ভেষজস্নানে হয়ে উঠুন প্রাণবন্ত। 

নিজেকে সময় দেয়ার একটি চমৎকার উপায় হলো হারবাল বাথ বা ভেষজস্নান, যা শুধু আপনাকে উজ্জীবিতই করবে না বরং আপনার শরীরের সব ক্লান্তি দূর করে আপনাকে করে তুলবে সতেজ, ঝরঝরে। কেননা ইদানীং আমাদের জীবন হয়ে উঠেছে অত্যন্ত যান্ত্রিক। শত ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা হয়তো ভুলেই যাই নিজেদের ভালোলাগাটুকু। এই ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি চমৎকার ভেষজস্নান আপনাকে মুহূর্তের মধ্যে করে তুলবে প্রাণবন্ত।

হারবাল বাথ বা ভেষজস্নান শুধু আপনার মানসিক অবসাদই দূর করে না, এর অন্যান্য গুণাবলি আপনার শারীরিক বিভিন্ন অসুবিধা যেমন_ ইনসমনিয়া, ব্যথা-বেদনা, চামড়ার অসুখ এসব সারাতেও সাহায্য করে। কারণ ভেষজস্নানে যেসব উপকরণ দেয়া হয়, তাদের প্রতিটিরই কিছু বিশেষ গুণাবলি আছে। এসব উপাদান আপনাকে শুধু রিলাক্সই করবে না, এর ঔষধি গুণাগুণ আপনাকে করে তুলবে রোগমুক্ত।

পার্লারে যাওয়ার সময় নেই? কিছু ব্যাপার খেয়াল রেখে আপনি সহজেই বাড়িতে করতে পারেন ভেষজস্নানের আয়োজন। পানির তাপমাত্রা ভেষজস্নানের উপকরণ, ত্বকের ধরন ইত্যাদি মাথায় রেখে স্নানের আয়োজন শুরু করতে হবে।

ভেষজস্নানের নিয়ম হলো_ বাথটাবে ফুটন্ত গরম পানিতে ফুলের পাপড়ি, দুধ, ওটমিল, বাথসল্ট, বিভিন্ন সুগন্ধি তেল, ল্যাভেন্ডার, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদি মিশিয়ে স্নানের উপযোগী করে তোলা। এরপর ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে কুসুম গরম তাপমাত্রায় এনে তাতে বেশ অনেকক্ষণ শুয়ে থাকতে হবে।

এখানে এমন দুটি ভেষজস্নানের প্রণালি দেয়া হলো যা ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এনে দেবে কোমলতা। শরীরের মরা চামড়া দূর করে আপনাকে দেবে চকচকে এবং উজ্জ্বল ত্বক। সঙ্গে জোগাবে পুষ্টি এবং আর্দ্রতা।
দুধস্নান
উপকরণ : গুঁড়া দুধ ১ কাপ, মধু ২ টেবিল চামচ, গোলাপজল ৪ টেবিল চামচ, গোলাপের পাপড়ি ২টি।
প্রণালি : বাথটাবে ফুটন্ত পানি নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ। পানির তাপমাত্রা সহনীয় হয়ে এলে শুয়ে থাকুন কমপক্ষে ২০ মিনিট। বের হয়ে ঠান্ডা পানিতে গা ধুয়ে নিন।
ফুলেল স্নান
উপকরণ : গোলাপ ফুল ৪টি, লেবু ১টি, কমলালেবুর খোসা ১টি, আদা ১ ইঞ্চি, বেলী ফুলের মালা চারটি, বাথসল্ট ১ কাপ।
প্রণালি : একটি পাতলা কাপড় নিন। এর মধ্যে সব উপকরণ একসঙ্গে বেঁধে নিয়ে বাথটাবে রাখুন। অনেকটা ফুটন্ত গরম পানি নিন। রেখে দিন কমপক্ষে ১ ঘণ্টা। পানির তাপমাত্রা সহনীয় হয়ে এলে স্নান করে নিন। এরপর আর নতুন করে শরীর ধুয়ে নেয়ার প্রয়োজন নেই।
ব্যস আপনি রেডি চমৎকার একটি ভেষজস্নানের জন্য। যদি রাতের বেলা স্নান করতে চান তবে বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে মোমের আলো জ্বেলে দিতে পারেন। চেষ্টা করুন পছন্দের কোনো মিষ্টি সুরের গান শুনতে। দিনের বেলা হলে বই পড়তে পারেন। খুব ভালো হয় যদি চোখ বুজে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নেন। দেখবেন ক্লান্তি কেটে গিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ ঝরঝরে লাগছে। আর হ্যাঁ, একমাত্র নিজেকেই কিছু সময়ের জন্য প্রশান্তি দিতে চাইলে মোবাইলটার সুইচ অফ করতে ভুলবেন না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here