বাধা নেই ডায়াবেটিসেও

দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধি ডায়াবেটিস। অগ্ন্যাশয় থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন নিসৃত না হলে অথবা দেহকোষ ইনসুলিন প্রতিরোধী হয়ে উঠলে ডায়াবেটিস হয়। এ উভয় ক্ষেত্রে শর্করা কোষে যথাযথভাবে সঞ্চিত হতে পারে না, দেখা দেয় গুরুতর জটিলতা। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির একটি বড় অংশ স্থূলতার শিকার। স্থূলতা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হতে পারার অন্যতম কারণ। আদর্শ ওজন রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে। তাই টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যতালিকা ঠিক রাখা খুব প্রয়োজন। যেসব খাবারে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কম ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি, সেগুলো ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো। কারণ এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।

ফলের প্রসঙ্গ এলে ডায়াবেটিক রোগীরা পড়ে যান দ্বিধাদ্বন্দ্বে। রয়েছে নানা রকম প্রচলিত ধারণাও। মিষ্টি ফল হলেই ডায়াবেটিক রোগী খেতে পারবেন না, তা নয়। লক্ষ রাখতে হবে পরিমিত পরিমাণের দিকে। কিছু ফল রয়েছে, যেগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। রয়েছে উচ্চমানের ফাইবার। হিসাব মতো খেলে স্থূলতা ও রক্তে অতিমাত্রার শর্করা  উভয়ই রোধ করা সম্ভব।papaya2dপেঁপে: পেঁপেতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফলটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সেরা পছন্দ। শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ডায়াবেটিক রোগীরা আক্রান্ত হতে পারেন হূদরোগে। হতে পারে স্নায়ুর ক্ষতিও। সেদিক থেকে পেঁপে কোষের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করে ও সুরক্ষিত রাখে দীর্ঘদিন।

15_263359

পেয়ারা: স্ন্যাকস হিসেবে ফলটি তুলনাহীন। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

tormujbg320160320191809

তরমুজ: অনেক ডায়াবেটিক রোগী প্রিয় ফলের তালিকা থেকে তরমুজের নাম কেটে দেন। কারণ প্রচলিত ধারণা মতে, এটি চিনিবহুল ফল। জেনে নিন, লাল-সবুজ এ ফলটি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের কিডনির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে। কিডনির কার্যপ্রণালি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল তরমুজ। লাইকোপেন থাকায় এটি ডায়াবেটিক রোগীদের স্নায়ুর ক্ষতি হতে দেয় না।

05-1451979923-05-1451965391-pomegranate

বেদানা: বেদানায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফ্রি রেডিক্যালস ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থেকে শরীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এ ফলটি। লাল হীরের মতো দানাদার ফলটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানে পূর্ণ।

image_24938

আপেল: আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন আপেলকে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাসকারী ফল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দিনে একটি আপেল খেয়ে ডায়াবেটিসকে রাখুন আপনার কাছ থেকে বহু ক্রোশ দূরে।

1324-thumbnail

 

স্ট্রবেরি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ফল স্ট্রবেরি। এতে জিআইয়ের পরিমাণ খুব কম। ক্যানসার প্রতিরোধক মিষ্টি এ ফলটি বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি সাধন করে ও ওজন হ্রাস করে।

320160411025524

সাইট্রাস ফল: ডায়াবেটিসে সাইট্রাস ফল খেতে বাধা নেই। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে বলে কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা, লেবু ইত্যাদি শরীরে রোগ প্রতিরোধ করায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

angur20160124102846

আঙুর: আঙুরে রয়েছে রেসভেরাট্রল নামক এক প্রকার ফাইটোকেমিক্যাল। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে আঙুর মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্যও উপাদেয়।

cherry

চেরি: চেরির অ্যান্থোসায়ানিন নামক উপাদান কোষে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ইনসুলিন উৎপাদন করে। ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় অ্যান্থোসায়ানিন অদূর ভবিষ্যতে বড় স্থান করে নেবে। সেদিন খুব দূরেও নয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর স্বাস্থ্যকর ডায়েটে থাকতেই পারে টুকটুকে লাল চেরি।

টিপস: মৌসুমি ফল খান। কারণ যে মৌসুমে যে ফল ফলে, তা ওই মৌসুমের রোগবালাই প্রতিরোধে শরীরকে তৈরি করে।

জিআই কম রয়েছে এমন ফল খান।

মূল খাবারের সঙ্গে বা পরে ফল খাওয়া উচিত নয়। সকাল ও দুপুরের খাবারের মাঝে অথবা দুপুর ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে ফল খাওয়া উচিত।

হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল পরিমিত পরিমাণেই খাওয়া নিরাপদ।

গ্লাইসেমিক লোড ব্যালান্স করতে ফলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ বাদাম ও কয়েকটি জলপাই খেতে পারেন।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কাটা ফলের ওপর এক চিমটি দারচিনি গুঁড়ো ছড়িয়ে খান।

ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়া উত্তম। রস করলে ফলের মধ্যকার ফাইবার ভেঙে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here