই। বলা নেই কওয়া নেই, ভিজিয়ে দেবে। এই-ই শেষ নয়, আষাঢ়, শ্রাবণ আর ভাদ্র তো পড়েই রইল।

কথায় আছে, ‘পচা ভাদ্র’। অর্থাৎ প্রকৃতিতে বৃষ্টি থাকবে আরও তিন মাস। বৃষ্টির ছন্দ, শব্দ, স্বাদ, গন্ধ, স্পর্শ, টংকার, মৃদু কোলাহল থাকবে হৃদয় জুড়ে। এটা শুধু অনুভবে না রেখে পোশাকের নকশায়ও এর সৌন্দর্য উপভোগ করুন।  

ফাগুন, শীত, গ্রীষ্মের বৈচিত্র অনুযায়ী তো ঠিকই আলাদা আলাদা ধরণ ও নকশার পোশাক ব্যবহার করেন, আর বর্ষা প্রকৃতির আবহসম্বলিত ভিন্ন ঢঙ, রং ও গড়নের পোশাক ব্যবহার করবেন না, তা কি হয়? এ মৌসুমে চলাফেরায় সচ্ছন্দ আর ফ্যাশনে বৈচিত্র আনতে দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ বর্ষা উপলক্ষে নতুন নকশার পোশাক বাজারে ছেড়েছে। তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রে আছে এসব বাহারি নকশার কাপড়।

এ সময়ে বৃষ্টিবান্ধব হালকা-পাতলা পোশাক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা এও বলছেন, সাজটাও হবে সাদামাটা। তবেই স্বস্তি মিলবে। বর্ষা মৌসুমে পোশাকের রং নির্বাচন বিষয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার অদিতি মৃন্ময়ী বলেন, এ সময় কাপড়ে হালকা বা স্নিগ্ধ রংয়ের প্রাধাণ্য রাখুন। নীল-সাদা, সাদা-ধূসর, সবুজ-নীল অথবা হালকা গোলাপী ধরনের মোটিভের ওপরেই সাধারণত বেশির ভাগ বর্ষা আবহের নকশাগুলো ফুটে ওঠে। রং যত হালকা হবে, আপনার পোশাক ততই ট্রেন্ডি লাগবে।’

তিনি আরও বলেন, হ্যান্ড পেইন্ট, ব্লক অথবা অ্যাপ্লিকের মাধ্যমেও পোশাকে বার্ষার আমেজ ফুটিয়ে তোলা যায়, ভালোই মানায়। সারাক্ষণই আকাশে এই রোদ, এই বৃষ্টির খেলা।  

নারীরা এ সময় পোশাক হিসেবে সিল্ক, জর্জেট, মসলিন ও টিস্যুর কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরণের কাপড় হুটহাট ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়। যারা শাড়ি পরতে চান এসময় তারা শর্ট হাতা অথবা স্লিভলেস ব্লাউজ ব্যবহার করতে পারেন। তাতে সচ্ছন্দ পাবেন। রাতে অনুষ্ঠান থাকলে ডিপ ব্লু বা অ্যাশ হ্যান্ডপেইন্টেড মসলিন কাপড় পরে নিতে পারেন। আর একেবারে হালকা পোশাক পরতে চাইলে ব্লু জিনসের সাথে টপস, টি-শার্ট, শার্ট কিংবা ফতুয়া ব্যবহার করতে পারেন। রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকলে এসব পোশাকও পরিবেশ অনুযায়ী বেশ মানিয়ে যাবে। গহনা হিসেবে শঙ্খের চুড়ি ও মালা ব্যবহার করতে পারেন। পালক দিয়ে তৈরী গহনাও সাজে আনবে বর্ষার আমেজ। এছাড়া মুক্তা, ঝিনুক, কড়ি বা শামুকের গহনাও যে কোনো ধরনের সাজ-পোশাকের সঙ্গেই দারুন মানিয়ে যায়।

আপনার হ্যান্ডব্যাগটি অবশ্যই পানিনিরোধক হওয়া চাই। এতে প্রয়োজনীয় ছোট-খাটো প্রসাধনী রাখুন। বহনযোগ্য এসব প্রসাধনী পানিরোধক হলেই ভালো। টিস্যু, লিপস্টিক, চিরুনি, রুমাল, কাজল, আয়না ইত্যাদি হাত ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। এগুলো সঙ্গে থাকলে হুট করে ভিজে গেলেও মূহুর্তেই নিজেকে তৈরি করে নিতে পারবেন।

নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও বর্ষার পোশাক হিসেবে ধূসর, নীল বা সাদা শার্ট, টি-শার্ট বা পাঞ্জাবী ব্যবহার করতে পারেন। পায়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল রাখুন, বৃষ্টি-কাঁদার হাত থেকে রেহাই মিলবে। এটা ফ্যাশনেবলও। ছেলেরা পাম্প শুও ব্যবহার করতে পারেন। এ সময় চুলের জেল এড়িয়ে চলুন, মাথার ত্বক ভালো থাকবে।

ঢাকায় গ্রমীন ইউনিক্লো, ফ্যাশন হাউস ইন্ডিগো, অঞ্জনস এবং নন্দন কুটিরে চলছে বর্ষার পোশাকের প্রদর্শনী। এছাড়া সব ধরনের ফ্যাশন হাউজগুলোয় কম-বেশি বর্ষার পোশাকের দেখা মিলবে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here