বাবা-মা হলে দীর্ঘজীবী হওয়া যায়!

0
270
সন্তান নিলে আয়ু বৃদ্ধি পায়

সন্তান ধারণ করা নিয়ে বাবা-মা থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের চিন্তার কোন শেষ নেই। বিশেষত সন্তান লালন-পালন করতে অনেক সময় লাগে বলে বেশিরভাগ কর্মজীবী দম্পতিই সন্তান নেয়ার আগে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকেন। কিন্তু সন্তান নিলে আয়ু বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছে সুইডেনের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা। 

গবেষকেরা জেনেছেন যে, পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে যাদের সন্তান ছিল তারা দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন যারা নিঃসন্তান ছিলেন তাদের তুলনায়। গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন যে, ৬০ বছর বয়সের পুরুষদের মধ্যে যাদের সন্তান আছে তারা ২০ বছর বেশি বেঁচে ছিলেন, যাদের সন্তান নেই তারা ১৮.৪ বছর বেশি বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে যাদের সন্তান ছিল তারা ২৪.৬ বছর বেশি বেঁচে ছিলেন, যেখানে সন্তান ছিলো না যে নারীদের তারা ২৩.১ বছর বেশি বেঁচে ছিলেন।   

সন্তানেরা তাদের পিতামাতাকে যে সামাজিক সহযোগিতা দেয় তার কারণেই তারা দীর্ঘায়ু লাভ করেন
সন্তানেরা তাদের পিতামাতাকে যে সামাজিক সহযোগিতা দেয় তার কারণেই তারা দীর্ঘায়ু লাভ করেন

গবেষকেরা বলেন, এই উদ্ভাবনে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সন্তানেরা তাদের পিতামাতাকে যে সামাজিক সহযোগিতা দেয় তার কারণেই তারা দীর্ঘায়ু লাভ করেন। গবেষকদের মতে, পূর্ববর্তী গবেষণায় পিতৃত্ব/মাতৃত্ব এবং দীর্ঘজীবনের সাথে সম্পর্ক দেখানো হয়েছিলো, কিন্তু খুব কম গবেষণাতেই ৬০ এর বেশি বয়সের মানুষদের উপর এই সংযোগের পরীক্ষাটি করা হয়নি।

নতুন গবেষণায় গবেষকেরা ৭ লক্ষের ও বেশি পুরুষ এবং ৭ লক্ষ ২৫ হাজার এর ও বেশি নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেন যারা সুইডেনে বাস করতেন ১৯১১ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত। অংশগ্রহণকারীদের ৬০ বছর বয়স থেকে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত বা ২০১৪ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশের একটি করে সন্তান ছিলো। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বয়সের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছিলো। তাদের শিক্ষার বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখা হয়। গবেষকেরা দেখেন যে, যাদের অন্তত একটি সন্তান ছিলো যাদের মৃত্যুর ঝুঁকি যাদের সন্তান  ছিলোনা তাদের তুলনায় কম ছিলো। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ৮০ বছরের মানুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১ বছরে ৭.৪ শতাংশ ছিলো, যাদের সন্তান ছিলো না তাদের এই ঝুঁকি ছিলো ৮.৩ শতাংশ।

গবেষকেরা বলেন, মৃত্যুর ঝুঁকির এই ব্যবধানটি বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি হয়ে থাকে। যদিও গবেষকেরা অন্য সম্ভাব্য কারণেকেও বাতিল করে দিতে পারেন নি। পিতামাতার ক্ষেত্রে এটি করা সম্ভব হয় কারণ তারা স্বাস্থ্যকর অনুশীলন করতে পারেন যারা পিতামাতা হননি তাদের তুলনায়। গবেষণাটি এপিডেমিওলজি এন্ড কমিউনিটি হেলথ নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সাইন্স 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here