বিচিত্র স্বাদের চায়ের আতিথেয়তা বিশ্বজুড়ে!

শুধু ভারতীয় উপমহাদেশের কথা তুলতে গেলে ভুল হবে, চায়ের জনপ্রিয়তা এখন সারা বিশ্বে। অঞ্চলভেদে এর ধরন, বানানোর পদ্ধতি ও উপস্থাপন আলাদা।

চা। প্রাত্যহিক জীবনে চা একটি অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। বিশ্বজুড়ে বিচিত্র স্বাদের চায়ের ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। যার নাম শুনেই মনে জাগে প্রশান্তি। এক চুমুকেই মিলিয়ে যায় দেহ-মনের সব ক্লান্তি। ক্লান্তি দূর ও অভ্যাস সবকিছু এক পাশে রেখে চাকে বলা চলে আনুষ্ঠানিকতা, সামাজিকতা ও আপ্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশের কথা তুলতে গেলে ভুল হবে, চায়ের জনপ্রিয়তা এখন সারা বিশ্বে। অঞ্চলভেদে এর ধরন, বানানোর পদ্ধতি ও উপস্থাপন আলাদা। তবে যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতিথেয়তায় ঘরকন্নার হেঁশেলে তৈরি হয়ে আসছে চা।

ভারতে মসলা চায়ের চাহিদা বেশি।
ভারতে মসলা চায়ের চাহিদা বেশি।

বাংলাদেশ ও ভারতের কথা দিয়ে যদি শুরু করা হয়, তাহলে দিনের শুরু ও শেষবেলা দুটোতেই চা উষ্ণতা ছড়িয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা গুরুগম্ভীর আলোচনা, চা তো চাই-ই! আমাদের দেশে দুধ চায়ের জনপ্রিয়তা বেশ। তবে শুধু পাতা দিয়ে তৈরি রঙ চাও খাওয়া হয় হরহামেশা। ভারতে মসলা চায়ের চাহিদা বেশি। চায়ের জলে দারচিনি, আদা, রসুন, লবঙ্গ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয় মসলাদার চা।

চীনে রয়েছে চা নিয়ে একটি আলাদা উৎসব। যার নাম চেই। সম্মান ও কৃতজ্ঞতাবোধের  প্রতীক এ উৎসব পারিবারিক মিলনের অন্যতম একটি সুযোগ। চীনারা মনে করে, বেঁচে থাকার সাতটি চাহিদার মধ্যে চা অন্যতম একটি। সে দেশে গ্রিন, ব্ল্যাক ও সুগন্ধি চা সবচেয়ে জনপ্রিয়।

জাপানেও চা নিয়ে একটি অনুষ্ঠান পালিত হয়। একে তারা সম্বোধন করে চ্যাডো বা সেডো বলে। এ অনুষ্ঠানে মাটচা নামের এক ধরনের গুঁড়ো সবুজ চা তৈরি হয়। তবে জাপানিদের এ চা অনুষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয় চীনে। গত কয়েকশ বছরে জাপানে এ চা অনুষ্ঠান খুব জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।

গ্রিন, ব্ল্যাক ও সুগন্ধি চা সবচেয়ে জনপ্রিয়।
গ্রিন, ব্ল্যাক ও সুগন্ধি চা সবচেয়ে জনপ্রিয়।

ওলং চায়ের অন্যতম বৃহত্তর উৎপাদনকারী দেশ তাইওয়ান। ওলং চা ছাড়াও তারা পার্ল মিল্ক টি নামক এক প্রকার চা খেতে ভালোবাসে। পার্ল মিল্ক টি তৈরির রীতি আবিষ্কার হয় ১৯৮০ সালে। ঠাণ্ডা চায়ে ফল, দুধ ও এক চামচ সাগুসদৃশ শস্য দিয়ে তৈরি করা হয় এ চা।

ইংল্যান্ডে অনেক আগে থেকেই বিকালে চা পর্ব সারা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সেখানে এ প্রচলন শুরু। চায়ের সঙ্গে টা হিসেবে তারা রাখে কেক ও পাই।

তুর্কিদের সামাজিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ চা। তাদের কাছে এটি ছাড়া আড্ডা যেন চাঁদবিহীন রাতের মতো! অবশ্য চা পানের রীতি একটু আলাদা। গ্লাসে চা ঢেলে চিনির খণ্ড জিহ্বায় রেখে তার পর চুমুক দেয়া হয় দুধবিহীন চায়ে।

সূত্রঃ বণিক র্বাতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here