ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য অর্জন করুন এই ৫টি লক্ষ্যমাত্রা

0
252
আপনার চালচলন, হাবভাব, কথাবার্তায় আনুন উৎকর্ষতা
নিজের যাত্রাপথ সম্পর্কে সচেতন হতে চাইলে আপনি এই ৫টি লক্ষ্যমাত্রাকে অনুসরণ করতে পারেন, যা আপনাকে সামনে আরো উদ্যমী করে তুলবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে।

অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন না
অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে হা-হুতাশ করে কেউই জীবনে সফল হয়নি। আপনি যতই আপনার অতীতের সমস্যার বা ব্যর্থতার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন, ততই আপনার মাঝে একটা আলাদা শূন্যতা তৈরি হবে। এ শূন্যতার জায়গা যত বড় হবে, ততই আপনি আপনার উপর খেই হারিয়ে ফেলবেন। দুঃসহ অতীত আমাদের কোনো সময় বাঁচার শক্তি দেয়নি আর আপনিও এই বলয়ের বাইরের কেউ নন। আপনি শিখে নিন কিভাবে ঝড়-ঝঞ্ঝাকে সমূলে বিনষ্ট করে বাস্তবে বসবাস করা আর ভবিষ্যতে দৃষ্টি রাখা যায় সেই কৌশল। ভবিষ্যতের সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের জন্যই অতীতের বলয় থেকে বেরিয়ে আসুন।

আরও বেশি বই পড়ুন

বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বই পড়েও ঠিক তেমনি। আবার বই কিনে ফেলে রাখাও চলবে না। বই পড়লে আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। এটির অন্য কোনো বিকল্প নেই। বই আপনার চেতনার প্রসার ঘটায় এবং সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি জাগ্রত করে। এভাবে এটি আপনার ব্যক্তি-চরিত্রের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি আপনাকে প্রতিটি বিষয়বস্তুকে নিয়ে আলাদাভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে দেয়। পৃথিবীতে যত বড় বড় উদ্যাক্তা, সফল ব্যক্তিত্ব রয়েছেন তাদের রোজকার রুটিনে বই ছিলো একটি উপাদেয় খাবারের মতন, যা ঘন্টার পর ঘন্টা গোগ্রাসে গিললেও কোথাও যেন একটা ফাঁকা ফাঁকা অনুভব হয়। অতএব বই, বই এবং বই। আর একটি বই-ই পারবে আপনার আত্মবিশ্বাস ও আত্ম-উন্নয়নের পথে সবসময়ের সঙ্গী হতে।

শরীরী ভাষা উন্নত করুন

শরীরী ভাষা অথবা অমৌখিক যোগাযোগের মাধ্যমেই মানুষের সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ঘটে। সায়েন্টিফিক্যালি এই ব্যাপারটি মানসিক দিক দিয়ে অনেকাংশে প্রভাব ফেলে। বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমেই মানুষ আপনাকে প্রাথমিকভাবে বিচার করে। আপনি নিজেকে নিয়ে কতটুকু উদ্যমী, কতটুকু নির্ভরশীল সেটা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনার বডি ল্যাংগুয়েজের উপর। শারীরিক ঋজুতা বজায় রাখুন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শান্ত থাকুন। আপনার চালচলন, হাবভাব, কথাবার্তায় আনুন উৎকর্ষতা; দেখবেন আপনাকে আপনার ব্র্যান্ডিং করতে হবে না, মানুষই আপনার ব্র্যান্ডিং করে দিবে।

ভবিষ্যতের সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের জন্যই অতীতের বলয় থেকে বেরিয়ে আসুন
ভবিষ্যতের সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের জন্যই অতীতের বলয় থেকে বেরিয়ে আসুন

আপনার অগ্রাধিকার স্থির করুন

আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিন। ঝামেলা এড়ানোর জন্য এগুলোতে ক্রমানুসারে বিবেচনা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে গুরুত্ব অনুসারে কাজের তালিকা নির্ধারণ করে ফেলুন। যে কাজটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি আগে করুন। দিনের কাজের শুরুতেই যদি কাজের গুরুত্বানুযায়ী বিন্যাস করে ফেলতে পারেন, তাহলে সারাদিনের কাজের চাপের অনেকটাই কমে যাবে। এতে আপনার আত্মোন্নয়নের পথ অনেকটাই সুগম হবে।

আরও প্রাণবন্ত থাকুন

জীবনের কঠিন যাত্রাপথ নিরাপদে পাড়ি দিতে নিজের প্রাণবন্ততা খুবই প্রয়োজনীয়। সাফল্য অর্জনের জন্য যন্ত্রের মতো নিরবচ্ছিন্ন কাজ না করে একটু বিরতি, যেমন বাইরে নির্মল পরিবেশে একটু ঘোরাঘুরি করা বা বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা খুবই প্রয়োজন। এটি বিনোদনের পাশাপাশি আমাদের মানসিক চাপ কমিয়ে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। ব্যর্থতার হতাশা যখন আপনাকে ঘিরে ধরবে, স্বতঃস্ফূর্ততাই হবে আপনার বড় শক্তি।

তথ্যসূত্রঃ সাকসেস ডট কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here