বিনোদনের জন্য বাড়তি খরচ কিভাবে কমাবেন?

0
243
রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, মোবাইল ফোনে কথা বলা, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া কিংবা শিশুদের খেলনা কিনে দেয়া সবই কিন্তু বিনোদন।

মাসের শুরুতে যে বাজেট প্ল্যান নিয়ে আমরা সামনে আগায় মাসের শেষে সেই প্ল্যানের অনেকটাই গড়বড় হয়ে যায়, আপনি কি তেমন মানুষদের একজন? তাহলে আজকের এই আয়োজনটি বিশেষত আপনার জন্যই, কেননা আপনার বাজেট প্ল্যান তছনছ করে দেয়ার পিছনে মুখ্য ভূমিকা পানল করে বিনোদনের বাড়তি খরচ!

বিনোদন সংক্রান্ত খরচ নিয়ে কিছু বলার আগে বিনোদন বলতে আমরা কি বুঝি সেই ধারনাটি একটু পরিষ্কার করে নেয়া দরকার। শুধু টেলিভিশন দেখা বা ইন্টারনেট চালানোর নামই কিন্তু বিনোদন নয়। রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, মোবাইল ফোনে কথা বলা, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া কিংবা শিশুদের খেলনা কিনে দেয়া সবই কিন্তু বিনোদন। এই বাড়তি খরচ কিভাবে কমাবেন তা জানতে হলে পড়তে হবে পুরো আর্টিকেলটি।

রেস্টুরেন্টে যাওয়ার আগে দরদাম যাচাই করে নিন

কাজের প্রয়োজনে বা বিনোদনের জন্য, কখনও বা সমাজ রক্ষার্থে রেস্টুরেন্টে খেতেই হয়। সেক্ষেত্রে আশেপাশের রেস্টুরেন্টগুলোতে কখন হ্যাপি আওয়ার চলে বা সাপ্তাহিক ডিসকাউন্ট চলে আগে থেকেই তার খোঁজ খবর নিয়ে নিন।

আর বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে মেন্যু বুক দেখে একটি দামি মেইন ডিশের চেয়ে ছোটখাটো কয়েকটি সাইড ডিশ নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

স্যাটেলাইট সার্ভিস নিন দেখে শুনে

ক্যাবল অপারেটররা শ খানি চ্যানেলের অফার দিয়ে তার বিনিময়ে প্রতি মাসে আপনার কাছ ৪০০-৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাবে। আকবর ভেবে দেখুন তো, এই ১০০টি চ্যানেলই কি আপনি দেখেন? উত্তরটা নিশ্চয় না। তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় চ্যানেলগুলোতে সাবস্ক্রাইব করে বিলের পরিমাণ কমিয়ে আনুন অনেকাংশে।

দুটি মুভি দেখতে গিয়ে যদি আপনার ৪০০-৫০০ টাকা চলে যায় তার বদলে ঘরে বসে সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে মুভি দেখাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
দুটি মুভি দেখতে গিয়ে যদি আপনার ৪০০-৫০০ টাকা চলে যায় তার বদলে ঘরে বসে সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে মুভি দেখাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?

খরচ কমান ফোন বিলের

বর্তমান যুগে মুঠোফোন ব্যবহার করেন না এমন মানুষ লাখে একজন খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ! আপনার যাবতীয় কাজ যদি মুঠোফোনেই হে যায় তাহলে বাড়িতে বাড়তি টেলিফোন কানেকশন কেন রাখবেন?

আপনার যদি বিদেষে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন বেশি থাকে আর তাদের সাথে কথা বলার জন্য লং ডিস্টেন্স কলের পিছনে মোটা অংকের বিল চলে যায় তাহলে তার জন্যও রয়েছে সমাধান। ২০০০-৩০০০ টাকা খরচ করে লাগিয়ে নিন একটি রাউটার আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ম্যাসেঞ্জার, ইমো বা ভাইবারে কথা বলুন যতক্ষণ খুশি ততক্ষণ।

ইন্টারনেট ব্যবহারে হন সাশ্রয়ী

এই যুগে ইন্টারনেট ছাড়া চলা যাবে না এ কথা অনস্বীকার্য। তবে তাই বলে প্রতিমাসে ইন্টারনেটের জন্য দু হাত ভরে টাকা উড়ানোর তো কোন মানে নেই। বাড়িতে লাগিয়ে নিন ওইয়াফাই কানেকশন আর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করুন অফুরন্ত ইন্টারনেট। আর বাইরে যেয়ে যদি জরুরী কোন কাজে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় তাহলে ছোটখাটো প্যাকেজ কিনে কাজ চালিয়ে নিন।

মুভি দেখুন বাসায়

অর্থকড়ির যখন টানাটানি চলে তখন বাহুল্য খরচ কমিয়ে আনতে আর বাধা কোথায়? থিয়েটারে গিয়ে মুভি দেখার মজা অনেক বেশি একথা না মানাটা রীতিমতো অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে। তবে দুটি মুভি দেখতে গিয়ে যদি আপনার ৪০০-৫০০ টাকা চলে যায় তার বদলে ঘরে বসে সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে মুভি দেখাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? টাকা হাতে আসলে তো আবার হলে যেয়ে মুভি দেখতে পারবেন। কাজেই খরচ করুন হিসাব করে।

তথ্যসূত্রঃ উইকি হাউ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here