বাংলাদেশী রইস যুক্তরাষ্ট্রে অহিংসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন

রইস বলেন, ইসলাম বলে, একজনের জীবন বাঁচানো মানে গোটা মানবজাতির জীবন বাঁচানো।

রইস ভূঁইয়া, জন্ম বাংলাদেশে। তবে ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন আমেরিকা যাবেন। ভক্ত ছিলেন হলিউডি সিনেমার। বলতে গেলে সেখান থেকেই আমেরিকার প্রতি এক ধরনের মোহ তৈরি হয় তার। তার ভাষায়, আমার শিশুমনেই আমেরিকা সম্পর্কে একটা স্বপ্ন দানা বাঁধে। আমি মনে করতাম আমেরিকা একটা দারুণ দেশ! আমার মনে আছে, প্রচুর ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখতাম, আমার স্বপ্ন ছিল একদিন আমি ‘দ্য ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ এ যাবো, সেখানকার সবকিছু নিজ চোখে দেখবো।

শৈশবের সেই তাড়না থেকেই ২০০১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে পাড়ি জমান রইস। যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর ঠিক তিন মাস পরেই ঘটে ভয়াবহ নাইন ইলেভেন। দেশজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ইসলামভীতি, মুসলিম বিদ্বেষ। এই সন্ত্রাসী হামলার দশদিন পর নিজে শিকার হন সাম্প্রদায়িক হামলার।

রইস এখন ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।
রইস এখন ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।

রইস কাজ করতেন একটি গ্যাস পাম্পে, কাউন্টার অফিসার হিসেবে। সেদিনও কাজ করছিলেন। হঠাৎ বন্দুকধারী এক শ্বেতাঙ্গ এসে তার কাউন্টারের সামনে দাঁড়ায়। হাতে তার দুইনলা শটগান। সরাসরি তার মুখের দিকে তাক করা। কোনো কথা না বলেই ওই শ্বেতাঙ্গ ট্রিগার টানে। রইসের মুখ ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

রইসের বর্ণনায় সেই হামলার ঘটনাটি শুনুন: মনে হলো যেনো হাজার হাজার মৌমাছি আমার মুখে উপর হুল বসিয়ে যাচ্ছে। আমি খালি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম, আমাকে রক্ষা করো!রইসের মাথাতেও লাগে গুলি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেঁচে যান।

২০০৯ সালে মায়ের সাথে হজে যান রইস। এই সময়ই বদলে যায় তার দৃষ্টিভঙ্গি। সেখানেই ইসলামের একটি শিক্ষা তাকে বদলে দেয়। রইস বলেন, ইসলাম বলে, একজনের জীবন বাঁচানো মানে গোটা মানবজাতির জীবন বাঁচানো।

মনে হলো যেনো হাজার হাজার মৌমাছি আমার মুখে উপর হুল বসিয়ে যাচ্ছে।
মনে হলো যেনো হাজার হাজার মৌমাছি আমার মুখে উপর হুল বসিয়ে যাচ্ছে।

এরপর রইস যা করেন তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ওই দিকে তার সেই হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মার্ক স্ট্রম্যানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়ে গেছে। এবার রইস তার দণ্ড মওকুফের জন্য রাত-দিন খাটতে লাগলেন। হামলাকারী আর হামলার শিকার দুজনে হয়ে গেলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

রইস এখন ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেইট’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, তার সংগঠন মানুষকে দয়া ও ক্ষমার শক্তি বুঝাতে কাজ করে যাচ্ছে। তার এই দর্শনের ভিত্তি হলো, চাইলেই আমরা এই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করতে পারি। এমন একটি বিশ্ব গড়তে পারি যেখানে নেই কোনো সহিংসতা, কেউ আক্রান্ত হবে না এবং ঘৃণা বলে কিছু থাকবে না।

তথ্যসূত্রঃ বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here