বিব্রতকর সম্পর্ক কিভাবে সামলাবেন?

0
267
সম্পর্কগুলো তখনই বিব্রতকর হতে শুরু করে যখন আপনার উপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন

পথ চলতে চলতে মাঝে মাঝে চিরচেনা সম্পর্কগুলো কেমন যেন বদলে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে হাসিমাখা মুখগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গিয়ে সেখানে ঠাই নেয় রাজ্যের বিষাদ।

পরস্পরকে হেয়প্রতিপন্ন করাই যদি হয় লক্ষ্য; অশ্রদ্ধা, অসম্মানই যদি হয় সম্পর্কের বুনিয়াদ কি করবেন তখন? ভাবছেন সমাধান তো এক কথায় দেয়া যায়, বিদায়!

যুগের পর যুগ ধরে যার সাথে পথ পাড়ি দিয়েছেন এতো সহজে তাঁকে বিদায় বলা যায় না। এই সম্পর্কগুলো কিভাবে সামলানো যেতে পারে তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

মানসিক নির্যাতনের সংকেতগুলোর ব্যাপারে শুরুতেই সতর্ক হনঃ 

সম্পর্কগুলো তখনই বিব্রতকর হতে শুরু করে যখন আপনার উপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা ঠিকমতো বুঝতেই পারি না কোনটা সম্পর্কের অধিকার আর কোনটা নির্যাতনের বিড়ম্বনা। কাজেই চিহ্নিত করুন নির্যাতনের সংকেত।

  • আপনার সঙ্গী বা বন্ধু বা যার সাথে সম্পর্কের তিক্ততা চলছে সে হয়তো আপনার স্বাধীনতাকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখার চেষ্টা করবে।
  • আপনার পরিবার বা ক্যারিয়ার নিয়ে আপনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারে।
  • আর্থিকভাবে আপনাকে ছোট করে রাখতে পারে, প্রতিটি টাকা খরচের জন্য আপনার কাছ থেকে হিসাব নিতে পারে।
  • ফোন, ইমেইল চেক করা, বা কতক্ষণ ফেসবুকে আছেন এই জিনিসগুলো পর্যবেক্ষণ করাও এক ধরণের মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পড়ে।
যখনই আপনার মনে হবে অত্যাচারগুলো সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তখন বাইরে থেকে ঘুরে আসুন, বড় করে শ্বাস নিন বা ঐ প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসুন
যখনই আপনার মনে হবে অত্যাচারগুলো সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তখন বাইরে থেকে ঘুরে আসুন, বড় করে শ্বাস নিন বা ঐ প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসুন

নিজের অধিকার সম্পর্কে জানুন

আপনার অধিকার আছে যেকোনো সম্পর্কে মর্যাদা পাওয়ার, শ্রদ্ধা পাওয়ার। কোন রিলেশনশিপ আপনি আর চালিয়ে নিয়ে চান কিনা যথাযথ যুক্তি সহকারে তা নির্ধারণ করার অধিকারও আপনার আছে। নিজের মতামত দেয়ার, নিজের মতো থাকার, অপরপক্ষ থেকে সৎ উত্তর আশা করার অধিকার আপনার আছে। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন এবং মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন এটি বুঝতে পারার সাথে সাথেই নিজের ব্যাপারে সতর্ক হন।

বোঝার চেষ্টা করুন, আপনি আপনার সঙ্গীকে বদলাতে পারবেন না

আপনার সঙ্গী আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে বা আঘাত দিচ্ছে এটি কোনভাবেই আপনার দোষ নয়। তাদের অন্যায় কোনভাবেই সমবেদনার দাবিদার নয়, তবে অন্যায়কারী কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সমবেদয়ান পেতে পারে যদি সে সত্যিই না বুঝে এ ধরণের কাজ করে থাকে থাহলে।

তবে একটি কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে আপনি কখনই একটি মানুষকে আপাদমস্তক বদলে দিতে পারবেন না। কাজেই তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি তাকে দয়া করছেন। আপনার সেই মানুষটির সাথে থাকতে ভালো লাগছে বলেই আপনি আছেন। যখন দেখবেন নির্যাতন বা এ জাতীয় ব্যাপারগুলো সহ্যের সীমা অতিক্রম করছে, তখনই বেরিয়ে আসুন সে সম্পর্ক থেকে।

প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করবেন না

উত্যক্তকারি ব্যক্তিরা বেশ ভালো করে আপনার মাথার মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। এবং তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটি করবে আপনাকে দুমড়ে- মুচড়ে ভেঙে ফেলার। এমন ব্যক্তিদের কোন ধরণের অপমান, হুমকি বা ধিক্কারের প্রতিশোধ নিতে যাবেন না। মনে রাখবেন, কুকুর মানুষকে কামড়ালেও প্রতি উত্তরে মানুষ কুকুরকে কামড়ায় না।

যখনই আপনার মনে হবে অত্যাচারগুলো সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তখন বাইরে থেকে ঘুরে আসুন, বড় করে শ্বাস নিন বা ঐ প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসুন।

বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চান

আপনার সঙ্গী বা বন্ধু যার দ্বারাই আপনি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন না কেন, তার মর্যাদার প্রতি দৃষ্টি রাখা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। কাজেই তার ব্যাপারে কারও কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তার পরিচয় যেন পরিবার বা বন্ধু মহলের বাইরে না ছড়ায় তা নিশ্চিত করুন।

আর হাতের কাছে সবসময় ফোন বা ইন্টারনেট অ্যাক্সেস রাখুন। বিপদের হুমকি আছে মনে হওয়ার সাথে সাথেই কাছে থাকে এমন বিশ্বস্ত কোন মানুষের সাহায্য নিতে পারেন।

সবশেষে শুধু একটি কথাই বলব, আপনার যদি মনে হয় সম্পর্ক বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কোন ফল হয়নি বরং মুহুর্মুহু আপনাকে মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তাহলে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে আসুন সে সম্পর্ক থেকে।

তথ্যসূত্রঃ উইকি হাউ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here